ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




সরকারি টাকা হরিলুট: ঢাকা দক্ষিণের কাউন্সিলর আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকবরের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে পানির লাইন স্থাপন ও পূর্ণবাসনের একটি প্রকল্প থেকে তিনি এক কোটিরও বেশি অর্থ কোন প্রকার কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।

সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়ন হালে ৭৫নং ওয়ার্ড, ঢাকা ওয়াসা আওতাধীন ঢাকা এনভায়রন সেন্টাল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (DESWSP) ০২.৭ প্যাকেজ আওতায়, মডস জোন নং- ৬ এর আওতাধীন নাসিরাবাদ এলাকায় পানির লাইন স্থাপন ও পূর্ণবাসন কাজের রাস্তা খননের ক্ষতিপূরণের- ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা সহ প্রায় এক কোটি তিন লক্ষ আটাশ হাজার সাতপ্ত ছাপ্পান্ন) সরকারী টাকা আত্মসাৎ করেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কমিশনার আকবার হোসেন।

সাবেক নাসিরাবাদ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হালে
৭৫নং ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর কাউন্সিলর মোঃ আকবর হোসেন, পিতাঃ মৃত- সুরত আলী, মাতা- ফুল মেহের বিবি, বর্তমান ঠিকানাঃ ১৯ নং পূর্ব মাদারটেক সিকদার ভবন, পোঃ বাসাবো, থানা- সবুজবাগ, ঢাকা- ১২১৪। কাজের রাস্তা কাটার ক্ষতি পূরণ হিসাবে ত্রিমোহনী নদীপাড়া রাস্তা মেরামতের জন্য তিনটি চেকের মাধ্যমে ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা নাসিরাবাদ ইউনিয়নের নামে প্রদান করা হয়।

যার (1) চেক নং- STA ১৩৩৮-৭৩৫ তারিখঃ ১৯/০১/২০১৬ ইং একাউন্ট নং- ৪১২৭২০০০০৮০৬৩ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। মোট টাকা ৪,৫৭০/- (চার হাজার পাঁচশত সত্তর) টাকা। (২) চেক নং- STA ৪৩৩৯১৪২ তারিখঃ ১৯/০৩/২০১৭ ইং একাউন্ট নং- ০৭২১৩৩০০০০২৪০৩ (SIBL) ৩০,৯১,৬৯৪/- (ত্রিশ লক্ষ একানব্বই হাজার ছয়শত চৌরানব্বই) টাকা। (৩) চেক নং- STA ৪৩৩৯০৯৪ তারিখঃ ২৪/০৫/২০১৮ ইং একাউন্ট নং- ১১১১০০৩৭৩ (ঢাকা ব্যাংক) ২,৩২,৪৯৩/- (দুই লক্ষ বত্রিশ হাজার চারশত তিরানব্বই) টাকা। তিনটি চেকে সর্বমোটঃ ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা।

সেই কাজ টাকা রাস্তা মেরামতের কাজে খরচ না করে কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন সম্পূর্ণ টাকাই আত্মসাৎ করেন। সেই সাথে মোঃ আকবর হোসেন, নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তারপ্রায় আরও ৭০,০০,০০০/- (সত্তর লক্ষ) টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি দুদকের তফসিল ভুক্ত অপরাধ হিসাবে দুদক তদন্ত করলে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এর সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে, কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন সম্পর্কে তারা বলেন, তিনি তো বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তার কুকর্মের শেষ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতি করেন? দুদক কি করছে প্রশ্ন স্থানীয়দের?

এই বিষয়ে জানতে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এই প্রকল্প ছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেন নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কমিশনার আকবার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে whatsapp এর মাধ্যমে কল করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে জানতে অনেক সাংবাদিক এসেছিল। এসব মিথ্যে অভিযোগ এ বিষয়ে জানতে হলে আপনি আমাদের সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন। কিন্তু তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো ছাড়পত্র দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের আকবর বলেন না সেরকম কিছু তারা বলেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




error: Content is protected !!

