ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

খানসামা ইউএনও অফিস: কোদালের চাইতে আচারি বড় 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২ ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

এম এইচ মুন্না : বহুল আলোচিত খানসামার অগণিত মানুষের বিরক্তির কারণ খানসামা উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম। একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের ২য় তলায় উঠলেই তার কাছে ভাইভা দিতে হয় ; কর্কশ গলায় প্রশ্ন তোলেন, বাড়ি কই, কি কাজ, কোথায় আসছেন? এমনকি উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ একজন ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি আটক রেখে বাথরুম পরিষ্কার করানোর অভিযোগও উঠেছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

খানসামা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হলদী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন আহমেদ মাহবুবুল ইসলাম (ইউএনও) স্যার থাকাকালীন পরিষদে প্রবেশ করতেই আমাকে তুই বলে সম্বোধন করে কর্কশ ভাষায় তাচ্ছিল্য করেন এই আব্দুস সালাম। তিনি আমাকে তুই বলে সম্বোধন করার প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে মরিয়া হয় সেই অফিস সহায়ক। পরে বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করলে তিনি আমার সামনেই সালামকে সতর্ক করে দেন যাতে এরকম অসৌজন্যমূলক আচরণের পুনরাবৃত্তি না হয়। সেদিনের পর থেকে কিছুদিন নিরব থাকলেও আবারও যেই লাউ সেই কদু।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী জানান, একটি বিষয়ে কথা বলতে ইউএনও স্যারের সাথে দেখা করতে যাই, এই আব্দুস সালাম এমনভাবে প্রশ্ন করতে শুরু করছেন যেনো মনে হচ্ছিলো সেখানে ভিক্ষা করতে গিয়েছি। শেষমেশ হতাশ হয়ে ইউএনও স্যারের সাথে দেখা না করেই ফেরত আসতে হয়েছে।

ভেড়ভেড়ী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু জানান বছর খানেক আগে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা গেইটে ইমরানের চায়ের দোকানে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চান আব্দুস সালাম । একটু কম হবে কিনা বলতেই খারাপ ভাষায় আমাকে গালাগাল করে চলে যান তিনি। যাওয়ার আগে বলে যান, ফকিন্নির তদবির আমি করিনা আমার জন্য টাকা নিয়ে বসে থাকে অনেকেই। ভুক্তভোগী সেই মঞ্জু বলেন, একজন অফিস সহায়কের এমন আচরণে সেদিন খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম।

খানসামা উপজেলার সাবেক ছাত্র নেতা মোঃ নুর হোসাইন বলেন, আব্দুস সালামের আচরণ অত্যন্ত রূঢ় প্রকৃতির। আমার সাথেও একবার উল্টাপাল্টা কথে বলেছিল পরে আমি তার প্রতিবাদ করি; সেদিন থেকে আমার সামনে একদম চুপচাপ থাকতো। আশা করছি,সালামের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে কথা হয়, মরিয়ম বাজার থেকে আসা রমজান আলীর সাথে তিনি বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার মহোদয় এত সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে কথা বলেন, তখন মনে হয় সত্যি আমরা এদেশের সুনাগরিক। কিন্তু এই আব্দুস সালাম অফিস সহায়ক হয়েও এমনভাবে কথা বলে যেনো, আমরা সালামের করুনায় বেঁচে আছি।

চলবে…….

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

খানসামা ইউএনও অফিস: কোদালের চাইতে আচারি বড় 

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২

এম এইচ মুন্না : বহুল আলোচিত খানসামার অগণিত মানুষের বিরক্তির কারণ খানসামা উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম। একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের ২য় তলায় উঠলেই তার কাছে ভাইভা দিতে হয় ; কর্কশ গলায় প্রশ্ন তোলেন, বাড়ি কই, কি কাজ, কোথায় আসছেন? এমনকি উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ একজন ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি আটক রেখে বাথরুম পরিষ্কার করানোর অভিযোগও উঠেছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

খানসামা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হলদী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন আহমেদ মাহবুবুল ইসলাম (ইউএনও) স্যার থাকাকালীন পরিষদে প্রবেশ করতেই আমাকে তুই বলে সম্বোধন করে কর্কশ ভাষায় তাচ্ছিল্য করেন এই আব্দুস সালাম। তিনি আমাকে তুই বলে সম্বোধন করার প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করতে মরিয়া হয় সেই অফিস সহায়ক। পরে বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করলে তিনি আমার সামনেই সালামকে সতর্ক করে দেন যাতে এরকম অসৌজন্যমূলক আচরণের পুনরাবৃত্তি না হয়। সেদিনের পর থেকে কিছুদিন নিরব থাকলেও আবারও যেই লাউ সেই কদু।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী জানান, একটি বিষয়ে কথা বলতে ইউএনও স্যারের সাথে দেখা করতে যাই, এই আব্দুস সালাম এমনভাবে প্রশ্ন করতে শুরু করছেন যেনো মনে হচ্ছিলো সেখানে ভিক্ষা করতে গিয়েছি। শেষমেশ হতাশ হয়ে ইউএনও স্যারের সাথে দেখা না করেই ফেরত আসতে হয়েছে।

ভেড়ভেড়ী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু জানান বছর খানেক আগে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা গেইটে ইমরানের চায়ের দোকানে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চান আব্দুস সালাম । একটু কম হবে কিনা বলতেই খারাপ ভাষায় আমাকে গালাগাল করে চলে যান তিনি। যাওয়ার আগে বলে যান, ফকিন্নির তদবির আমি করিনা আমার জন্য টাকা নিয়ে বসে থাকে অনেকেই। ভুক্তভোগী সেই মঞ্জু বলেন, একজন অফিস সহায়কের এমন আচরণে সেদিন খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম।

খানসামা উপজেলার সাবেক ছাত্র নেতা মোঃ নুর হোসাইন বলেন, আব্দুস সালামের আচরণ অত্যন্ত রূঢ় প্রকৃতির। আমার সাথেও একবার উল্টাপাল্টা কথে বলেছিল পরে আমি তার প্রতিবাদ করি; সেদিন থেকে আমার সামনে একদম চুপচাপ থাকতো। আশা করছি,সালামের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে কথা হয়, মরিয়ম বাজার থেকে আসা রমজান আলীর সাথে তিনি বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার মহোদয় এত সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে কথা বলেন, তখন মনে হয় সত্যি আমরা এদেশের সুনাগরিক। কিন্তু এই আব্দুস সালাম অফিস সহায়ক হয়েও এমনভাবে কথা বলে যেনো, আমরা সালামের করুনায় বেঁচে আছি।

চলবে…….