ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা 

সরকার কত কিছু দেয় মোক কিছুই দেয় না বাহে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ

মোর কাও নাই, ৮ বছর ধরি একলায় একলায় রানধি খাং। এর আগত সব আছিলো। সর্বনাশা তিস্তাত সব চলি গেইছে। অভাবে পরি বউ ছোয়ার ঘড়ও মোক থুইয়া চলি গেইছে। সব কিছু হারেয়া এ্যালা রাস্তাত ঘড় করি আচুং, কোন রকম রাতটা পার করং। সরকার কত কিছু দিয়ার নাগছে মোক কিছুই দেয় না বাহে।

সীমাহীন ব্যাথা আর কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে চুলায় আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে কথা বলছিলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ আব্দুল কাদের এর ছেলে সর্বহারা আহাদ আলী (৪৮)। একটা সময় সবই ছিলো। এখন আর নিজের বলতে কিছুই নেই। আগে চর ধুবনীতে ছিলেন। আট বছর আগে সর্ব নাশা তিস্তার কড়ল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

এ সময় আহাদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিস্তায় সব শেষ হয়ে গেছে। নিঃস্ব আহাদ আলীকে তখন স্ত্রী সন্তানরাও রেখে চলে যান। কোন উপায় না পেয়ে বোনের বাড়িতে ঠাই নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। পরে অসহায় আহাদ আলী একই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে রাস্তার উপর একটি ছোট চালা ঘর পাতেন। কষ্ট আর অনাহারে দির পার করেন। আগে তালা ঠিক করতো সেটা দিয়ে দু এক বেলা কোন রকম পার হতো। এখন সেটিও বন্ধ। কিছু করার ক্ষমতা নেই। এদিক ওদিক থেকে চেয়ে নিয়ে দিন পার।

তিনি আরো বলেন, আমার কিছুই নাই। রাস্তার উপর ঘরটা করি আছি। খেয়ে না খেয়েদিন পার করি। কেউ কোন খোজ নেয় না। উল্টো এই ঘরটি ভেঙ্গে দিতে চায়। আমি কি করবো? শুনতেছি মানুষ ঘর পায়, জমি পায় সরকার থেকে আরো কত কি? কই আমিতো কিছুই পাইনা। চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। তাই সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমাকে যেন একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সরকার কত কিছু দেয় মোক কিছুই দেয় না বাহে

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ

মোর কাও নাই, ৮ বছর ধরি একলায় একলায় রানধি খাং। এর আগত সব আছিলো। সর্বনাশা তিস্তাত সব চলি গেইছে। অভাবে পরি বউ ছোয়ার ঘড়ও মোক থুইয়া চলি গেইছে। সব কিছু হারেয়া এ্যালা রাস্তাত ঘড় করি আচুং, কোন রকম রাতটা পার করং। সরকার কত কিছু দিয়ার নাগছে মোক কিছুই দেয় না বাহে।

সীমাহীন ব্যাথা আর কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে চুলায় আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে কথা বলছিলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ আব্দুল কাদের এর ছেলে সর্বহারা আহাদ আলী (৪৮)। একটা সময় সবই ছিলো। এখন আর নিজের বলতে কিছুই নেই। আগে চর ধুবনীতে ছিলেন। আট বছর আগে সর্ব নাশা তিস্তার কড়ল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

এ সময় আহাদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিস্তায় সব শেষ হয়ে গেছে। নিঃস্ব আহাদ আলীকে তখন স্ত্রী সন্তানরাও রেখে চলে যান। কোন উপায় না পেয়ে বোনের বাড়িতে ঠাই নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। পরে অসহায় আহাদ আলী একই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে রাস্তার উপর একটি ছোট চালা ঘর পাতেন। কষ্ট আর অনাহারে দির পার করেন। আগে তালা ঠিক করতো সেটা দিয়ে দু এক বেলা কোন রকম পার হতো। এখন সেটিও বন্ধ। কিছু করার ক্ষমতা নেই। এদিক ওদিক থেকে চেয়ে নিয়ে দিন পার।

তিনি আরো বলেন, আমার কিছুই নাই। রাস্তার উপর ঘরটা করি আছি। খেয়ে না খেয়েদিন পার করি। কেউ কোন খোজ নেয় না। উল্টো এই ঘরটি ভেঙ্গে দিতে চায়। আমি কি করবো? শুনতেছি মানুষ ঘর পায়, জমি পায় সরকার থেকে আরো কত কি? কই আমিতো কিছুই পাইনা। চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। তাই সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমাকে যেন একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।