ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




তাহার ক্ষমতার উৎস কোথায়?

নিয়োগ ছাড়াই যমুনা লাইফে বহাল তবিয়তে কামরুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুর করার পরও তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এতে বীমা কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অযোগ্য হওয়ার পরও কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের আবেদন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবিবেচনা প্রসূত। এতে বীমা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।

জানা গেছে, কামরুল হাসান খন্দকারের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সমতাকরণ ও বৈধতার প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করা এবং দাখিল করা শিক্ষাসনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৯ মার্চ বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই নিয়োগ না-মঞ্জুর করে।

কর্তৃপক্ষের পরিচালক (উপসচিব) আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কামরুল হাসান খন্দকারকে পদ থেকে সরানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগের অনুমোদন নিতে ‘ভিন্ন পন্থা’ খোঁজা হচ্ছে।

তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কামরুল হাসানের নিয়োগ আবেদন না-মঞ্জুরের পর আইডিআরএ তা রিভিউয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

আইডিআরএ’র চিঠিতে বলা হয়েছে, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান খন্দকার তার বিদেশি এমবিএ ডিগ্রির মান সংশোধিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা-২০১২ এর (৩)(ক) অনুযায়ী সমতাকরণ করেননি।

তাছাড়াও পরবর্তীতে দাখিলকৃত তার ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুটি সনদপত্রের বৈধতার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

উল্লেখিত দুটি কারণে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কামরুল হাসানের নিয়োগ নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুর করা হয়েছে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসানের নিয়োগ নবায়নের আবেদন করা হয় ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর। ওই আবেদনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয় ভারতের উত্তর প্রদেশের ডিমড ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০২ সালে দূরশিক্ষণে এমবিএ পাস।

 

এই আবেদনের ২৯ দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর আইডিআরএ’কে পাঠানো একটি চিঠিতে কামরুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুটি সনদ দাখিল করা হয় এবং সেগুলো তার আবেদনে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র অনুসারে কামরুল হাসান খন্দকার বিএসএস পাস করেছেন ২০১৯ সালে এবং এমবিএ পাস করেন ২০২১ সালে।

পরবর্তীতে কামরুল হাসানের বিদেশি এমবিএ ডিগ্রির মান সমতাকরণ এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির বৈধতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে বলে আইডিআরএ।

তবে কামরুল হাসান তার বিদেশি ডিগ্রির মান সমতাকরণ বা ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দু’টির বৈধতার বিষয়ে কোনো প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

এদিকে আইডিআরএ কামরুল হাসানের ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার এখলাছুর রহমান গত ২১ জানুয়ারি আইডিআরএকে জানায় কামরুল হাসান খন্দকারের দুটি সনদই ফেক (ভুয়া)।

নিয়োগ আবেদন না-মঞ্জুরের পরও দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আইনসিদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আইডিআরএ কারো নিয়োগ না-মঞ্জুর করলে তার সিইও পদে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বোর্ড ভেঙে আইডিআরএ প্রশাসকও বসাতে পারে। তবে বোর্ড যদি এই নিয়োগ মঞ্জুরের জন্য আপিল করে তা হলে ভিন্ন কথা।

বিষয়টি জানতে কামরুল হাসান খন্দকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও সাড়া মেলেনি।

নিয়োগ না-মঞ্জুরের পরও কামরুল হাসান খন্দকারকে পদে বহাল রাখার বিষয়ে যমুনা লাইফের চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ না-মঞ্জুরের পর আমরা আইডিআরএ রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছি। তারা রিভিউ করছে। তাদের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিয়োগ না-মঞ্জুরের পরও সিইও’র দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার বিষয়ে আইডিআরএর মুখপাত্র ও পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কর্তৃপক্ষ কারো নিয়োগ না-মঞ্জুরের পর সিইও হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। এতে গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। এটা আইন পরিপন্থী। বিষয়টি আমরা দেখবো।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




তাহার ক্ষমতার উৎস কোথায়?

