ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ




বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল আউয়ালের ঘুষ-দুর্নীতি সাতকাহন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পরেও বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল আউয়ালের ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়াগেছে।
তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে কর্মরত তার অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারিদের উপর চলে স্টিম রোলার। এমনকি নারী কর্মচারিও তার অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। লোকলজ্জ্বার ভয়ে তারা প্রতিবাদও করছে না। নিরবে নিভৃতে সয়ে যাচ্ছে তার অত্যাচার। শুধু তাই নয়, তার বেপরোয়া দুর্নীতির খবরে বন অধিদপ্তরের নিষ্ঠাবান, কর্মঠ ও চৌকস কর্মকর্তারাও এখন বিব্রত।
সূত্র জানায়, পিআরএল-এ যাওয়া কর্মচারিদের এককালীন বেতন ও পেনশন পাওয়ার বিষয়ে ঘুষ না দিলে দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বিভিন্ন অযুহাতে তাদের ফাইল ২/৩ মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করেন। নানা অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি দপ্তরে কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য এম.এম কর্পোরেশনের নামে ১ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ প্রদান করেন এবং কম্পিউটার না নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সামগ্রী গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং বিল প্রদানের সুপারিশ ছাড়াই বিলের চেক প্রদান করতে বাধ্য করেন। সদ্য বিদায়ী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ডিএফও’র ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদকে দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালী বন বিভাগে বদলি করার ব্যবস্থ করেন এবং ডিভিশনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র অপরাধের বিশ্বস্থ সহযোগী হিসেবে চাকরিতে সদ্য যোগদানকৃত ফরেস্টারকে বিধিবহির্ভূতভাবে সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেন এবং গত ২৩ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে মামুনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরের দিন বন অগ্রিম হিসাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন এবং ২৫ জানুয়ারি ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বন অগ্রিমের চেক প্রদান করেন এবং বর্তমান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার (জুনিয়র ফরেস্টার) নিকট থেকে ২০% ঘুষ গ্রহণ করেন।
৮১টি স’মিল মালিকদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করতে না পেরে স’মিলের লাইসেন্স নবায়ন না করে তালবাহানা করেন। এ বিষয়ে স’মিল মালিকদের কয়েকজন প্রতিনিধি কোস্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান।
সূত্র জানায়, বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের সদর দপ্তরে কর্মরত বাগান মালী মরিয়ম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বরিশালের একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় বদলি করেন। ডিভিশনে অনেক সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র আজ্ঞাবহ বন প্রহরী আবু তাহেরকে বানারীপাড়া উপজেলায় বন কর্মকর্তার পদে দায়িত্ব দেন। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল অনুসারে কর্মচারিদের পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিএফও’র আর্থিক ৩ লক্ষ টাকার সীমাবদ্ধতার পরেও বিধিবহির্ভূতভাবে বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ২২০ টাকার ম্যানুয়াল কোটেশন করেন। যা অদক্ষতা ও অযোগ্যতার সামিল বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাশিপুরে অবস্থিত রেস্ট হাউজ মেরামত কাজ ঠিকাদার কর্তৃক মেরামত কাজটি সম্পূর্ণ সমাপ্তির পরেও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কার্য সমাপ্তি রিপোর্ট ও বিল প্রদানের জন্য সুপারিশ প্রদান করেন এবং ঠিকাদারের নিকট থেকে ১৫% ঘুষ আদায় করতে না পেরে ঠিকাদারকে দাখিলকৃত ও সুপারিশকৃত বিলের চেক প্রদান না করে বিধিবহির্ভূতভাবে পুনরায় তদারক কমিটি গঠন করেন। বিল পাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ৩ বার আবেদন নিবেদন করার পরেও বিলের চেক কেটে রাখার দীর্ঘ ১ মাস ২৬ দিন পরে বন সংরক্ষকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চেক প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, আব্দুল আউয়াল বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৬ মার্চ ৩টি কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অডিট আপত্তির কথা বলে কাজের শেষ পর্যায়ে গত বছরের ২৩ মার্চ উক্ত কার্যাদেশ বাতিল করেন। ফরেস্টার এস.এম. কাওসার হোসেন চিকিৎসার জন্য ভারতে গমনের উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের জন্য এনওসি চেয়ে ডিএফও’র নিকট আবেদন করলে উক্ত ফরেস্টারের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ ২ মাসের বেশি হয়রানি করেন। পরবর্তীতে এস.