সরকারি টাকা হরিলুট: ঢাকা দক্ষিণের কাউন্সিলর আকবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকবরের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে পানির লাইন স্থাপন ও পূর্ণবাসনের একটি প্রকল্প থেকে তিনি এক কোটিরও বেশি অর্থ কোন প্রকার কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।

সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়ন হালে ৭৫নং ওয়ার্ড, ঢাকা ওয়াসা আওতাধীন ঢাকা এনভায়রন সেন্টাল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (DESWSP) ০২.৭ প্যাকেজ আওতায়, মডস জোন নং- ৬ এর আওতাধীন নাসিরাবাদ এলাকায় পানির লাইন স্থাপন ও পূর্ণবাসন কাজের রাস্তা খননের ক্ষতিপূরণের- ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা সহ প্রায় এক কোটি তিন লক্ষ আটাশ হাজার সাতপ্ত ছাপ্পান্ন) সরকারী টাকা আত্মসাৎ করেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কমিশনার আকবার হোসেন।

সাবেক নাসিরাবাদ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হালে
৭৫নং ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর কাউন্সিলর মোঃ আকবর হোসেন, পিতাঃ মৃত- সুরত আলী, মাতা- ফুল মেহের বিবি, বর্তমান ঠিকানাঃ ১৯ নং পূর্ব মাদারটেক সিকদার ভবন, পোঃ বাসাবো, থানা- সবুজবাগ, ঢাকা- ১২১৪। কাজের রাস্তা কাটার ক্ষতি পূরণ হিসাবে ত্রিমোহনী নদীপাড়া রাস্তা মেরামতের জন্য তিনটি চেকের মাধ্যমে ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা নাসিরাবাদ ইউনিয়নের নামে প্রদান করা হয়।

যার (1) চেক নং- STA ১৩৩৮-৭৩৫ তারিখঃ ১৯/০১/২০১৬ ইং একাউন্ট নং- ৪১২৭২০০০০৮০৬৩ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। মোট টাকা ৪,৫৭০/- (চার হাজার পাঁচশত সত্তর) টাকা। (২) চেক নং- STA ৪৩৩৯১৪২ তারিখঃ ১৯/০৩/২০১৭ ইং একাউন্ট নং- ০৭২১৩৩০০০০২৪০৩ (SIBL) ৩০,৯১,৬৯৪/- (ত্রিশ লক্ষ একানব্বই হাজার ছয়শত চৌরানব্বই) টাকা। (৩) চেক নং- STA ৪৩৩৯০৯৪ তারিখঃ ২৪/০৫/২০১৮ ইং একাউন্ট নং- ১১১১০০৩৭৩ (ঢাকা ব্যাংক) ২,৩২,৪৯৩/- (দুই লক্ষ বত্রিশ হাজার চারশত তিরানব্বই) টাকা। তিনটি চেকে সর্বমোটঃ ৩৩,২৮,৭৫৬/- (তেত্রিশ লক্ষ আটাইশ হাজার সাতশত ছাপ্পান্ন) টাকা।

সেই কাজ টাকা রাস্তা মেরামতের কাজে খরচ না করে কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন সম্পূর্ণ টাকাই আত্মসাৎ করেন। সেই সাথে মোঃ আকবর হোসেন, নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তারপ্রায় আরও ৭০,০০,০০০/- (সত্তর লক্ষ) টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি দুদকের তফসিল ভুক্ত অপরাধ হিসাবে দুদক তদন্ত করলে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এর সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে, কমিশনার মোঃ আকবর হোসেন সম্পর্কে তারা বলেন, তিনি তো বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তার কুকর্মের শেষ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিভাবে অনিয়ম ও দূর্নীতি করেন? দুদক কি করছে প্রশ্ন স্থানীয়দের?

এই বিষয়ে জানতে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এই প্রকল্প ছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেন নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কমিশনার আকবার মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে whatsapp এর মাধ্যমে কল করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে জানতে অনেক সাংবাদিক এসেছিল। এসব মিথ্যে অভিযোগ এ বিষয়ে জানতে হলে আপনি আমাদের সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করুন। কিন্তু তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো ছাড়পত্র দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের আকবর বলেন না সেরকম কিছু তারা বলেনি।