নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে বিএনপির রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন ঘিরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম সামনে আসছে। তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা থেকে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ।
দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা আসমা আজিজ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার দৃঢ় আনুগত্য দলীয় মহলেও ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয় বলে জানা যায়। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলারও মুখোমুখি হয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা কিংবা রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আসমা আজিজ নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন। আন্দোলন সংগ্রামের এই সময়ে বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ নানা অভিযোগে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
পারিবারিকভাবেও আসমা আজিজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা আব্দুল আজিজ বিএসসি বরগুনার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বরগুনা জেলা ‘জাগো দল’-এর সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। সেই পারিবারিক পরিবেশেই তিনি রাজনীতির আদর্শে বেড়ে ওঠেন। স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচিতি তাকে তৃণমূলের রাজনীতিতে সক্রিয় করে তোলে।
বরগুনার স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, আসমা আজিজ শুধু একজন আইনজীবী বা রাজনীতিক নন, বরং দলীয় সংকট ও আন্দোলনের সময়ে কর্মীদের পাশে থাকা একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। তাদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে দল যদি ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করে, তবে আসমা আজিজের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ বলেন, দলের কঠিন সময়ে সবসময় রাজপথে থেকেছি এবং আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি। কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির আশায় নয়, বরং জিয়া পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই রাজনীতি করে যাচ্ছি। ছাত্রদল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে মূলধারার রাজনীতিতে কাজ করেছি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে, তবে বরগুনার মানুষের অধিকার রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।