ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি Logo সাভার পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের অসাধারণ মানবিক গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

সারাদিন একটানা খাটুনি, যেন কাজের কোন বিরাম নেই থানা পুলিশের। শত ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মাঝে মানুষের একটু উপকার করতে পারলেই যেন অপার শান্তি পায় পুলিশ। ভুলে যায় নিজের ক্লান্তির কথা। তেমনি এক মানবিক গল্প শুনা যায় কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের কাছ থেকে।

৮০ বছরের বয়স্ক এক বৃদ্ধা। তাকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি’১৯ কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি কোন কথা ও নাম ঠিকানা বলতে পারতেন না। তাকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। কোন পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত তাকে স্থানীয় সাফওয়ান জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসহ থাকা খাওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

তার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ পেতে ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি প্রচার করা হয়। সেই সাথে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিংও করা হয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু তার পরিচয় মিলেনি। বিষয়টি অবহিত করা হয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে।

কোন ভাবেই যখন তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পুলিশ তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন অফিস আগারগাঁওয়ে প্রেরণ করে। সেখানে কেন্দ্রীয় সার্ভার হতে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করে তার জাতীয় পরিচিতি নাম্বারসহ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়। জানা যায়, তার নাম মোঃ আঃ মালেক (৮০), তার বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম-মৃত সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও মায়ের নাম-মৃত মরিয়ম বিবি।

পরবর্তী সময়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিষয়টি অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে। তার পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ছুঁটে আসে কামরাঙ্গীরচর থানায়। এরপর তাকে সনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন।

পুলিশের জন্য তাদের হারিয়ে যাওয়া লোক খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। কৃতজ্ঞতায় তখন তাদের চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিল। সেই সাথে পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারা।

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে উপরোক্ত ব্যক্তিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে অনেক বেশি আনন্দিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের অসাধারণ মানবিক গল্প

আপডেট সময় : ১১:৫২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

সারাদিন একটানা খাটুনি, যেন কাজের কোন বিরাম নেই থানা পুলিশের। শত ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মাঝে মানুষের একটু উপকার করতে পারলেই যেন অপার শান্তি পায় পুলিশ। ভুলে যায় নিজের ক্লান্তির কথা। তেমনি এক মানবিক গল্প শুনা যায় কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের কাছ থেকে।

৮০ বছরের বয়স্ক এক বৃদ্ধা। তাকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি’১৯ কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি কোন কথা ও নাম ঠিকানা বলতে পারতেন না। তাকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। কোন পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত তাকে স্থানীয় সাফওয়ান জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসহ থাকা খাওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

তার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ পেতে ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি প্রচার করা হয়। সেই সাথে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিংও করা হয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু তার পরিচয় মিলেনি। বিষয়টি অবহিত করা হয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে।

কোন ভাবেই যখন তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পুলিশ তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন অফিস আগারগাঁওয়ে প্রেরণ করে। সেখানে কেন্দ্রীয় সার্ভার হতে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করে তার জাতীয় পরিচিতি নাম্বারসহ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়। জানা যায়, তার নাম মোঃ আঃ মালেক (৮০), তার বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম-মৃত সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও মায়ের নাম-মৃত মরিয়ম বিবি।

পরবর্তী সময়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিষয়টি অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে। তার পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ছুঁটে আসে কামরাঙ্গীরচর থানায়। এরপর তাকে সনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন।

পুলিশের জন্য তাদের হারিয়ে যাওয়া লোক খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। কৃতজ্ঞতায় তখন তাদের চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিল। সেই সাথে পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারা।

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে উপরোক্ত ব্যক্তিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে অনেক বেশি আনন্দিত।