পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ তবু্ও বহাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৭ অপরাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

এইচ আর শফিক: দুর্নীতির পাহাড় মাথায় নিয়েও বহাল তবিয়তে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। দেশের গণমাধ্যমে ফলাও করে তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির সংবাদ প্রচার করার পরও অদৃশ্য শক্তি সব দপ্তরকে ম্যানেজ করেই বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই প্রকৌশলী।

গণপূর্ত অধিদপ্তর এর অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী (গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়) মো. আশরাফুল আলমকে প্রধান প্রকৌশলী করায় অধিদপ্তর অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশরাফুল আলম একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তার সঙ্গে একাধিক ঠিকাদারের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। যাদের কাছ থেকে তিনি কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে আর্থিক সূবিধা নিয়ে থাকেন। এ রকম একজন ঠিকাদার রিন্টু আনোয়ার। যিনি বহুল আলোচিত গ্রেফতারকৃত জি কে শামিমের খুবই ঘনিষ্ঠজন। আশরাফুল আলম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে রংপুর জোনে থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন মোটা অংকের লেনদেন করেছেন। তাকে এ পদে পদোন্নতিতে তখন সহযোগিতা করেছেন রিন্টু আনোয়ার। আশরাফুল আলমকে পদোন্নতি পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের লেনদেনের বিষয়ে দুই ঠিকাদরের মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামাও করা হয়। এদিকে সম্প্রতি মিরপুরে ৫টি মেগা প্রকল্প থেকে কয়েক কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ ওঠে এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত চলাকালেই গত ৩১ ডিসেম্বর গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান আশরাফুল আলম। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প (১৩৩ কোটি টাকার) বাস্তবায়নে ১৩ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনেও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আশরাফুল ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির তথ্য উল্লেখ আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আশরাফুল ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে গত বছরের (২০১৯) আগস্টে। আশরাফুল ও তার স্ত্রীর কাছে সম্পদের বিবরণী চেয়ে গত ৯ জানুয়ারি নোটিশ পাঠায়।

একনেক ও আইএমইডির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি আশরাফুল আলম। তবে দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে কেউ অভিযোগ দিলেই দুদক চিঠি পাঠায়। অনুসন্ধানের পর বোঝা যাবে তারা কী চায়, আর কী পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।’ বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ১৯৯৫ সালে গণপূর্ত অধিদফতরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌলী, ২০০৭ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৬ সালে তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী, ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ- ১, মেডিক্যাল কলেজ ডিভিশন, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল এবং রংপুর গণপূর্ত জোনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত বছরের আগস্টে আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রী সাবিনা আলমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এই অনুসন্ধান করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মেফতাহুল জান্নাত।

তখন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। দুদকে দায়ের করা অভিযোগ মতে, কথিত যুবলীগ নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম সিন্ডিকেটের ১৫ ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসূত্র আছে আশরাফুল আলমের। ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন পান তিনি। গণপূর্ত অধিদফতরের শেরেবাংলা নগর ডিভিশন-১ এ একসময় নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন আশরাফুল আলম। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৮ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি থেকে ২০০৯ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসে ৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে ৩শ’ জনকে ভাউচারভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

আপনার মতামত লিখুন :