ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




অধিকাংশ তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ:

৫ লক্ষ টাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের আহবায়ক কমিটি 

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ২৫০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্মেলন ছাড়াই ২০১৩ সালে গঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ। উদ্যোগটি প্রসংশনীয় হলেও প্রশ্নবিদ্ব। দীর্ঘদিন ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কোন সাংগঠনিক কাজ না করা ব্যক্তি আব্দুস সালাম বাবুকে আহবায়ক করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগরের একাধিক  নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, সালামকে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই কমিটি দেয়া হয়েছে। আর এমন কাজ করে তারা দেশরত্ন শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগকে কলঙ্কময় করেছে।

কে এই সালাম বাবু??

আহবায়কের দায়িত্ব পাওয়া আব্দুস সালাম বাবু ১৯৯১ সালের আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতো। তৎসময়ের ঢাকা-৪ এর এমপি আবু হোসেন বাবলার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল। এই কারনে দনিয়া বর্নমালা স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বিত্তবান হয়। এ সময়ে স্কুলের পাশের সরকারি জমি দখল করে তিন তলা বাড়ি নির্মান করে বসবাস করতে থাকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে দৌড় সালাহউদ্দিন ক্ষ্যাত এমপির প্রিয়লোক হয়ে স্কুলের সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামিলীগ সরকারের সময় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার সময়ে নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে ঘাপটি মেরে থেকে ২০০১ সালেই আবার দৌড় সালাহউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনে প্রধান ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে শত শত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঘরছারা হয়। কিন্তু ২০০৪ সালের শেষের দিকে এমপি সালাহউদ্দিনের সাথে দন্দ্বে জড়িয়ে বিরাগভাজন হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামিলীগ সরকারের গঠন করলে কৌশলে এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার আস্থাভাজন হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দনিয়া এলাকায় রাজত্ব করে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের নতুন ওয়ার্ড সমুহের নির্বাচনে ৬০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থীর ড্যামি হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে নিজের লাভ না হলেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাইসুদ্দিন পরাজিত হয়। ২০২০ সালে এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর নতুন এমপি কাজী মনুর দলে ভিড়ে এলাকায় দখল ও স্কুলের সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখে।

২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার সুপারিশে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা সালাম বাবুকে ৭ নম্বর সহ সভাপতির পদ দেন। সালাম বাবু গর্ব করে বলতো মোতাহার হোসেন মোল্লার কাপাসিয়ার বাড়ির সকল ফার্নিচার তার কিনে দেয়া।

এর বিনিময়ে তাকে ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০১৯ সালে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আসেলও তার পদ বহাল থাকে। ২০২১ সালের গাইবান্ধা-৩ উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি মনোনয়ন পেলে নির্বাচন ব্যপক অর্থ খরচ করে প্রিয়ভাজন হয়ে যায়। তার বিনিময়েই আহবায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




অধিকাংশ তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ:

৫ লক্ষ টাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের আহবায়ক কমিটি 

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্মেলন ছাড়াই ২০১৩ সালে গঠিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ। উদ্যোগটি প্রসংশনীয় হলেও প্রশ্নবিদ্ব। দীর্ঘদিন ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কোন সাংগঠনিক কাজ না করা ব্যক্তি আব্দুস সালাম বাবুকে আহবায়ক করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগরের একাধিক  নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, সালামকে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই কমিটি দেয়া হয়েছে। আর এমন কাজ করে তারা দেশরত্ন শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগকে কলঙ্কময় করেছে।

কে এই সালাম বাবু??

আহবায়কের দায়িত্ব পাওয়া আব্দুস সালাম বাবু ১৯৯১ সালের আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতো। তৎসময়ের ঢাকা-৪ এর এমপি আবু হোসেন বাবলার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল। এই কারনে দনিয়া বর্নমালা স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বিত্তবান হয়। এ সময়ে স্কুলের পাশের সরকারি জমি দখল করে তিন তলা বাড়ি নির্মান করে বসবাস করতে থাকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে দৌড় সালাহউদ্দিন ক্ষ্যাত এমপির প্রিয়লোক হয়ে স্কুলের সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামিলীগ সরকারের সময় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার সময়ে নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে ঘাপটি মেরে থেকে ২০০১ সালেই আবার দৌড় সালাহউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনে প্রধান ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে শত শত ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা ঘরছারা হয়। কিন্তু ২০০৪ সালের শেষের দিকে এমপি সালাহউদ্দিনের সাথে দন্দ্বে জড়িয়ে বিরাগভাজন হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামিলীগ সরকারের গঠন করলে কৌশলে এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার আস্থাভাজন হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দনিয়া এলাকায় রাজত্ব করে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের নতুন ওয়ার্ড সমুহের নির্বাচনে ৬০ নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থীর ড্যামি হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে নিজের লাভ না হলেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী রাইসুদ্দিন পরাজিত হয়। ২০২০ সালে এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর নতুন এমপি কাজী মনুর দলে ভিড়ে এলাকায় দখল ও স্কুলের সভাপতির পদ টিকিয়ে রাখে।

২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার সুপারিশে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা সালাম বাবুকে ৭ নম্বর সহ সভাপতির পদ দেন। সালাম বাবু গর্ব করে বলতো মোতাহার হোসেন মোল্লার কাপাসিয়ার বাড়ির সকল ফার্নিচার তার কিনে দেয়া।

এর বিনিময়ে তাকে ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। ২০১৯ সালে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আসেলও তার পদ বহাল থাকে। ২০২১ সালের গাইবান্ধা-৩ উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি মনোনয়ন পেলে নির্বাচন ব্যপক অর্থ খরচ করে প্রিয়ভাজন হয়ে যায়। তার বিনিময়েই আহবায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পায়।