ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার! Logo ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সংস্কার শুরু Logo বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন Logo কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম




রাজউকের জোটন দেবনাথের অনিয়ম- পর্ব-১

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

হাফিজ:

# বিভিন্ন অপকৌশল প্রয়োগে জোটন দেবনাথ রাজউকে একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শকের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছেন বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

# রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় শতশত ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে।

# উচ্ছেদ প্রস্তাব পাশ হওয়ার পড়েও ফাইল ধামাচাপার নজির রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।

# ছাড়পত্র ও নকশায় অযুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে গ্রাহক হয়রানি।

ঢাকাকে একটি সুন্দর পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজউকের পথ চলা। রাজউকের আশীর্বাদেই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আধুনিক ঢাকার এমন রূপ। কিন্তু রাজউক জোন ৬/১ এর অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পদে পদে ক্ষুণ্ন হচ্ছে রাজউকের ভাবমূর্তি ও বিচ্যুত হচ্ছে রাজউকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

রাজউক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে জোটনের বিভিন্ন অপকৌশলের ভয়াবহতা, তার জোনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পুরোটাই তিনি বাণিজ্যে রূপান্তর করেছেন। প্রতিটি উচ্ছেদ কার্যক্রম হয়ে ওঠে যেন তার কাছে এক একটি চাঁদ রাত। এসব অপকৌশল প্রয়োগে তিনি রাজউকে গড়ে তুলেছেন একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শকের নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে বেশ কিছু পরিদর্শক, রাজনৈতিক পরিচয় বহনকারী কিছু নেতা, ঊর্ধ্বতন ২/১ জন কর্মকর্তা ও কিছু দালাল চক্র। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্র এলাকার অন্যান্য ভবন থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকেন। এছাড়া ভবন কম ভাঙতে করেন ঘুষ বাণিজ্য। উচ্ছেদের তালিকায় থাকা এমনও ভবন রয়েছে যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উচ্ছেদ করা হয়নি অথবা গুতো দিয়ে খুবই সামান্য ভাঙা হয়েছে।

কিন্তু দায় এড়াতে তিনি তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেন এই মর্মে যে, ভবন মালিক বা ডেভেলপার নিজ খরচে ভবনটির অনিয়মিত অংশগুলো ভেঙে ফেলবে। কিন্তু অপকৌশলের আশ্রয় হিসেবে এই সিন্ডিকেট ইউটিলিটি বিচ্ছিন্ন করে মিটার নিয়ে আসেন রাজউকে। পরেরদিন থেকে চলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে ঘুষের দেনদরবার। কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ হলেই পেয়ে যান ইউটিলিটি সংযোগের সুপারিশ ও মিটার। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়ার কথা নয়। সংযোগ পেয়েই জোটন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ভবনের অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে চলে জোড়াতালির কাজ। এভাবেই রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় শতশত ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে। এছাড়া তিনি নকশা বহির্ভূত বিভিন্ন ভবনে নোটিশ প্রদান করেন একটি, দুইটি, তিনটি, কখনো চূড়ান্ত নোটিশ। ৪ টি ধাপের যেকোনো ধাপে পড়ে যায় ফাইল ধামাচাপা। নেয়া হয়না আর কোন ব্যবস্থা। এমনকি উচ্ছেদ প্রস্তাব পাশ হওয়ার পড়েও ফাইল ধামাচাপার নজির রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।

এছাড়া নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিকের নকশায় বাণিজ্যিক ভবন, এমনকি নকশায় অনুমোদিত তলার চেয়ে বেশি তলা করার সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট। অবশ্য জোটন সিন্ডিকেটের গ্রাহক হয়রানি ও বাণিজ্য শুরু হয় ছাড়পত্র ও নকশা আবেদনের পর থেকেই। বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে যেমন কাগজপত্রে ঠুনকো সমস্যা, জমির পাশে রাস্তা কমবেশি, ড্যাপের ঝামেলা ইত্যাদির অযুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে গ্রাহক হয়রানি করে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন জোটন।

এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “রাজউকের উচ্ছেদ কার্যক্রম ফলাফল শূন্য”, “কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ আবাসিকের নকশায়”, “নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন”, অর্থ ও “ক্ষমতার দাপটে আড়াল থেকে যায় ফাইল” ইত্যাদি শিরোনামে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও খাতা-কলমে লোক দেখানো ব্যবস্থা ছাড়া বাস্তবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি জোটন।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে জোটন দেবনাথের মুঠো বোন নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

গ্রাহক হয়রানি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুস বাণিজ্য ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়ার মোবাইলে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও জোটনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ব্যাপারে জানা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




রাজউকের জোটন দেবনাথের অনিয়ম- পর্ব-১

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

হাফিজ:

