বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন মূসক বাস্তবায়ন সেবা ও পণ্য শাখার একজন প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ঘিরে সম্পদ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রুহুল আমিন নামের ওই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি উঠেছে। এসব সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। মূলত সেসময় দুর্নীতি ও লুটপাটের অংশ হয়ে উঠেছিলেন এই রুহুল আমিন।

উক্ত কর্মকর্তার সম্পদ অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সরকারি বেতন ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে তার দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত নথি ও মৌখিক তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তার এবং তার পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
রাজধানীর একটি অভিজাত আবাসিক এলাকায় তার নামে একটি আলিশান ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। একই সঙ্গে ঢাকার উপকণ্ঠে একটি মৌজায় জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় সদর উপজেলায় একাধিক জোতে জমি ক্রয়ের নথিও রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব জমি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
শুধু তার নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের একটি মৌজায় কয়েক শতাংশ জমি এবং একই উত্তরাঞ্চলীয় জেলায় আরও একটি বড় আকারের জমির মালিকানা স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে দুটি প্লটে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। জমির পরিমাণ ১৪ শতক। সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্ট অনুসন্ধানকারী সূত্রের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও মিলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআর এর একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিনিময়ে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
এদিকে সূত্র জানায়, সম্পদের প্রকৃত উৎস যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাজস্ব বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নজরদারি শাখার সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।