এম. কাওসার বন সংরক্ষকের নিকট আবেদন জানালে ঐদিনই আব্দুল আউয়াল ফরেস্টার এস.এম. কাওসারকে এনওসি দিতে বাধ্য হন। আব্দুল আউয়াল বগুড়া সামাজিক বন বিভাগে চাকুরীকালীন সময়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে সূত্র নিশ্চিত করে। প্রধান বন সংরক্ষক অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের জন্য বন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক জগলুল হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করলেও রহস্যজনক কারণে জগলুল হোসেন তদন্তের বিষয়ে মুখ খুলছেন না। বগুড়া ডিভিশনের ১৮ জন কর্মচারির নিকট থেকে এসিআর প্রেরণের লক্ষ্যে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে এবং না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৮ জন কর্মচারির এসিআর-এ বিরূপ মন্তব্য লিখে ঊর্ধ্বতন মহলে প্রেরণ করেন দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে তার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে ডিএফও আব্দুল আউয়াল দম্ভোক্তি দেখান। যে কারণে তার অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারি থাকেন সর্বদা তটস্থ। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে পারোয়া করি না, কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না এবং কোন অভিযোগ কেউ আমলে নিবে না।’
ডিএফও আব্দুল আউয়াল গত ২৫ জানুয়ারি সরকারি কাজে ঢাকা গমনের জন্য মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন বরিশাল থেকে ৮০ লিটার অকটেন উত্তোলন করে সরকারি গাড়িতে না নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়িতে সরকারি তেল নিয়ে ঢাকায় আসেন। যা স্বেচ্ছাচারিতা ও চাকরিবিধির পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সচেতন মহল মনে করেন। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন কোন উপজেলায় কর্মকর্তার অফিস ও বাস ভবন নেই। নার্সারি কেন্দ্রগুলোতে চারা উত্তোলনের জন্য কোন স্থায়ী নার্সারী বেডও নেই। গৌরনদী এসএফএনটিসি অরক্ষিত এবং গরু ছাগল বসবাস করে। কাশিপুর বন সংরক্ষকের অফিসের সম্মুখ ভাগের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেন না তিনি। বন সংরক্ষকের দপ্তরের পূর্ব দিকে কোন সীমানা দেয়াল নেই। যে কারণে গরু-ছাগল বিচরণ করে এবং রাতে মাদকের আড্ডা বসে।
এ বিষয়ে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল আউয়ালের ঘুষ-দুর্নীতি সাতকাহন!

আপডেট সময় : ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পরেও বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল আউয়ালের ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়াগেছে।
তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে কর্মরত তার অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারিদের উপর চলে স্টিম রোলার। এমনকি নারী কর্মচারিও তার অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। লোকলজ্জ্বার ভয়ে তারা প্রতিবাদও করছে না। নিরবে নিভৃতে সয়ে যাচ্ছে তার অত্যাচার। শুধু তাই নয়, তার বেপরোয়া দুর্নীতির খবরে বন অধিদপ্তরের নিষ্ঠাবান, কর্মঠ ও চৌকস কর্মকর্তারাও এখন বিব্রত।
সূত্র জানায়, পিআরএল-এ যাওয়া কর্মচারিদের এককালীন বেতন ও পেনশন পাওয়ার বিষয়ে ঘুষ না দিলে দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বিভিন্ন অযুহাতে তাদের ফাইল ২/৩ মাস ঘুরিয়ে হয়রানি করেন। নানা অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি দপ্তরে কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য এম.এম কর্পোরেশনের নামে ১ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ প্রদান করেন এবং কম্পিউটার না নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে সামগ্রী গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং বিল প্রদানের সুপারিশ ছাড়াই বিলের চেক প্রদান করতে বাধ্য করেন। সদ্য বিদায়ী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ডিএফও’র ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদকে দিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালী বন বিভাগে বদলি করার ব্যবস্থ করেন এবং ডিভিশনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র অপরাধের বিশ্বস্থ সহযোগী হিসেবে চাকরিতে সদ্য যোগদানকৃত ফরেস্টারকে বিধিবহির্ভূতভাবে সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেন এবং গত ২৩ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে মামুনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরের দিন বন অগ্রিম হিসাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন এবং ২৫ জানুয়ারি ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বন অগ্রিমের চেক প্রদান করেন এবং বর্তমান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার (জুনিয়র ফরেস্টার) নিকট থেকে ২০% ঘুষ গ্রহণ করেন।