# বিভিন্ন অপকৌশল প্রয়োগে জোটন দেবনাথ রাজউকে একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শকের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছেন বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

# রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় শতশত ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে।

# উচ্ছেদ প্রস্তাব পাশ হওয়ার পড়েও ফাইল ধামাচাপার নজির রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।

# ছাড়পত্র ও নকশায় অযুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে গ্রাহক হয়রানি।

ঢাকাকে একটি সুন্দর পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজউকের পথ চলা। রাজউকের আশীর্বাদেই তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আধুনিক ঢাকার এমন রূপ। কিন্তু রাজউক জোন ৬/১ এর অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে পদে পদে ক্ষুণ্ন হচ্ছে রাজউকের ভাবমূর্তি ও বিচ্যুত হচ্ছে রাজউকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

রাজউক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে জোটনের বিভিন্ন অপকৌশলের ভয়াবহতা, তার জোনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পুরোটাই তিনি বাণিজ্যে রূপান্তর করেছেন। প্রতিটি উচ্ছেদ কার্যক্রম হয়ে ওঠে যেন তার কাছে এক একটি চাঁদ রাত। এসব অপকৌশল প্রয়োগে তিনি রাজউকে গড়ে তুলেছেন একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শকের নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে বেশ কিছু পরিদর্শক, রাজনৈতিক পরিচয় বহনকারী কিছু নেতা, ঊর্ধ্বতন ২/১ জন কর্মকর্তা ও কিছু দালাল চক্র। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময় তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্র এলাকার অন্যান্য ভবন থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকেন। এছাড়া ভবন কম ভাঙতে করেন ঘুষ বাণিজ্য। উচ্ছেদের তালিকায় থাকা এমনও ভবন রয়েছে যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উচ্ছেদ করা হয়নি অথবা গুতো দিয়ে খুবই সামান্য ভাঙা হয়েছে।

কিন্তু দায় এড়াতে তিনি তিনশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেন এই মর্মে যে, ভবন মালিক বা ডেভেলপার নিজ খরচে ভবনটির অনিয়মিত অংশগুলো ভেঙে ফেলবে। কিন্তু অপকৌশলের আশ্রয় হিসেবে এই সিন্ডিকেট ইউটিলিটি বিচ্ছিন্ন করে মিটার নিয়ে আসেন রাজউকে। পরেরদিন থেকে চলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে ঘুষের দেনদরবার। কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ হলেই পেয়ে যান ইউটিলিটি সংযোগের সুপারিশ ও মিটার। নিয়ম অনুযায়ী অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়ার কথা নয়। সংযোগ পেয়েই জোটন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ভবনের অনিয়মিত অংশগুলো না ভেঙে চলে জোড়াতালির কাজ। এভাবেই রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় শতশত ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে জোটন সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে। এছাড়া তিনি নকশা বহির্ভূত বিভিন্ন ভবনে নোটিশ প্রদান করেন একটি, দুইটি, তিনটি, কখনো চূড়ান্ত নোটিশ। ৪ টি ধাপের যেকোনো ধাপে পড়ে যায় ফাইল ধামাচাপা। নেয়া হয়না আর কোন ব্যবস্থা। এমনকি উচ্ছেদ প্রস্তাব পাশ হওয়ার পড়েও ফাইল ধামাচাপার নজির রয়েছে এই সিন্ডিকেটের।

এছাড়া নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিকের নকশায় বাণিজ্যিক ভবন, এমনকি নকশায় অনুমোদিত তলার চেয়ে বেশি তলা করার সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট। অবশ্য জোটন সিন্ডিকেটের গ্রাহক হয়রানি ও বাণিজ্য শুরু হয় ছাড়পত্র ও নকশা আবেদনের পর থেকেই। বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে যেমন কাগজপত্রে ঠুনকো সমস্যা, জমির পাশে রাস্তা কমবেশি, ড্যাপের ঝামেলা ইত্যাদির অযুহাত দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে গ্রাহক হয়রানি করে সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন জোটন।

এসব বিষয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে “রাজউকের উচ্ছেদ কার্যক্রম ফলাফল শূন্য”, “কমার্শিয়াল ভবন নির্মাণ আবাসিকের নকশায়”, “নকশা না নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন”, অর্থ ও “ক্ষমতার দাপটে আড়াল থেকে যায় ফাইল” ইত্যাদি শিরোনামে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও খাতা-কলমে লোক দেখানো ব্যবস্থা ছাড়া বাস্তবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি জোটন।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে জোটন দেবনাথের মুঠো বোন নাম্বারে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

গ্রাহক হয়রানি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুস বাণিজ্য ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জোটন দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়ার মোবাইলে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও জোটনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ব্যাপারে জানা যায়নি।