ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার কত কিছু দেয় মোক কিছুই দেয় না বাহে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ ৪৮৮ বার পড়া হয়েছে

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ

মোর কাও নাই, ৮ বছর ধরি একলায় একলায় রানধি খাং। এর আগত সব আছিলো। সর্বনাশা তিস্তাত সব চলি গেইছে। অভাবে পরি বউ ছোয়ার ঘড়ও মোক থুইয়া চলি গেইছে। সব কিছু হারেয়া এ্যালা রাস্তাত ঘড় করি আচুং, কোন রকম রাতটা পার করং। সরকার কত কিছু দিয়ার নাগছে মোক কিছুই দেয় না বাহে।

সীমাহীন ব্যাথা আর কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে চুলায় আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে কথা বলছিলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ আব্দুল কাদের এর ছেলে সর্বহারা আহাদ আলী (৪৮)। একটা সময় সবই ছিলো। এখন আর নিজের বলতে কিছুই নেই। আগে চর ধুবনীতে ছিলেন। আট বছর আগে সর্ব নাশা তিস্তার কড়ল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

এ সময় আহাদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিস্তায় সব শেষ হয়ে গেছে। নিঃস্ব আহাদ আলীকে তখন স্ত্রী সন্তানরাও রেখে চলে যান। কোন উপায় না পেয়ে বোনের বাড়িতে ঠাই নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। পরে অসহায় আহাদ আলী একই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে রাস্তার উপর একটি ছোট চালা ঘর পাতেন। কষ্ট আর অনাহারে দির পার করেন। আগে তালা ঠিক করতো সেটা দিয়ে দু এক বেলা কোন রকম পার হতো। এখন সেটিও বন্ধ। কিছু করার ক্ষমতা নেই। এদিক ওদিক থেকে চেয়ে নিয়ে দিন পার।

তিনি আরো বলেন, আমার কিছুই নাই। রাস্তার উপর ঘরটা করি আছি। খেয়ে না খেয়েদিন পার করি। কেউ কোন খোজ নেয় না। উল্টো এই ঘরটি ভেঙ্গে দিতে চায়। আমি কি করবো? শুনতেছি মানুষ ঘর পায়, জমি পায় সরকার থেকে আরো কত কি? কই আমিতো কিছুই পাইনা। চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। তাই সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমাকে যেন একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সরকার কত কিছু দেয় মোক কিছুই দেয় না বাহে

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ

মোর কাও নাই, ৮ বছর ধরি একলায় একলায় রানধি খাং। এর আগত সব আছিলো। সর্বনাশা তিস্তাত সব চলি গেইছে। অভাবে পরি বউ ছোয়ার ঘড়ও মোক থুইয়া চলি গেইছে। সব কিছু হারেয়া এ্যালা রাস্তাত ঘড় করি আচুং, কোন রকম রাতটা পার করং। সরকার কত কিছু দিয়ার নাগছে মোক কিছুই দেয় না বাহে।

সীমাহীন ব্যাথা আর কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে চুলায় আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে কথা বলছিলেন, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ আব্দুল কাদের এর ছেলে সর্বহারা আহাদ আলী (৪৮)। একটা সময় সবই ছিলো। এখন আর নিজের বলতে কিছুই নেই। আগে চর ধুবনীতে ছিলেন। আট বছর আগে সর্ব নাশা তিস্তার কড়ল গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।

এ সময় আহাদ আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিস্তায় সব শেষ হয়ে গেছে। নিঃস্ব আহাদ আলীকে তখন স্ত্রী সন্তানরাও রেখে চলে যান। কোন উপায় না পেয়ে বোনের বাড়িতে ঠাই নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। পরে অসহায় আহাদ আলী একই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে রাস্তার উপর একটি ছোট চালা ঘর পাতেন। কষ্ট আর অনাহারে দির পার করেন। আগে তালা ঠিক করতো সেটা দিয়ে দু এক বেলা কোন রকম পার হতো। এখন সেটিও বন্ধ। কিছু করার ক্ষমতা নেই। এদিক ওদিক থেকে চেয়ে নিয়ে দিন পার।

তিনি আরো বলেন, আমার কিছুই নাই। রাস্তার উপর ঘরটা করি আছি। খেয়ে না খেয়েদিন পার করি। কেউ কোন খোজ নেয় না। উল্টো এই ঘরটি ভেঙ্গে দিতে চায়। আমি কি করবো? শুনতেছি মানুষ ঘর পায়, জমি পায় সরকার থেকে আরো কত কি? কই আমিতো কিছুই পাইনা। চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। তাই সরকারের কাছে আমার চাওয়া আমাকে যেন একটা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।