৮১টি স’মিল মালিকদের নিকট থেকে ঘুষ গ্রহণ করতে না পেরে স’মিলের লাইসেন্স নবায়ন না করে তালবাহানা করেন। এ বিষয়ে স’মিল মালিকদের কয়েকজন প্রতিনিধি কোস্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ জানান।
সূত্র জানায়, বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের সদর দপ্তরে কর্মরত বাগান মালী মরিয়ম কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বরিশালের একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় বদলি করেন। ডিভিশনে অনেক সিনিয়র ফরেস্টার থাকার পরেও ডিএফও’র আজ্ঞাবহ বন প্রহরী আবু তাহেরকে বানারীপাড়া উপজেলায় বন কর্মকর্তার পদে দায়িত্ব দেন। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল অনুসারে কর্মচারিদের পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিএফও’র আর্থিক ৩ লক্ষ টাকার সীমাবদ্ধতার পরেও বিধিবহির্ভূতভাবে বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ২২০ টাকার ম্যানুয়াল কোটেশন করেন। যা অদক্ষতা ও অযোগ্যতার সামিল বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন। বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাশিপুরে অবস্থিত রেস্ট হাউজ মেরামত কাজ ঠিকাদার কর্তৃক মেরামত কাজটি সম্পূর্ণ সমাপ্তির পরেও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কার্য সমাপ্তি রিপোর্ট ও বিল প্রদানের জন্য সুপারিশ প্রদান করেন এবং ঠিকাদারের নিকট থেকে ১৫% ঘুষ আদায় করতে না পেরে ঠিকাদারকে দাখিলকৃত ও সুপারিশকৃত বিলের চেক প্রদান না করে বিধিবহির্ভূতভাবে পুনরায় তদারক কমিটি গঠন করেন। বিল পাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ৩ বার আবেদন নিবেদন করার পরেও বিলের চেক কেটে রাখার দীর্ঘ ১ মাস ২৬ দিন পরে বন সংরক্ষকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চেক প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, আব্দুল আউয়াল বিগত ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৬ মার্চ ৩টি কাজের কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অডিট আপত্তির কথা বলে কাজের শেষ পর্যায়ে গত বছরের ২৩ মার্চ উক্ত কার্যাদেশ বাতিল করেন। ফরেস্টার এস.এম. কাওসার হোসেন চিকিৎসার জন্য ভারতে গমনের উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের জন্য এনওসি চেয়ে ডিএফও’র নিকট আবেদন করলে উক্ত ফরেস্টারের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ ২ মাসের বেশি হয়রানি করেন। পরবর্তীতে এস.এম. কাওসার বন সংরক্ষকের নিকট আবেদন জানালে ঐদিনই আব্দুল আউয়াল ফরেস্টার এস.এম. কাওসারকে এনওসি দিতে বাধ্য হন। আব্দুল আউয়াল বগুড়া সামাজিক বন বিভাগে চাকুরীকালীন সময়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে সূত্র নিশ্চিত করে। প্রধান বন সংরক্ষক অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের জন্য বন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক জগলুল হোসেনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করলেও রহস্যজনক কারণে জগলুল হোসেন তদন্তের বিষয়ে মুখ খুলছেন না। বগুড়া ডিভিশনের ১৮ জন কর্মচারির নিকট থেকে এসিআর প্রেরণের লক্ষ্যে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে এবং না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৮ জন কর্মচারির এসিআর-এ বিরূপ মন্তব্য লিখে ঊর্ধ্বতন মহলে প্রেরণ করেন দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে তার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে ডিএফও আব্দুল আউয়াল দম্ভোক্তি দেখান। যে কারণে তার অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারি থাকেন সর্বদা তটস্থ। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে পারোয়া করি না, কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না এবং কোন অভিযোগ কেউ আমলে নিবে না।’
ডিএফও আব্দুল আউয়াল গত ২৫ জানুয়ারি সরকারি কাজে ঢাকা গমনের জন্য মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন বরিশাল থেকে ৮০ লিটার অকটেন উত্তোলন করে সরকারি গাড়িতে না নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়িতে সরকারি তেল নিয়ে ঢাকায় আসেন। যা স্বেচ্ছাচারিতা ও চাকরিবিধির পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সচেতন মহল মনে করেন। বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন কোন উপজেলায় কর্মকর্তার অফিস ও বাস ভবন নেই। নার্সারি কেন্দ্রগুলোতে চারা উত্তোলনের জন্য কোন স্থায়ী নার্সারী বেডও নেই। গৌরনদী এসএফএনটিসি অরক্ষিত এবং গরু ছাগল বসবাস করে। কাশিপুর বন সংরক্ষকের অফিসের সম্মুখ ভাগের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেন না তিনি। বন সংরক্ষকের দপ্তরের পূর্ব দিকে কোন সীমানা দেয়াল নেই। যে কারণে গরু-ছাগল বিচরণ করে এবং রাতে মাদকের আড্ডা বসে।
এ বিষয়ে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।