ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বন্ড সুবিধার আড়ালে শত কোটি টাকার কারসাজি, নাটের গুরু কমিশনার আবু ওবায়দা Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

কথা রাখেননি সোনাইমুড়ীর এমপি, ১৬ ফুটের রাস্তা এখন ৬ ফুটে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০ ২০৮ বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল হোসেন টিটু: সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া, সাতরা গ্রামসহ একাধিক গ্রামবাসীর চলাচলে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদের হাতছানি। এই গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বেহাল দশা। প্রতিনিয়তই ঘটছে রিক্সা,ভ্যান সহ অন্যান্য পরিবহন উল্টে মারাত্বক দুর্ঘটনা। চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি সংস্করণ ও পাকা করণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোড় দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। নোয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম তিন বছর পূর্বে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে থানার হাট বাজার আসা-যাওয়া করে থাকেন। এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ নোয়াখালী সদরে যাতায়াত করে। যাতায়াত ব্যাবস্থা খারাপ থাকায় মানুষের অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে বিরম্ভনার শিকার হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা কাদায় ভরে যায়। কোন রিক্সা ভ্যান চলাচল করতে পারে না। এমনকি ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার জন্য একমাত্র স্কুলে যাতায়াত করতেও নানা অসুবিধা হচ্ছে।

ধুলিয়াপাড়া সাতরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়টা মসজিদ, একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রে মালামাল আনা নেওয়া সহ নানা রকম কাজ করতে অনেক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সাতরা গ্রামে থেকে ধুলিয়াপাড়া হাজি বাড়ি পর্যন্ত থেকে এক কিলোমিটার রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্করণ ও পাকাকরণ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন।

সাতরা গ্রামের রিক্সাচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগের মত এখন আর যাত্রী পাইনা, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে যাত্রীরা রিক্সায় উঠে না।রাস্তা দিয়ে দুটি রিক্সা আসা-যাওয়া করতে পারেনা। বৃষ্টি হলে তো রিক্সা বাইরে করিনা। অনেক কষ্টেে করে সংসার চালিয়ে যেতে হয় আমাদেরকে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ করা হোক। আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত হোক।

৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ জসিম বলেন, ১৬ ফুটের রাস্তাটি এখন ছয় থেকে সাত ফুটে পরিণত হয়েছে । দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই রাস্তাটি এক দুই বছর পরে বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম ভাইকে আমরা সরোজমিনে এনে রাস্তাটি দেখিয়েছি তিনি তিন বছর পূর্বে আমাদেরকে অসংখ্য লোকের সামনে এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের করার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সত্যি খুব অবহেলিত। যুগের পর যুগ ধরে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। কেউ দেখার নেই। রাস্তার এ করুন অবস্থার কারণে গ্রামের জনগণের জন্য দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। আমাদের গ্রামের অসুস্থ রোগীরা এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ধুলিয়াপাড়া গিয়ে রিক্সা যোগে থানার হাট বাজার এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ চাটখিলে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয়। আমরা এ কষ্টকর অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, মনজুর রহমান বলেন, আমি এবিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এলাকার মেম্বারকে একাধিকবার বলেছি। প্রতিবারে তারা আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি তারা।

এ ব্যাপারে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ জানায়, IRDC-JMP3 এই প্রকল্পে প্রথমে এই রাস্তার নাম দেওয়া আছে। এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত রাস্তাটি কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম মুঠোফোনে চ্যালেন বিডিকে বলেন, আমরা যে পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকি রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন জন্য। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন এবং সংস্কার করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ টাকাই জেলাশহরে পৌরসভায় খরচ হয়ে যায়। এইজন্যেই গ্রামের অনেক কাজ দেরিতে হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কথা রাখেননি সোনাইমুড়ীর এমপি, ১৬ ফুটের রাস্তা এখন ৬ ফুটে!

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

ইসমাইল হোসেন টিটু: সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া, সাতরা গ্রামসহ একাধিক গ্রামবাসীর চলাচলে রাস্তাটি এখন মরণফাঁদের হাতছানি। এই গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বেহাল দশা। প্রতিনিয়তই ঘটছে রিক্সা,ভ্যান সহ অন্যান্য পরিবহন উল্টে মারাত্বক দুর্ঘটনা। চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি সংস্করণ ও পাকা করণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জোড় দাবী জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। নোয়াখালী ১ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম তিন বছর পূর্বে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে থানার হাট বাজার আসা-যাওয়া করে থাকেন। এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ নোয়াখালী সদরে যাতায়াত করে। যাতায়াত ব্যাবস্থা খারাপ থাকায় মানুষের অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা নিতে বিরম্ভনার শিকার হতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা কাদায় ভরে যায়। কোন রিক্সা ভ্যান চলাচল করতে পারে না। এমনকি ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার জন্য একমাত্র স্কুলে যাতায়াত করতেও নানা অসুবিধা হচ্ছে।

ধুলিয়াপাড়া সাতরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এখানে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছয়টা মসজিদ, একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

এ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র। ভোট কেন্দ্রে মালামাল আনা নেওয়া সহ নানা রকম কাজ করতে অনেক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সাতরা গ্রামে থেকে ধুলিয়াপাড়া হাজি বাড়ি পর্যন্ত থেকে এক কিলোমিটার রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্করণ ও পাকাকরণ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করার জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন।

সাতরা গ্রামের রিক্সাচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগের মত এখন আর যাত্রী পাইনা, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে যাত্রীরা রিক্সায় উঠে না।রাস্তা দিয়ে দুটি রিক্সা আসা-যাওয়া করতে পারেনা। বৃষ্টি হলে তো রিক্সা বাইরে করিনা। অনেক কষ্টেে করে সংসার চালিয়ে যেতে হয় আমাদেরকে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ করা হোক। আমাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত হোক।

৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ জসিম বলেন, ১৬ ফুটের রাস্তাটি এখন ছয় থেকে সাত ফুটে পরিণত হয়েছে । দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই রাস্তাটি এক দুই বছর পরে বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম ভাইকে আমরা সরোজমিনে এনে রাস্তাটি দেখিয়েছি তিনি তিন বছর পূর্বে আমাদেরকে অসংখ্য লোকের সামনে এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের করার আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সত্যি খুব অবহেলিত। যুগের পর যুগ ধরে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। কেউ দেখার নেই। রাস্তার এ করুন অবস্থার কারণে গ্রামের জনগণের জন্য দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। আমাদের গ্রামের অসুস্থ রোগীরা এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ধুলিয়াপাড়া গিয়ে রিক্সা যোগে থানার হাট বাজার এবং সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ চাটখিলে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হয়। আমরা এ কষ্টকর অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, মনজুর রহমান বলেন, আমি এবিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এলাকার মেম্বারকে একাধিকবার বলেছি। প্রতিবারে তারা আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেননি তারা।

এ ব্যাপারে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ জানায়, IRDC-JMP3 এই প্রকল্পে প্রথমে এই রাস্তার নাম দেওয়া আছে। এই প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত রাস্তাটি কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম মুঠোফোনে চ্যালেন বিডিকে বলেন, আমরা যে পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকি রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন জন্য। এই টাকা দিয়ে উন্নয়ন এবং সংস্কার করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ টাকাই জেলাশহরে পৌরসভায় খরচ হয়ে যায়। এইজন্যেই গ্রামের অনেক কাজ দেরিতে হয়। আমি বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।