ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

রাজনীতিতে ‘আসছেন’ বিদিশা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০ ২৩২ বার পড়া হয়েছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্টঃ জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতিতে আসছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। এতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মৌন সম্মতি রয়েছে। বিদিশার রাজনীতিতে আসার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরের তৃণমূলের নেতারাও। ফলে সময়-সুযোগ বুঝে যে কোনো সময় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটতে পারে বিদিশার। জাতীয় পার্টির একাধিক ‍সূত্রে এমনটি জানা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে বিদিশার সম্পর্ক এখন গভীর। তিনিও চাইছেন জাতীয় পার্টির ছায়াতলে আসুক বিদিশা। বিভিন্ন বিষয়ে রওশন এরশাদ বিদিশার সঙ্গে নিয়মিত আলাপচারিতাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফোন করে দুজন দুজনার খোঁজ-খবরও রাখছেন।

বিদিশার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘বিদিশাকে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাপা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। সেই থেকে বিদিশা জাতীয় পার্টির সঙ্গে নেই। এরপরও যদি তিনি নিয়ম-কানুন মেনে আসতে চান তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় পার্টি সবার দল, সব মানুষের দল। যে কেউ যে কোনো সময় জাতীয় পার্টিতে আসতে পারেন।’
বিজ্ঞাপন

এদিকে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরের নেতাকর্মীরাও চাইছেন বিদিশা রাজনীতিতে আসুক। রংপুরের মেয়র ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদিশা যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তার জন্য আমাদের গ্রিন সিগন্যাল আছে।’

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজনীতি কখন কে আসবে-যাবে তা বলা মুশকিল। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা যদি রাজনীতিতে আসতে চান তাহলে তাকে স্বাগত জানাব। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইছেন তিনি রাজনীতিতে আসুক।’

তবে বিদিশার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাজনীতিতে তার আসার কোনো সম্ভাবনা এখনও নেই, ভবিষ্যতেও হবে না। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তার কোনো প্রয়োজনও দেখছি না।’

তবে বিদিশা বলেন, ‘কে রাজনীতিতে আসবে আর কে আসবে না এ বিষয়ে জি এম কাদের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন। জনগণ যদি আমাকে চান আর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চান তাহলে অবশ্যই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারি।’

বিদিশা আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারও একার সম্পত্তি নয়। এখানে জি এম কাদেরের একক আধিপত্য নিশ্চয় চলবে না। জি এম কাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন। আজকে জাতীয় পার্টির যে অবস্থা তার জন্য তিনি দায়ী। পার্টিতে ন্যূনতম গণতন্ত্র নেই।’

‘আমরা চাই জাতীয় পার্টিতে তারুণ্য নির্ভর রাজনীতি আসুক, গণতন্ত্রের ধারার রাজনীতি আসুক। তৃণমূল যদি আমাকে চায় তাহলে আমি এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে রাজি আছি’ বলেন বিদিশা সিদ্দিক।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশাকে তালাক দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় জাতীয় পার্টির সদস্যপদ থেকে বিদিশাকে বাদ দেওয়া হয়। তালাক হওয়ার পর ছেলে এরিখ এরশাদকে নিয়ে ছিলেন বিদিশা।

গতবছর এরশাদের মৃত্যু হওয়ার কিছুদিন পর ছেলে এরিখকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে বসবাস শুরু করছেন বিদিশা। এরশাদ ট্রাস্ট থেকে অর্জিত আয়ে এরিখের খরচ নির্বাহ করা হয়।

২০১৯ সালে এরশাদ নিজের নামে ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুও আগে তার সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে উইল করে যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রাজনীতিতে ‘আসছেন’ বিদিশা

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

স্পেশাল করেসপন্ডেন্টঃ জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতিতে আসছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। এতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মৌন সম্মতি রয়েছে। বিদিশার রাজনীতিতে আসার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরের তৃণমূলের নেতারাও। ফলে সময়-সুযোগ বুঝে যে কোনো সময় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটতে পারে বিদিশার। জাতীয় পার্টির একাধিক ‍সূত্রে এমনটি জানা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে বিদিশার সম্পর্ক এখন গভীর। তিনিও চাইছেন জাতীয় পার্টির ছায়াতলে আসুক বিদিশা। বিভিন্ন বিষয়ে রওশন এরশাদ বিদিশার সঙ্গে নিয়মিত আলাপচারিতাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফোন করে দুজন দুজনার খোঁজ-খবরও রাখছেন।

বিদিশার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘বিদিশাকে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাপা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। সেই থেকে বিদিশা জাতীয় পার্টির সঙ্গে নেই। এরপরও যদি তিনি নিয়ম-কানুন মেনে আসতে চান তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় পার্টি সবার দল, সব মানুষের দল। যে কেউ যে কোনো সময় জাতীয় পার্টিতে আসতে পারেন।’
বিজ্ঞাপন

এদিকে জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরের নেতাকর্মীরাও চাইছেন বিদিশা রাজনীতিতে আসুক। রংপুরের মেয়র ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদিশা যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তার জন্য আমাদের গ্রিন সিগন্যাল আছে।’

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজনীতি কখন কে আসবে-যাবে তা বলা মুশকিল। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা যদি রাজনীতিতে আসতে চান তাহলে তাকে স্বাগত জানাব। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইছেন তিনি রাজনীতিতে আসুক।’

তবে বিদিশার রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাজনীতিতে তার আসার কোনো সম্ভাবনা এখনও নেই, ভবিষ্যতেও হবে না। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে তার কোনো প্রয়োজনও দেখছি না।’

তবে বিদিশা বলেন, ‘কে রাজনীতিতে আসবে আর কে আসবে না এ বিষয়ে জি এম কাদের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন। জনগণ যদি আমাকে চান আর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চান তাহলে অবশ্যই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারি।’

বিদিশা আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারও একার সম্পত্তি নয়। এখানে জি এম কাদেরের একক আধিপত্য নিশ্চয় চলবে না। জি এম কাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন। আজকে জাতীয় পার্টির যে অবস্থা তার জন্য তিনি দায়ী। পার্টিতে ন্যূনতম গণতন্ত্র নেই।’

‘আমরা চাই জাতীয় পার্টিতে তারুণ্য নির্ভর রাজনীতি আসুক, গণতন্ত্রের ধারার রাজনীতি আসুক। তৃণমূল যদি আমাকে চায় তাহলে আমি এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে রাজি আছি’ বলেন বিদিশা সিদ্দিক।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশাকে তালাক দেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় জাতীয় পার্টির সদস্যপদ থেকে বিদিশাকে বাদ দেওয়া হয়। তালাক হওয়ার পর ছেলে এরিখ এরশাদকে নিয়ে ছিলেন বিদিশা।

গতবছর এরশাদের মৃত্যু হওয়ার কিছুদিন পর ছেলে এরিখকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে বসবাস শুরু করছেন বিদিশা। এরশাদ ট্রাস্ট থেকে অর্জিত আয়ে এরিখের খরচ নির্বাহ করা হয়।

২০১৯ সালে এরশাদ নিজের নামে ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুও আগে তার সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে উইল করে যান।