ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ




নারী উদ্যোক্তাকে হয়রানি, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

প্রতিনিধি, নঁওগা
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের এক নারী উদ্যোক্তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এর উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান সাক্ষরিত এক প্রঙ্গাপনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একই ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ – এর ৩৪ (ঘ) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক, নওগাঁ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান মাসুদ রানা কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ধারা ৩৪ (১) অনুযায়ী উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

নারী উদ্যোক্তার করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মাসুদ রানা গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকে ওই নারী উদ্যোক্তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছেন। তিনি মুঠোফোনে এবং বেশ কিছু চিঠির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং কিছু গোপন তথ্য ডিলিট করে দেন।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনটি তিনি ফেরত দেন। তিনি একজন বিবাহিত নারী এবং দুটি যমজ কন্যাসন্তান আছে। চেয়ারম্যানের এমন প্রস্তাবের ফলে কর্মক্ষেত্রে ও সাংসারিক কলহের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটেছে। এমন অবস্থায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ এবং সামাজিক চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে ও নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ জুন জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আমাকে। তবে আমি আইনিভাবে লড়বো। বখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ নওগাঁর উপ-পরিচালক উত্তম কুমার রায় ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান মাসুদ রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। এখন যিনি প্যানেল চেয়ারম্যান আছেন,তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




নারী উদ্যোক্তাকে হয়রানি, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৩

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের এক নারী উদ্যোক্তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এর উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান সাক্ষরিত এক প্রঙ্গাপনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একই ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ – এর ৩৪ (ঘ) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক, নওগাঁ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান মাসুদ রানা কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ধারা ৩৪ (১) অনুযায়ী উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

নারী উদ্যোক্তার করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মাসুদ রানা গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকে ওই নারী উদ্যোক্তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছেন। তিনি মুঠোফোনে এবং বেশ কিছু চিঠির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং কিছু গোপন তথ্য ডিলিট করে দেন।

পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনটি তিনি ফেরত দেন। তিনি একজন বিবাহিত নারী এবং দুটি যমজ কন্যাসন্তান আছে। চেয়ারম্যানের এমন প্রস্তাবের ফলে কর্মক্ষেত্রে ও সাংসারিক কলহের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটেছে। এমন অবস্থায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ এবং সামাজিক চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে ও নানাভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৩ জুন জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আমাকে। তবে আমি আইনিভাবে লড়বো। বখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ নওগাঁর উপ-পরিচালক উত্তম কুমার রায় ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চেয়ারম্যান মাসুদ রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছি। এখন যিনি প্যানেল চেয়ারম্যান আছেন,তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।