ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফায়ার সার্ভিসে সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের দুর্নীতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০ ২৮০ বার পড়া হয়েছে
করোনা ভাইরাস মহামারী যেন সাপে বর হল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের। অধিদপ্তরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির নাটের গুরু সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) রেজাউল করিম।

জাহিদ হাসান রেহানঃ  বাংলাদেশ ও সদাসয় সরকার যে মুহূর্তে স্মরণকালের মহামারী করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় জীবনপণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ঠিক সেই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) মো রেজাউল করিম করোনা ভাইরাসের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জানা যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যাবতীয় দেশী ও বিদেশী মালামাল ক্রয় ও বিতরণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্টোরের। কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) যথারীতি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে কোটেশন অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খোলা টেন্ডারের মাধমে ক্রয় করবেন। ৩,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোটেশন এবং ৩,০০,০০০/- টাকার অধিক টাকা পর্যন্ত মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বান বাধ্যতামূলক। সেই সাথে ক্রয়কৃত মালামাল গঠিত কমিটির মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই বাছাই পূর্বক গ্রহণ ও বিতরণ আবশ্যক।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) সরকারী কোষাগার হতে কোটি কোটি টাকা খরচে যে সকল মালামাল ক্রয় করেছেন সেক্ষেত্রে কোন প্রকার আইন কানুন, বিধি বিধান, কোটেশন, টেন্ডার বা নিয়ম পদ্ধতির তোয়াক্কা করা হয় নাই। রেজাউল তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হতে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে কোন প্রকার কোটেশন বা টেন্ডার ব্যতিরেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করিয়া লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাহার এহেন সরকারী অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে এককভাবে সহযোগীতা করেন স্মরণকালের মহা দুর্নীতিবাজ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব হাবিবুর রহমান।

সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) রেজাউল করিম মাত্র কিছুদিন পূর্বে বহু তদবিরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্টোরে বদলী হয়ে আসেন। কেন্দ্রীয় স্টোরে যোগদানের পর হতে তিনি পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব হাবিবুর রহমান এর সাথে আতাত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার দেশী বিদেশী মালামাল ক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে রেজাউল করিম তার অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা দ্বারা জরুরী ভিত্তিতে তার নিজ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ সদরে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রের দূর্বল সময়ে উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদ্বয় সকল আইন কানুন ও বিধি বিধানকে উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার নামে কোন প্রকার কোটেশন, টেন্ডার ও কমিটি গঠন ব্যতীত নিজ দায়িত্বে এবং তাহাদের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠন হতে নিম্ম বর্ণিত কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করেন।

>> মেসার্স সরদার ইন্টারন্যশনাল হতে ১ কোটি টাকার মাস্ক, আই প্রোটেক্টর, প্লাস্টিক লাঞ্চবক্স, ডাস্টবিন, কভারঅল ও স্যুকভার।
>> মেসার্স কাশেম ট্রেডার্স হতে ১ কোটি টাকার ফায়ার হোজর‌্যাম্প, বডিব্যাগ।
>> মেসার্স জাহিদ এন্টার প্রাইজ হতে ২০ লক্ষ টাকার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
>>মেসার্স রুমা গার্মেন্টস হতে ৫০ লক্ষ টকার কভার অল।
>> মেসার্স মানহা এন্টারপ্রাইজ হতে ৩৫ লক্ষ টাকার মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ ইত্যাদি।
>>এফ এ এন্টারপ্রাইজ হতে ২৫ লক্ষ টাকার হ্যান্ড গ্লোবস সহ অন্যান্য।

জানা যায়, উপরোক্ত মালামালের অধিকাংশই স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে নগদ টাকা আনা হয়। তাছাড়া যে সকল মালামাল গ্রহণ করে বিভাগে বিতরন করা হয়েছে তা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কোন গুনগত মান নেই। কেবলমাত্র সরকারী অর্থ লুটপাটের জন্যই এসকল মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। সঠিক তদন্তে আরো কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় ও সরকারী অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধরা পরবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জানান।

এ বিষয়ে রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায় নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ফায়ার সার্ভিসে সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের দুর্নীতি

