ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ Logo কবি আকাশমণির রোমান্টিক লেখা “ক্লান্তরা সুখ হয়ে ওঠে” Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের

গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি; জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সদরের শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে মোবাইলে মিসড কল আসার অভিযোগ তুলে স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে (২০) লিচুর গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার নিড়ানি গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বামী সাকিল হোসেন (২৪) ও ভাসুর আসলাম হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

পুলিশ ও মেয়ের বাবার দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে শাকিল হোসেনের সঙ্গে খাদিজা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন অজুহাতে মেয়ের উপর নির্যাতন করত এবং দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এরই ধারাবাহিকতায় মোবাইলে মিসড কল আসার অপরাধে স্বামী শাকিল, তার বড় ভাই আসলাম ((৩৫), শ্বশুর আব্দুস সালাম (৫৮) ও শাশুড়ি সেলিনা বেগম (৫০) সকলে মিলে মেয়েটিকে দড়ি দিয়ে বাড়ির ভিতর লিচু গাছের সঙ্গে বেঁধে হাত, পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম লোহার ছ্যাঁকা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এক সময় মাথায় আঘাত করলে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলেও বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় কেহ সহজে প্রবেশ করতে পারেননি। মেয়েটির চিৎকার সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ খাদিজা খাতুন বলেন, আমার তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে। আমার বাবা বাড়ি সান্তাহারের পোতা গ্রামে । আমার স্বামী শাকিব হোসেন রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে সহ্য করতে পারছিলেন না। আমার স্বামী ভালো ছিল। শ্বশুর-শাশুড়ির কারণে সে বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করত। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা পরিশোধও করা হয়েছে। বুধবার রাতে বাড়িতে ফিরে কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ওপর এই নির্যাতন চালায়। ওই গৃহবধূ আরও বলেন, স্বামী আমাকে নির্যাতন করে মেরেছে। তবুও স্বামী সংসার করতে চাই। এ কারণে মা-বাবাকে ঘটনাটি জানায়নি।

সাবেক ওর্য়াড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে তার স্বামী প্রায় নির্যাতন করত বলে শুনেছি। বুধবার রাতে বাড়ির দরজা বন্ধ করে গৃহবধূকে লিচু গাছে বেঁধে রেখে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়েছে তার স্বামী। গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। তারা মহল্লার লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ভেতরে ঢুকে গৃহবধূকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান বলেন, গৃহবধূর দুই গালে, দুই হাতে ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তার পরিবার মেয়েটিকে রেফার্ড করে নওগাঁ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, গৃহবধূকে গাছে বেঁধে রেখে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনায় গৃহবধূর বাবা আইয়ুব আলী স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে। মামলা পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুরকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৭:০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

জয়পুরহাট প্রতিনিধি; জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর সদরের শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে মোবাইলে মিসড কল আসার অভিযোগ তুলে স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে (২০) লিচুর গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার নিড়ানি গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বামী সাকিল হোসেন (২৪) ও ভাসুর আসলাম হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

পুলিশ ও মেয়ের বাবার দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে শাকিল হোসেনের সঙ্গে খাদিজা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন অজুহাতে মেয়ের উপর নির্যাতন করত এবং দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এরই ধারাবাহিকতায় মোবাইলে মিসড কল আসার অপরাধে স্বামী শাকিল, তার বড় ভাই আসলাম ((৩৫), শ্বশুর আব্দুস সালাম (৫৮) ও শাশুড়ি সেলিনা বেগম (৫০) সকলে মিলে মেয়েটিকে দড়ি দিয়ে বাড়ির ভিতর লিচু গাছের সঙ্গে বেঁধে হাত, পা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম লোহার ছ্যাঁকা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। এক সময় মাথায় আঘাত করলে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলেও বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় কেহ সহজে প্রবেশ করতে পারেননি। মেয়েটির চিৎকার সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ খাদিজা খাতুন বলেন, আমার তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে। আমার বাবা বাড়ি সান্তাহারের পোতা গ্রামে । আমার স্বামী শাকিব হোসেন রাজমিস্ত্রির কাজ করে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে সহ্য করতে পারছিলেন না। আমার স্বামী ভালো ছিল। শ্বশুর-শাশুড়ির কারণে সে বিভিন্ন সময় আমাকে মারধর করত। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা পরিশোধও করা হয়েছে। বুধবার রাতে বাড়িতে ফিরে কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার ওপর এই নির্যাতন চালায়। ওই গৃহবধূ আরও বলেন, স্বামী আমাকে নির্যাতন করে মেরেছে। তবুও স্বামী সংসার করতে চাই। এ কারণে মা-বাবাকে ঘটনাটি জানায়নি।

সাবেক ওর্য়াড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে তার স্বামী প্রায় নির্যাতন করত বলে শুনেছি। বুধবার রাতে বাড়ির দরজা বন্ধ করে গৃহবধূকে লিচু গাছে বেঁধে রেখে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়েছে তার স্বামী। গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি জানতে পারেন। তারা মহল্লার লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ভেতরে ঢুকে গৃহবধূকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান বলেন, গৃহবধূর দুই গালে, দুই হাতে ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তার পরিবার মেয়েটিকে রেফার্ড করে নওগাঁ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, গৃহবধূকে গাছে বেঁধে রেখে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনায় গৃহবধূর বাবা আইয়ুব আলী স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে। মামলা পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুরকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।