সাধারণ শিক্ষকদের আন্দোলনে শুইয়ে আয়েশি সময় কাটাচ্ছেন নেতারা

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৪৬ অপরাহ্ণ, ২৩ নভেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সাধারণ শিক্ষকদের রাস্তায় রেখে আরামে অবস্থান করছে তাদেরকে ডেকে নিয়ে আসা ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি নামের সংগঠনের নেতারা। করোনাকালে শারীরিক দূরত্ব মানার কথা থাকলেও গাদাগাদি করে সড়কে ঘুমাচ্ছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর শীতের শুরুতেই স্বতন্ত্র মাদরাসার সাধারণ শিক্ষকদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর অবস্থান কর্মসূচির নামে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাদের রাখা হয়। শীত আর ধুলোবালির সঙ্গে তাদের রাত কাটালেও সংগঠনের নেতারা আরামে থাকেন অফিস কিংবা হোটেলে। শিক্ষকদের সঙ্গে রাস্তায় থাকেন না তারা।

শিক্ষকদের অনেকে ঢাকায় নতুন আসায় খাওয়া-দাওয়া, গোসলসহ প্রকৃতির ডাকেও সারা দিতেও কষ্ট হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে আরো জানা গেছে, আট/নয় দিন ধরে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে সকাল থেকে রাত ৯-১০ টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকদের রাস্তায় রেখে নেতারা চলে যান যার যার নিরাপদ স্থানে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমিতির কার্যক্রম নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে সাধারণ শিক্ষকরা। তারা জানে না এই সমিতির অফিস কোথায়, সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটিতেই বা কারা রয়েছে। সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও সাধারণ শিক্ষকরা টাকাও দেন না। এই সমিতির অর্থের উৎস কোথায়, সেটা নিয়েও তাদের মাথা ব্যথা নেই। তারা চায় তাদের প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হোক।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির নেতাদের ডাকে সারা দিয়ে ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি বলেন, যখনই সমিতির মহাসচিব মোখলেছুর রহমান আমাদের ডাকেন তখনই আমরা আসি। এখন তিনি কোথায় আছেন আমি বলতে পারবো না।

জামালপুর থেকে এসেছেন আনোয়ার হোসেন। তিনি জামালপুর জেলার সভাপতি। তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতের সময় আমি আসতে চাই না। আমার ঠান্ডা জনিত সমস্যা আছে। বাধ্য হয়ে আসতে হয় আমাদের।

বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা শাহাদাত হোসেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির অফিস চিনেন না। প্রথমে তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের এখানে অফিস এরপর আবার বলেন, তোপখানার পাঁচ তলায় অফিস। হোটেল সম্রাটের পাঁচ তলায় অফিস। হোটেল কায়রোর তিন তলায় অফিস বলে জানান জামালপুরের আনোয়ার। তবে এসব হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি নামে কোনো অফিস নেই।

পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে এসেছেন বেলায়েত হোসেন। তিনি অফিস চিনেন বলে দাবি করে বলেন সংগঠন পরিচালনার জন্য কোনো চাঁদা আমি দেই না। কাদের অর্থায়নের এই সংগঠন চলে তাও আমরা জানি না। দাবি আদায়ের জন্য এখানে আমরা এখানে আসছি। ক্ষমতাসীন সরকার বারবার আমাদের ধোঁকা দেয়। বারবার আশ্বাস দিয়ে আমাদের ফিরায়। ১৮ সালে আমরা এখনে একটানা ১৬ দিন অবস্থান ধর্মঘট করেছি। সেখানে সরকারের শিক্ষা সচিব আমাদের আশ্বাস দিলে আমরা তার ফল পাইনি।

গাইবান্ধা থেকে আসা সামছুল হকও বলতে পারছে না কাদের টাকায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি চলছে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে আসা সহকারি মৌলভী আবু হানিফ জানায় তাদের অফিস মগবাজার। সে কখনো অফিসে যাননি। সংগঠনের সভাপতি নাম কি জানতে চাইলে সে বলে মোখলেসুর রহমান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, সংগঠনটির অফিস ২৩/১-এ তোপখানা রোডের ৫ তলায়।

সংগঠনের দফতর সম্পাদক ইমতিয়াজ বিন হাকিমের সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো কি তা তিনি জানেন না। কয়েক দশক ধরে ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আন্দোলন করে আসলেও সংগঠনটি নিবন্ধন নেই, নেই গঠনতন্ত্রও।

সাধারণ শিক্ষকদের রাস্তায় রেখে সংগঠনের নেতাদের আরামের বিষয়ে কথা বলার জন্য স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতি মহাসচিব দাবি করা মোখলেছুর রহমানের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র – ব্রেকিংনিউজ

আপনার মতামত লিখুন :