আপডেট সময় : ০২:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০
করোনা ভাইরাস মহামারী যেন সাপে বর হল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমের। অধিদপ্তরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির নাটের গুরু সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) রেজাউল করিম।

জাহিদ হাসান রেহানঃ  বাংলাদেশ ও সদাসয় সরকার যে মুহূর্তে স্মরণকালের মহামারী করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় জীবনপণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ঠিক সেই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) মো রেজাউল করিম করোনা ভাইরাসের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। জানা যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের যাবতীয় দেশী ও বিদেশী মালামাল ক্রয় ও বিতরণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্টোরের। কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) যথারীতি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে কোটেশন অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খোলা টেন্ডারের মাধমে ক্রয় করবেন। ৩,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোটেশন এবং ৩,০০,০০০/- টাকার অধিক টাকা পর্যন্ত মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বান বাধ্যতামূলক। সেই সাথে ক্রয়কৃত মালামাল গঠিত কমিটির মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই বাছাই পূর্বক গ্রহণ ও বিতরণ আবশ্যক।

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) সরকারী কোষাগার হতে কোটি কোটি টাকা খরচে যে সকল মালামাল ক্রয় করেছেন সেক্ষেত্রে কোন প্রকার আইন কানুন, বিধি বিধান, কোটেশন, টেন্ডার বা নিয়ম পদ্ধতির তোয়াক্কা করা হয় নাই। রেজাউল তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হতে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে কোন প্রকার কোটেশন বা টেন্ডার ব্যতিরেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করিয়া লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাহার এহেন সরকারী অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে এককভাবে সহযোগীতা করেন স্মরণকালের মহা দুর্নীতিবাজ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব হাবিবুর রহমান।

সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক্রয় ও স্টোর) রেজাউল করিম মাত্র কিছুদিন পূর্বে বহু তদবিরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্টোরে বদলী হয়ে আসেন। কেন্দ্রীয় স্টোরে যোগদানের পর হতে তিনি পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব হাবিবুর রহমান এর সাথে আতাত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার দেশী বিদেশী মালামাল ক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে রেজাউল করিম তার অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা দ্বারা জরুরী ভিত্তিতে তার নিজ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ সদরে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

সম্প্রতি রাষ্ট্রের দূর্বল সময়ে উক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদ্বয় সকল আইন কানুন ও বিধি বিধানকে উপেক্ষা করে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার নামে কোন প্রকার কোটেশন, টেন্ডার ও কমিটি গঠন ব্যতীত নিজ দায়িত্বে এবং তাহাদের পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠন হতে নিম্ম বর্ণিত কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করেন।

>> মেসার্স সরদার ইন্টারন্যশনাল হতে ১ কোটি টাকার মাস্ক, আই প্রোটেক্টর, প্লাস্টিক লাঞ্চবক্স, ডাস্টবিন, কভারঅল ও স্যুকভার।
>> মেসার্স কাশেম ট্রেডার্স হতে ১ কোটি টাকার ফায়ার হোজর‌্যাম্প, বডিব্যাগ।
>> মেসার্স জাহিদ এন্টার প্রাইজ হতে ২০ লক্ষ টাকার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
>>মেসার্স রুমা গার্মেন্টস হতে ৫০ লক্ষ টকার কভার অল।
>> মেসার্স মানহা এন্টারপ্রাইজ হতে ৩৫ লক্ষ টাকার মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ ইত্যাদি।
>>এফ এ এন্টারপ্রাইজ হতে ২৫ লক্ষ টাকার হ্যান্ড গ্লোবস সহ অন্যান্য।

জানা যায়, উপরোক্ত মালামালের অধিকাংশই স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে নগদ টাকা আনা হয়। তাছাড়া যে সকল মালামাল গ্রহণ করে বিভাগে বিতরন করা হয়েছে তা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কোন গুনগত মান নেই। কেবলমাত্র সরকারী অর্থ লুটপাটের জন্যই এসকল মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। সঠিক তদন্তে আরো কোটি কোটি টাকার মালামাল ক্রয় ও সরকারী অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধরা পরবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জানান।

এ বিষয়ে রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায় নি।