জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম (Nationalist Journalists’ Forum – NJF) হলো বাংলাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের একটি সংগঠন, যারা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে কলম ধরেন।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট:
জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম গঠিত হয় মূলত ১৯৯০-এর দশকে, বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের একত্রিত করে একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে। এর উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্বাধীন সাংবাদিকতা, পেশাগত অধিকার রক্ষা ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ তুলে ধরা।
উৎপত্তির পেছনে কারণ:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠনের ইতিহাস বেশ পুরনো। একদিকে যখন আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকরা ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শিরোনামে একধরনের সাংগঠনিক প্রভাব তৈরি করে, তখন বিএনপি-ঘনিষ্ঠরা নিজেদের জায়গা তৈরি করতে থাকেন ‘জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম’ ব্যানারে। এই ফোরামের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বাধীন মত প্রকাশ রক্ষায় তারা জাতীয়তাবাদী দর্শনের ধারক ও বাহক।
মূল লক্ষ্য ও কার্যক্রম:
১. সংবাদের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা।
২. জাতীয়তাবাদী চেতনাভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠিত করা।
৩. সরকারি নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
৪. বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মকাণ্ড মিডিয়ায় তুলে ধরা।
৫. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত অধিকার ও ন্যায্য সম্মান আদায়ে কাজ করা।
নির্যাতনের ইতিহাস ও ভূমিকা:
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বহুবার এই সংগঠনের সদস্যরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ সংবাদ প্রতিষ্ঠানে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়েছেন, কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিবেদনের কারণে।
বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনপূর্ব সময় থেকে ২০২৪ পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি, হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির প্রতিবাদে এই ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ ও মতপ্রকাশের দমননীতি প্রতিহত করতে নিয়মিত বিবৃতি, প্রতিবাদ, সংবাদ সম্মেলন ও সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম কেবল একটি সাংবাদিক সংগঠন নয়; এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতীক। স্বাধীন চিন্তা ও সাংবাদিকতার উপর বারবার আঘাত এসেছে, কিন্তু এই সংগঠন এখনও অবিচলভাবে তাদের লক্ষ্য ও বিশ্বাসে অটল রয়েছে।