নিয়োগ ছাড়াই যমুনা লাইফে বহাল তবিয়তে কামরুল

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুর করার পরও তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এতে বীমা কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অযোগ্য হওয়ার পরও কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের আবেদন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবিবেচনা প্রসূত। এতে বীমা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।

জানা গেছে, কামরুল হাসান খন্দকারের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সমতাকরণ ও বৈধতার প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করা এবং দাখিল করা শিক্ষাসনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৯ মার্চ বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এই নিয়োগ না-মঞ্জুর করে।

কর্তৃপক্ষের পরিচালক (উপসচিব) আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কামরুল হাসান খন্দকারকে পদ থেকে সরানো হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগের অনুমোদন নিতে ‘ভিন্ন পন্থা’ খোঁজা হচ্ছে।

তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কামরুল হাসানের নিয়োগ আবেদন না-মঞ্জুরের পর আইডিআরএ তা রিভিউয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

আইডিআরএ’র চিঠিতে বলা হয়েছে, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান খন্দকার তার বিদেশি এমবিএ ডিগ্রির মান সংশোধিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা-২০১২ এর (৩)(ক) অনুযায়ী সমতাকরণ করেননি।

তাছাড়াও পরবর্তীতে দাখিলকৃত তার ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুটি সনদপত্রের বৈধতার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

উল্লেখিত দুটি কারণে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কামরুল হাসানের নিয়োগ নবায়নের আবেদন না-মঞ্জুর করা হয়েছে।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসানের নিয়োগ নবায়নের আবেদন করা হয় ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর। ওই আবেদনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয় ভারতের উত্তর প্রদেশের ডিমড ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০২ সালে দূরশিক্ষণে এমবিএ পাস।

 

এই আবেদনের ২৯ দিন পর গত ৬ ডিসেম্বর আইডিআরএ’কে পাঠানো একটি চিঠিতে কামরুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুটি সনদ দাখিল করা হয় এবং সেগুলো তার আবেদনে যুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র অনুসারে কামরুল হাসান খন্দকার বিএসএস পাস করেছেন ২০১৯ সালে এবং এমবিএ পাস করেন ২০২১ সালে।

পরবর্তীতে কামরুল হাসানের বিদেশি এমবিএ ডিগ্রির মান সমতাকরণ এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির বৈধতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে বলে আইডিআরএ।

তবে কামরুল হাসান তার বিদেশি ডিগ্রির মান সমতাকরণ বা ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দু’টির বৈধতার বিষয়ে কোনো প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।

এদিকে আইডিআরএ কামরুল হাসানের ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার এখলাছুর রহমান গত ২১ জানুয়ারি আইডিআরএকে জানায় কামরুল হাসান খন্দকারের দুটি সনদই ফেক (ভুয়া)।

নিয়োগ আবেদন না-মঞ্জুরের পরও দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আইনসিদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আইডিআরএ কারো নিয়োগ না-মঞ্জুর করলে তার সিইও পদে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বোর্ড ভেঙে আইডিআরএ প্রশাসকও বসাতে পারে। তবে বোর্ড যদি এই নিয়োগ মঞ্জুরের জন্য আপিল করে তা হলে ভিন্ন কথা।

বিষয়টি জানতে কামরুল হাসান খন্দকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও সাড়া মেলেনি।

নিয়োগ না-মঞ্জুরের পরও কামরুল হাসান খন্দকারকে পদে বহাল রাখার বিষয়ে যমুনা লাইফের চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ না-মঞ্জুরের পর আমরা আইডিআরএ রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছি। তারা রিভিউ করছে। তাদের সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিয়োগ না-মঞ্জুরের পরও সিইও’র দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার বিষয়ে আইডিআরএর মুখপাত্র ও পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কর্তৃপক্ষ কারো নিয়োগ না-মঞ্জুরের পর সিইও হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। এতে গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। এটা আইন পরিপন্থী। বিষয়টি আমরা দেখবো।

Loading