ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার! Logo ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সংস্কার শুরু Logo বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির দাবিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের মানববন্ধন Logo কুবি উপাচার্যের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে শিক্ষক সমিতির সাত দিনের আল্টিমেটাম




বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদ আর নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২০ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতা:

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদ, বীর উত্তম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজ শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান জানানোর পর তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, মহান মুক্তিযুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ‌‘কিলো ফ্লাইটের’ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ক্যাপটেন আকরাম আহমেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আকরাম আহমেদের পৈতৃক বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার গাছঘাট গ্রামে। তার বাবার নাম মেজবাউদ্দীন আহমেদ এবং মায়ের নাম মাফিয়া খাতুন।

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ভিদ রক্ষা (প্ল্যান্ট প্রটেকশন) বিভাগে কাজ করতেন আকরাম আহমেদ। সেই সময় আকাশ থেকে বনে ওষুধ ছিটিয়ে পোকা দমনের জন্য উদ্ভিদ রক্ষা বিভাগের নিজস্ব বিমান (ক্রপ ডাস্টার) ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে ঢাকা থেকে পালিয়ে তিনি ভারতে যান। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং গঠন করা হলে তাতে অংশ নেন আকরাম আহমেদ।

তিনি চট্টগ্রাম ও সিলেটের নানা স্থানে ১২টির মতো আক্রমণে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে চট্টগ্রামের তেলের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়েছিল মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং, তখন সেই বিমানের পাইলট ছিলেন আকরাম আহমেদ। একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রু সেনা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ক্ষতিসাধনে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন যে ৯ জন, আকরাম আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদ আর নেই

আপডেট সময় : ১০:৫১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২০

বিশেষ সংবাদদাতা:

বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদ, বীর উত্তম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজ শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান জানানোর পর তার মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, মহান মুক্তিযুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ‌‘কিলো ফ্লাইটের’ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন আকরাম আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ক্যাপটেন আকরাম আহমেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আকরাম আহমেদের পৈতৃক বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার গাছঘাট গ্রামে। তার বাবার নাম মেজবাউদ্দীন আহমেদ এবং মায়ের নাম মাফিয়া খাতুন।

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ভিদ রক্ষা (প্ল্যান্ট প্রটেকশন) বিভাগে কাজ করতেন আকরাম আহমেদ। সেই সময় আকাশ থেকে বনে ওষুধ ছিটিয়ে পোকা দমনের জন্য উদ্ভিদ রক্ষা বিভাগের নিজস্ব বিমান (ক্রপ ডাস্টার) ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে ঢাকা থেকে পালিয়ে তিনি ভারতে যান। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং গঠন করা হলে তাতে অংশ নেন আকরাম আহমেদ।

তিনি চট্টগ্রাম ও সিলেটের নানা স্থানে ১২টির মতো আক্রমণে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে চট্টগ্রামের তেলের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়েছিল মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং, তখন সেই বিমানের পাইলট ছিলেন আকরাম আহমেদ। একাত্তর সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রু সেনা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ক্ষতিসাধনে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন যে ৯ জন, আকরাম আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম।