ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

১০ বছর ভুয়া সনদে চাকরি : অবশেষে পালিয়ে বাঁচলেন শিক্ষিকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১ ৩২১ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;

ভুয়া সনদে ১০ বছর চাকরির অভিযোগ উঠেছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার স্কুলশিক্ষিকা মোবাসসেরা খাতুনের বিরুদ্ধে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক শিক্ষা দফতরের করা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ‘শারীরিক ও পারিবারিক’ সমস্যার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

উপজেলার রিসিকুল ইউনিয়নের সৈয়দপুর শহীদ মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। রোববার (১৭ জানুয়ারি) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন।

তিনি জানান, ‘মোবাসসেরা খাতুনের বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন নম্বর ও প্রত্যয়ন জালিয়াতি করে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগ আসে শিক্ষা দফতরে। যেহেতু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল দফতরে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কোনো প্রকার রেকর্ড এখানে নেই (ঢাকায় রেকর্ড রয়েছে), সেহেতু প্রকৃত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর রোল নম্বর আমাদের অনলাইন ডেটাবেজের সার্ভার থেকে যাচাই করে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি সত্যতার পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

নিয়োগের সময় মোবাসসেরার জমা দেয়া নথিতেও দেখা গেছে, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন। রোল নম্বর ছিল ২১১৬০৭৭৯। ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু যাচাইয়ে ধরা পড়ে ওই সনদধারী মোবাসসেরা খাতুন নন। সনদটি রোজি খাতুন নামে আরেকজনের। সনদ জালিয়াতি করে মোবাসসেরা খাতুন নিয়োগ নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটিরও যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে ‘রহস্যজনক’ কারণে অডিটের সময় এ বিষয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। তাই ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন মোবাসসেরা। তার ইনডেক্স নম্বর- ১০৮৪৩৩। শুরু থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নিচ্ছিলেন যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু গত ১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হলে সত্যতা মেলে বিষয়টির। সে কারণে মোবাসসেরার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও আদেশ জারি হয় আঞ্চলিক শিক্ষা দফতর থেকে। কিন্তু গত বছরের ১ ডিসেম্বর তিনি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামের কাছে ইস্তফাপত্র দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরবর্তীতে জরুরি সভা ডেকে মোবাসসেরার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সবার সম্মতিক্রমে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে এসব দেখার সুযোগ আমাদের নেই। থানা বা জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমেই এগুলো যাচাই-বাছাই করে একজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা নিশ্চিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের কাছেই সর্বপ্রথমে এসব বিষয় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এতদিন পর এসে এমন অযাচিত বিষয় সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার।’

ইস্তফার বিষয়ে জানার জন্য মোবাসসেরা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক শিক্ষা দফতরের উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলছেন, ‘শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় কোনো শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নেবেন, এটি সমাজ-রাষ্ট্র আশা করে না। স্বেচ্ছায় তিনি চাকরি ছাড়তে পারেন। তবে তার জালিয়াতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশনা দেবেন সেটিই আমাদের কাছে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

১০ বছর ভুয়া সনদে চাকরি : অবশেষে পালিয়ে বাঁচলেন শিক্ষিকা

আপডেট সময় : ১১:৪৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১

জেলা প্রতিনিধি;

ভুয়া সনদে ১০ বছর চাকরির অভিযোগ উঠেছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার স্কুলশিক্ষিকা মোবাসসেরা খাতুনের বিরুদ্ধে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক শিক্ষা দফতরের করা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ‘শারীরিক ও পারিবারিক’ সমস্যার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

উপজেলার রিসিকুল ইউনিয়নের সৈয়দপুর শহীদ মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। রোববার (১৭ জানুয়ারি) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দীন।

তিনি জানান, ‘মোবাসসেরা খাতুনের বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন নম্বর ও প্রত্যয়ন জালিয়াতি করে অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগ আসে শিক্ষা দফতরে। যেহেতু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল দফতরে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কোনো প্রকার রেকর্ড এখানে নেই (ঢাকায় রেকর্ড রয়েছে), সেহেতু প্রকৃত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর রোল নম্বর আমাদের অনলাইন ডেটাবেজের সার্ভার থেকে যাচাই করে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি সত্যতার পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

নিয়োগের সময় মোবাসসেরার জমা দেয়া নথিতেও দেখা গেছে, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন। রোল নম্বর ছিল ২১১৬০৭৭৯। ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু যাচাইয়ে ধরা পড়ে ওই সনদধারী মোবাসসেরা খাতুন নন। সনদটি রোজি খাতুন নামে আরেকজনের। সনদ জালিয়াতি করে মোবাসসেরা খাতুন নিয়োগ নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা কমিটিরও যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে ‘রহস্যজনক’ কারণে অডিটের সময় এ বিষয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। তাই ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন মোবাসসেরা। তার ইনডেক্স নম্বর- ১০৮৪৩৩। শুরু থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নিচ্ছিলেন যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু গত ১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হলে সত্যতা মেলে বিষয়টির। সে কারণে মোবাসসেরার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও আদেশ জারি হয় আঞ্চলিক শিক্ষা দফতর থেকে। কিন্তু গত বছরের ১ ডিসেম্বর তিনি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামের কাছে ইস্তফাপত্র দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পরবর্তীতে জরুরি সভা ডেকে মোবাসসেরার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সবার সম্মতিক্রমে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে এসব দেখার সুযোগ আমাদের নেই। থানা বা জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমেই এগুলো যাচাই-বাছাই করে একজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা নিশ্চিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের কাছেই সর্বপ্রথমে এসব বিষয় ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এতদিন পর এসে এমন অযাচিত বিষয় সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার।’

ইস্তফার বিষয়ে জানার জন্য মোবাসসেরা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক শিক্ষা দফতরের উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলছেন, ‘শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় কোনো শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নেবেন, এটি সমাজ-রাষ্ট্র আশা করে না। স্বেচ্ছায় তিনি চাকরি ছাড়তে পারেন। তবে তার জালিয়াতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশনা দেবেন সেটিই আমাদের কাছে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।’