ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




কর্মসূচির দাবিতে সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হইচই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ২০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বক্তব্য শুরু করলে মিলনায়তনের দর্শকসারি থেকে নেতাকর্মীরা হৈ-চৈ শুরু করেন।

এ সময় তারা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘জেলের তালা ভাঙতে হবে, খালেদা জিয়াকে আনতে হবে’-এ ধরনের নানা স্লোগান দেন।এক পর্যায়ে মওদুদ আহমদ বক্তব্য না দিয়ে কর্মীদের স্লোগান শুনেন।

পরে স্লোগান শেষ হলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বুধবার কোর্টে আনার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। এই কথাই বলতে চাচ্ছিলাম। আর স্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে চান না? খালেদা জিয়ার কথা শুনতে চান না? তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব না। সুপরিকল্পিত আন্দোলন দিতে হবে। যাতে এবার আমরা পরাজিত না হই। আর বেগম জিয়ার মুক্তি হবে আমাদের এক নাম্বার এজেন্ডা’।

তখন মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে কর্মীদের বলতে শোনা যায়, ‘হল খালি কেন? কেন নেতাকর্মীরা সভায় আসেন নি’।

পরে সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করার জন্য তাদের বিচার করা হবে’ এ সময় দর্শকসারি থেকে নেতাকর্মীরা ফের হৈ-চৈ শুরু করেন।

তারা বলেন, ‘কর্মসূচি দেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কর্মসূচি দেয়া হবে’।

মহাসচিবের বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি নানা স্লোগান আবারও দিতে শুরু করেন।

তখন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান। চাইলেই কর্মসূচি দেয়া যায় না। কর্মসূচি পালন করতে হবে। কথা শুনেন’। কর্মীরা তখন বলেন, ‘হয়তো কর্মসূচি দেন, না হয় বিএনপি ভেঙে দেন।’

তখন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বন্ধুগণ, আপনাদের যে ক্ষোভ ও ব্যথা-এটা আমরা বুঝি। কিন্তু আপনাদের বুঝিতে হবে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যখন গণতান্ত্রিক শক্তি লড়াই করে তখন অতি সহজে সফলতা অর্জন করা যায় না। কেন বলছেন আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা ব্যর্থ হন নাই। আজকে আপনারা বিজয়ী হয়েছেন। দেশ ও বিশ্বের কাছে প্রকাশ হয়েছে, এটা ফ্যাসিবাদি শক্তি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, নবী উল্লাহ নবী, শফিউল বারী বাবু, ইয়াসীন আলী প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




কর্মসূচির দাবিতে সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হইচই

আপডেট সময় : ১০:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বক্তব্য শুরু করলে মিলনায়তনের দর্শকসারি থেকে নেতাকর্মীরা হৈ-চৈ শুরু করেন।

এ সময় তারা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘জেলের তালা ভাঙতে হবে, খালেদা জিয়াকে আনতে হবে’-এ ধরনের নানা স্লোগান দেন।এক পর্যায়ে মওদুদ আহমদ বক্তব্য না দিয়ে কর্মীদের স্লোগান শুনেন।

পরে স্লোগান শেষ হলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বুধবার কোর্টে আনার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। এই কথাই বলতে চাচ্ছিলাম। আর স্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে চান না? খালেদা জিয়ার কথা শুনতে চান না? তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব না। সুপরিকল্পিত আন্দোলন দিতে হবে। যাতে এবার আমরা পরাজিত না হই। আর বেগম জিয়ার মুক্তি হবে আমাদের এক নাম্বার এজেন্ডা’।

তখন মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে কর্মীদের বলতে শোনা যায়, ‘হল খালি কেন? কেন নেতাকর্মীরা সভায় আসেন নি’।

পরে সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করার জন্য তাদের বিচার করা হবে’ এ সময় দর্শকসারি থেকে নেতাকর্মীরা ফের হৈ-চৈ শুরু করেন।

তারা বলেন, ‘কর্মসূচি দেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কর্মসূচি দেয়া হবে’।

মহাসচিবের বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি নানা স্লোগান আবারও দিতে শুরু করেন।

তখন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান। চাইলেই কর্মসূচি দেয়া যায় না। কর্মসূচি পালন করতে হবে। কথা শুনেন’। কর্মীরা তখন বলেন, ‘হয়তো কর্মসূচি দেন, না হয় বিএনপি ভেঙে দেন।’

তখন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বন্ধুগণ, আপনাদের যে ক্ষোভ ও ব্যথা-এটা আমরা বুঝি। কিন্তু আপনাদের বুঝিতে হবে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যখন গণতান্ত্রিক শক্তি লড়াই করে তখন অতি সহজে সফলতা অর্জন করা যায় না। কেন বলছেন আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা ব্যর্থ হন নাই। আজকে আপনারা বিজয়ী হয়েছেন। দেশ ও বিশ্বের কাছে প্রকাশ হয়েছে, এটা ফ্যাসিবাদি শক্তি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, নবী উল্লাহ নবী, শফিউল বারী বাবু, ইয়াসীন আলী প্রমুখ।