
এইচ আর শফিক: পুরো চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে সবসময়ই মূর্তিমান আতঙ্ক রাজনীতির কথিত কুশীলব সন্ত্রাসী বাবর। আইশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে অপরাধীদের তালিকার শীর্ষে থাকা এই সন্ত্রাসী প্রাণ বাঁচাতে ২০১৮ সালে দুবাইতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বর্তমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেশে ফিরে আবারও সন্ত্রাসী জগতের গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। শুরু করেন ঠিকাদারি জগতের নতুন সিন্ডিকেট। এছাড়া তার অনুসারী ক্যাডারদের নির্বিঘ্নে চালছে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর, দখলবাজি ও নির্মাণ কাজে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। ঠিকাদার জগতেও বর্তমানে এক আতঙ্কের নাম বাবর। রেলের একচ্ছত্র ঠিকাদারির নিয়ন্ত্রক করছেন বলে জানা গেছে। আর এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি অবৈধ অর্থ সম্পদের যে প্রাচার্য গড়ে তুলেছেন। যেসব অর্থ সম্পদের শক্তিতে রাজনীতিতে বেশ শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাবরের রয়েছে অস্ত্র সজ্জিত শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী যারা চাঁদাবাজি দখল টেন্ডারবাজি সহ বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধে জড়িত। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড বাবর সন্ত্রাসের তালিকায় শীর্ষ থাকলেও বর্তমানে আবারও আওয়ামী লীগের বড় পথ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যে কারণে বিভিন্ন সুশীল প্রচারণা সহ লোক দেখানো সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শতকোটি টাকা লগ্নি করে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে মরিয়া এই শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

উল্লেখ্য, বিগত দিনে র্যাবের সন্ত্রাস নির্মূল অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ও প্রাণ বাঁচানোর জন্য পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। সেখানে গড়ে তোলেন হোটেল ব্যবসা ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর আবারো দেশে ফেরেন বাবর। পরে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যবসা ছেড়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন।
এরমধ্যে ২০১৩ সালে সিআরবিতে জোড়া খুনের ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা থেকে বাবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডাবল মার্ডার মামলার আসামি হওয়ার পর যুবলীগের সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয় তাকে। কয়েক মাস পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হন বাবর। এরপর ২০১৮ সালের ১৩ই অক্টোবর র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী অসীম রায় বাবু নিহত হওয়ার পরই দুবাই চলে যান বাবর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে আসেন। ২০১৯ সালের ২৯শে মে রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী খুন হলে বাবর আবার দুবাই চলে যান। বিগত কয়েকবছর আগে দুবাইয়ে অবস্থান কালেও বাবরের হয়ে রেলের পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের চাপ দিয়ে চাঁদাবাজি করছেন তার অনুসারী ক্যাডার রানা, অজিত, লিটুসহ কয়েকজন। মূলত ওই সময় বিদেশে অবস্থান করে দেশের সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের পরিচালনা তিনি করতেন।
চলবে....