ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




‘স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি, সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে

উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজশাহীতে মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের উন্নয়নের এই জয়যাত্রা, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি, আপনারা সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবারও আপনাদের আহ্বান করবো— আগামী নির্বাচন আসবে এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের সামনে। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কিনা ওয়াদা চাই।’ এ সময় মাঠে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই রাজশাহী সব সময় অবহেলিত ছিল। বিগত মেয়র নির্বাচনে আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বিগত সময়ে সরকার রাজশাহীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে গত ১৪ বছরে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলা ও মহানগরে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করে দিয়েছি।’

জনসভার শুরুতে ৩২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কিছুক্ষণ আগে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ২৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করলাম এবং ৩৭৫ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলাম। এই প্রকল্পগুলো আমি আপনাদের উপহার হিসেবে দিয়ে গেলাম।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।’

টানা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। যেখানে ৪০ ভাগ দারিদ্র্য সীমা ছিল, আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সব ভাতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনও মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমরা এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারবো।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সভায় বক্তব্য রাখেন।।

সকাল থেকে জনসভা মাঠে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠের বাইরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




‘স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি, সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন’

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩

উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজশাহীতে মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের উন্নয়নের এই জয়যাত্রা, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি, আপনারা সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবারও আপনাদের আহ্বান করবো— আগামী নির্বাচন আসবে এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের সামনে। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কিনা ওয়াদা চাই।’ এ সময় মাঠে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই রাজশাহী সব সময় অবহেলিত ছিল। বিগত মেয়র নির্বাচনে আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বিগত সময়ে সরকার রাজশাহীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে গত ১৪ বছরে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলা ও মহানগরে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করে দিয়েছি।’

জনসভার শুরুতে ৩২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কিছুক্ষণ আগে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ২৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করলাম এবং ৩৭৫ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলাম। এই প্রকল্পগুলো আমি আপনাদের উপহার হিসেবে দিয়ে গেলাম।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।’

টানা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। যেখানে ৪০ ভাগ দারিদ্র্য সীমা ছিল, আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সব ভাতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনও মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমরা এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারবো।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সভায় বক্তব্য রাখেন।।

সকাল থেকে জনসভা মাঠে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠের বাইরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।