ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ




প্রাইভেট কারের চালক থেকে সচিবালয় বিটের কোটিপতি সাংবাদিক!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রবাসে গিয়েছিলেন শ্রমিক ভিসায়, ফিরে এসে মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন, নেই কোন একাডেমিক শিক্ষা সনদ, অথচ হঠাৎ করেই সাংবাদিক হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে তার পরিচয় সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিটের সাংবাদিক হিসেবে। সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সব কাজ যেন তার বাঁহাতের খেল।  নিজেকে বিভিন্ন দৈনিকে র গুরুত্বপূর্ণ পদের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর সরকারি সব দপ্তরে।

গাজীপুর কাপাসিয়ার প্রবাসী শ্রমিক এম এ সালাম শান্ত কয়েক বছর আগে প্রবাসী শ্রমিকের কাজ করে দেশে ফিরে আসেন, পরবর্তীতে রাজধানীতে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার চালাতেন। তার কিছুদিন পরই হঠাৎ সাংবাদিক বনে যান এম এ সালাম শান্ত নামের এই কথিত প্রতারক সাংবাদিক। দেশের মন্ত্রী আমলা থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সেলফি তুলে নিজেকে তাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে জাহির করার পাশাপাশি দেশের পত্রিকা টেলিভিশন সহ যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুলের তোড়া হাতে আমন্ত্রণ ছাড়াই তার সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। এমনকি নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাবি করা এম এ সালাম শান্ত’র মূলত কোন একাডেমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। দেশের কিছু দৈনিকে অর্থ ব্যয় করে ম্যানেজ করে নেন সচিবালয় বিটের পিআইডি কার্ড বাগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের করে নেন এই কথিত সাংবাদিক। আইডি কার্ড সুবিধা ব্যবহার করে সচিবালয় তদবিরের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কথিত সাংবাদিক এম এ সালাম শান্ত। অসংখ্য স্থান থেকে তদবিরের অর্থ বিনিময়ের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সচিবালয় সম্পৃক্ত সকল প্রকার তদবির যেন তার বাঁহাতের খেল। বদলি সরকারি চাকরি দেওয়া সহ সকল প্রকার বদলি তার একমাত্র নেশা ও পেশা আর এসব করি তিনি কোটিপতি বনে গেছেন।

কথিত এই প্রতারক ইতিমধ্যে সাংবাদিক একটি অনলাইন পোর্টালের প্রকাশক হিসেবে নিজেকে জাহির করেছেন। কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় অনুমতি ব্যতিরেকে উক্ত পোর্টালের নামে পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে যার কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে রয়েছে।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সম্মানের এই পেশাকে কলুষিত করছে এইসব অশিক্ষিত কথিত সাংবাদিক পরিচয় ধারীরা।

সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ সচিবালয়ের পি আইডি কার্ড এতটা সহজ মূল্য হয় কিভাবে? যেখানে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি কার্ড পেতে অনেক রকম বেগ পোহাতে হয় এবং যা অনেকের ভাগ্যে  জোটে না। অথচ সেই আকাঙ্খিত পি আই ডি কার্ড এমন অশিক্ষিত শ্রমিক ও প্রাইভেটকার চালকরা কিভাবে ম্যানেজ করেন? কত টাকায় মেলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি কার্ড?  চলবে……

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




প্রাইভেট কারের চালক থেকে সচিবালয় বিটের কোটিপতি সাংবাদিক!

আপডেট সময় : ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রবাসে গিয়েছিলেন শ্রমিক ভিসায়, ফিরে এসে মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন, নেই কোন একাডেমিক শিক্ষা সনদ, অথচ হঠাৎ করেই সাংবাদিক হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে তার পরিচয় সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিটের সাংবাদিক হিসেবে। সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সব কাজ যেন তার বাঁহাতের খেল।  নিজেকে বিভিন্ন দৈনিকে র গুরুত্বপূর্ণ পদের পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর সরকারি সব দপ্তরে।

গাজীপুর কাপাসিয়ার প্রবাসী শ্রমিক এম এ সালাম শান্ত কয়েক বছর আগে প্রবাসী শ্রমিকের কাজ করে দেশে ফিরে আসেন, পরবর্তীতে রাজধানীতে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার চালাতেন। তার কিছুদিন পরই হঠাৎ সাংবাদিক বনে যান এম এ সালাম শান্ত নামের এই কথিত প্রতারক সাংবাদিক। দেশের মন্ত্রী আমলা থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সেলফি তুলে নিজেকে তাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে জাহির করার পাশাপাশি দেশের পত্রিকা টেলিভিশন সহ যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফুলের তোড়া হাতে আমন্ত্রণ ছাড়াই তার সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। এমনকি নিজেকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাবি করা এম এ সালাম শান্ত’র মূলত কোন একাডেমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। দেশের কিছু দৈনিকে অর্থ ব্যয় করে ম্যানেজ করে নেন সচিবালয় বিটের পিআইডি কার্ড বাগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের করে নেন এই কথিত সাংবাদিক। আইডি কার্ড সুবিধা ব্যবহার করে সচিবালয় তদবিরের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন কথিত সাংবাদিক এম এ সালাম শান্ত। অসংখ্য স্থান থেকে তদবিরের অর্থ বিনিময়ের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সচিবালয় সম্পৃক্ত সকল প্রকার তদবির যেন তার বাঁহাতের খেল। বদলি সরকারি চাকরি দেওয়া সহ সকল প্রকার বদলি তার একমাত্র নেশা ও পেশা আর এসব করি তিনি কোটিপতি বনে গেছেন।

কথিত এই প্রতারক ইতিমধ্যে সাংবাদিক একটি অনলাইন পোর্টালের প্রকাশক হিসেবে নিজেকে জাহির করেছেন। কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় অনুমতি ব্যতিরেকে উক্ত পোর্টালের নামে পত্রিকা ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে যার কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে রয়েছে।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের অভিমত, সম্মানের এই পেশাকে কলুষিত করছে এইসব অশিক্ষিত কথিত সাংবাদিক পরিচয় ধারীরা।

সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ সচিবালয়ের পি আইডি কার্ড এতটা সহজ মূল্য হয় কিভাবে? যেখানে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি কার্ড পেতে অনেক রকম বেগ পোহাতে হয় এবং যা অনেকের ভাগ্যে  জোটে না। অথচ সেই আকাঙ্খিত পি আই ডি কার্ড এমন অশিক্ষিত শ্রমিক ও প্রাইভেটকার চালকরা কিভাবে ম্যানেজ করেন? কত টাকায় মেলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি কার্ড?  চলবে……