ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিধিনিষেধ শিথিলের আগেই যেন সব স্বাভাবিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল। তার আগেই রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে লক্ষ্য করা গেছে ঢিলেঢালাভাব। যানবাহনের পাশাপাশি বেড়েছে মানুষেরও উপস্থিতি। যেন স্বাভাবিক হতে চলেছে সবকিছুই।

এদিকে বিধিনিষেধ শুরুর দিকে রাজধানীজুড়ে পুলিশের সক্রিয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেলেও এখনকার চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও চোখে পড়েনি কার্যক্রম।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ও প্রগতির সরণী সড়কে শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেটকারের অবাধ চলাচল ছিল। এছাড়া ফুটপাত ও অলি-গলিতে মানুষের উপস্থিতও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চেকপোস্টগুলোয় ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তল্লাশি করা হচ্ছে না মুভমেন্ট পাস। কে জরুরি কাজে আর কে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছে তা দেখার কেউ নেই।

অফিসগামীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জরুরি কাজে অথবা অফিস যাওয়ার জন্য বিধিনিষেধের সব নিয়ম মেনেই রাস্তায় বের হয়েছেন। কিন্তু রাস্তায় অনেক মানুষ বের হয়েছে যাদের জরুরি কাজ কিংবা অফিসেও যেতে হচ্ছে না। তারা রাস্তায় বের হয়ে বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা করছেন না।

মো.মনির নামে বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠে সব নিয়ম মেনেই রাস্তায় বের হয়েছি। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে দেখি অলি-গলি থেকে শুরু করে দোকানে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ চায়ের স্টলে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার কেউ রাস্তার পাশে বসেই গল্প করছেন।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা নিয়ম না মেনেই সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বিধিনিষেধের আগে যেভাবে ডেকে যাত্রী ওঠাতেন এখন একই কায়দায় মোটরসাইকেলে যাত্রী নিচ্ছেন তারা। যদিও বিধিনিষেধ চলাকালীন মোটরসাইকেলে যাত্রী চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় কেউ নিয়ম মানছেন না। তাহলে তারা ঘরে বসে আর কী করবেন? যেহেতু মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে তাই তারাও বের হয়েছেন।

রাজধানীর নতুন বাজার পুলিশ চেকপোস্টের অল্প দূরত্বে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। তাদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবাই জীবন জীবিকার জন্য রাস্তায় বের হয়েছে। কেউ তো আর আগের মতো বিধিনিষেধ মানছেন না। তাহলে আমরা ঘরে বসে থেকে না খেয়ে কেনো মরবো? তাই জীবিকার তাগিদেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।

এ বিষয়ে কথা বলতে চেকপোস্টে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য বলেন, রাস্তায় বের হওয়া অনেকেই নিয়ম মানছেন না। তবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। অধিকাংশ মানুষ নিয়ম মানছে না বলেই চেকপোস্টের কার্যক্রমে ঢিলেঢালাভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে যারা রাস্তায় বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বিধিনিষেধ শিথিলের আগেই যেন সব স্বাভাবিক

আপডেট সময় : ০১:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল। তার আগেই রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে লক্ষ্য করা গেছে ঢিলেঢালাভাব। যানবাহনের পাশাপাশি বেড়েছে মানুষেরও উপস্থিতি। যেন স্বাভাবিক হতে চলেছে সবকিছুই।

এদিকে বিধিনিষেধ শুরুর দিকে রাজধানীজুড়ে পুলিশের সক্রিয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেলেও এখনকার চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও চোখে পড়েনি কার্যক্রম।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ও প্রগতির সরণী সড়কে শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেটকারের অবাধ চলাচল ছিল। এছাড়া ফুটপাত ও অলি-গলিতে মানুষের উপস্থিতও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চেকপোস্টগুলোয় ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তল্লাশি করা হচ্ছে না মুভমেন্ট পাস। কে জরুরি কাজে আর কে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছে তা দেখার কেউ নেই।

অফিসগামীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জরুরি কাজে অথবা অফিস যাওয়ার জন্য বিধিনিষেধের সব নিয়ম মেনেই রাস্তায় বের হয়েছেন। কিন্তু রাস্তায় অনেক মানুষ বের হয়েছে যাদের জরুরি কাজ কিংবা অফিসেও যেতে হচ্ছে না। তারা রাস্তায় বের হয়ে বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা করছেন না।

মো.মনির নামে বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠে সব নিয়ম মেনেই রাস্তায় বের হয়েছি। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে দেখি অলি-গলি থেকে শুরু করে দোকানে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছে। কেউ চায়ের স্টলে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার কেউ রাস্তার পাশে বসেই গল্প করছেন।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা নিয়ম না মেনেই সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। বিধিনিষেধের আগে যেভাবে ডেকে যাত্রী ওঠাতেন এখন একই কায়দায় মোটরসাইকেলে যাত্রী নিচ্ছেন তারা। যদিও বিধিনিষেধ চলাকালীন মোটরসাইকেলে যাত্রী চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তায় কেউ নিয়ম মানছেন না। তাহলে তারা ঘরে বসে আর কী করবেন? যেহেতু মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে তাই তারাও বের হয়েছেন।

রাজধানীর নতুন বাজার পুলিশ চেকপোস্টের অল্প দূরত্বে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। তাদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবাই জীবন জীবিকার জন্য রাস্তায় বের হয়েছে। কেউ তো আর আগের মতো বিধিনিষেধ মানছেন না। তাহলে আমরা ঘরে বসে থেকে না খেয়ে কেনো মরবো? তাই জীবিকার তাগিদেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।

এ বিষয়ে কথা বলতে চেকপোস্টে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য বলেন, রাস্তায় বের হওয়া অনেকেই নিয়ম মানছেন না। তবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। অধিকাংশ মানুষ নিয়ম মানছে না বলেই চেকপোস্টের কার্যক্রমে ঢিলেঢালাভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে যারা রাস্তায় বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।