নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে। তার অর্জিত সম্পদ ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের তথ্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৩/সি আসাদ এভিনিউ এলাকায় প্রায় ২২০০ বর্গফুট আয়তনের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে জুবায়ের বিন হায়দারের নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় জমি এবং রাজধানীর পূর্বাচলে প্রায় ২০ কাঠা প্লট থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তার বেতন-ভাতা ও পরিচিত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে এসব সম্পদের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, সার্কেল-৩ এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার ও ক্রয় কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করতেন জুবায়ের বিন হায়দার। অভিযোগ রয়েছে, ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দিয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং সরঞ্জাম সরবরাহে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং ব্যয় সংক্রান্ত নথিপত্রেও অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয় ও সম্পদের মধ্যে অস্বাভাবিক অসংগতি পাওয়া গেলে কমিশন আইন অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।