বিস্ফোরক সব তথ্যসহ দুদকে অভিযোগে | প্রথম পর্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন Janata Bank PLC ও Probashi Kallyan Bank-এ ভয়াবহ অনিয়ম, আর্থিক ক্ষতি, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবর রহমান-এর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে একটি লিখিত আবেদন।

অভিযোগকারীর দাবি, মজিবর রহমানের নেতৃত্বে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক জনতা ব্যাংক এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, জনতা ব্যাংকে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে এমডি থাকাকালে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন মজিবর রহমান। বিশেষ করে ২০১৭-১৮ সালের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই ২০২৩ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তা বাদ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, ভুয়া রেকর্ড তৈরি এবং সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ঘনিষ্ঠ ও অদক্ষ ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। এতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, হয়রানিমূলক বদলি থেকে রক্ষা পেতে অনেক কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়েছে। এমনকি বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে এমডির এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সক্রিয়ভাবে জড়িত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একটি ফায়ার ইন্স্যুরেন্স প্রকল্প নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, Orion Pharma-র একটি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ওই প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, খেলাপি ঋণ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ ও ব্যক্তিগত প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য গ্রাহকদের পুনঃতফসিলে গড়িমসির কারণে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণও বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনতা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মজিবর রহমান-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। “পরবর্তী পর্বে” থাকছে বদলি বাণিজ্য, কমিশন সিন্ডিকেট ও বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে আরও বিস্ফোরক তথ্য।