ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের অসাধারণ মানবিক গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

সারাদিন একটানা খাটুনি, যেন কাজের কোন বিরাম নেই থানা পুলিশের। শত ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মাঝে মানুষের একটু উপকার করতে পারলেই যেন অপার শান্তি পায় পুলিশ। ভুলে যায় নিজের ক্লান্তির কথা। তেমনি এক মানবিক গল্প শুনা যায় কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের কাছ থেকে।

৮০ বছরের বয়স্ক এক বৃদ্ধা। তাকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি’১৯ কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি কোন কথা ও নাম ঠিকানা বলতে পারতেন না। তাকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। কোন পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত তাকে স্থানীয় সাফওয়ান জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসহ থাকা খাওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

তার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ পেতে ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি প্রচার করা হয়। সেই সাথে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিংও করা হয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু তার পরিচয় মিলেনি। বিষয়টি অবহিত করা হয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে।

কোন ভাবেই যখন তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পুলিশ তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন অফিস আগারগাঁওয়ে প্রেরণ করে। সেখানে কেন্দ্রীয় সার্ভার হতে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করে তার জাতীয় পরিচিতি নাম্বারসহ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়। জানা যায়, তার নাম মোঃ আঃ মালেক (৮০), তার বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম-মৃত সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও মায়ের নাম-মৃত মরিয়ম বিবি।

পরবর্তী সময়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিষয়টি অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে। তার পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ছুঁটে আসে কামরাঙ্গীরচর থানায়। এরপর তাকে সনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন।

পুলিশের জন্য তাদের হারিয়ে যাওয়া লোক খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। কৃতজ্ঞতায় তখন তাদের চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিল। সেই সাথে পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারা।

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে উপরোক্ত ব্যক্তিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে অনেক বেশি আনন্দিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের অসাধারণ মানবিক গল্প

আপডেট সময় : ১১:৫২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

সারাদিন একটানা খাটুনি, যেন কাজের কোন বিরাম নেই থানা পুলিশের। শত ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মাঝে মানুষের একটু উপকার করতে পারলেই যেন অপার শান্তি পায় পুলিশ। ভুলে যায় নিজের ক্লান্তির কথা। তেমনি এক মানবিক গল্প শুনা যায় কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশের কাছ থেকে।

৮০ বছরের বয়স্ক এক বৃদ্ধা। তাকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি’১৯ কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি কোন কথা ও নাম ঠিকানা বলতে পারতেন না। তাকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক সেবা প্রদান করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। কোন পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত তাকে স্থানীয় সাফওয়ান জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসহ থাকা খাওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ।

তার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ পেতে ও পরিচয় উদঘাটনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি প্রচার করা হয়। সেই সাথে কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিংও করা হয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু তার পরিচয় মিলেনি। বিষয়টি অবহিত করা হয় সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে।

কোন ভাবেই যখন তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন পুলিশ তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন অফিস আগারগাঁওয়ে প্রেরণ করে। সেখানে কেন্দ্রীয় সার্ভার হতে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করে তার জাতীয় পরিচিতি নাম্বারসহ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়। জানা যায়, তার নাম মোঃ আঃ মালেক (৮০), তার বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম-মৃত সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও মায়ের নাম-মৃত মরিয়ম বিবি।

পরবর্তী সময়ে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিষয়টি অবহিত করা হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে। তার পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে ছুঁটে আসে কামরাঙ্গীরচর থানায়। এরপর তাকে সনাক্ত করে বাড়ি নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন।

পুলিশের জন্য তাদের হারিয়ে যাওয়া লোক খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। কৃতজ্ঞতায় তখন তাদের চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছিল। সেই সাথে পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারা।

কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয় বিবেচনা করে উপরোক্ত ব্যক্তিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে অনেক বেশি আনন্দিত।