ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

হালদায় ডলফিন হত্যার অভিযোগ, আড়াই বছরে ২৪ ডলফিনের মৃত্যু!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদঃ  প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মৎস্য অভয়ারণ্য হালদা নদীতে বিপন্ন প্রজাতির একটি ডলফিনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম এলাকার ছায়াচর নামক স্থান হতে ক্ষতবিক্ষত মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার নয়াহাটস্থ হালদার পাড়ে ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

আইডিএফ এর জুনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে হালদার স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে জানতে পারি- একটি হালদার ছায়ারচরে ক্ষতবিক্ষত একটি মৃত ডলফিন পড়ে রয়েছে। এই বিষয়টি আমরা সাথে সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া স্যারকে অবহিত করি। তারই নির্দেশে বিকাল তিনটার দিকে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে আইডিএফ কার্যালয়ে নিয়ে আসি। পরে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সন্ধ্যার দিকে হালদার পাড়ে ডলফিনটি মাটি চাপা দেওয়া হয়। এসব কাজে সহযোগীতা করেন হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, আইডিএফ-এর কর্মী মিমু দাস, স্বেচ্ছাসেবক ডিম সংগ্রহকারী রওশনগীর আলম ও ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উদ্ধারকৃত ডলফিনটির ওজন ৫২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। এই ডলফিনটিকে মাথা বরাবর আড়াআড়িভাবে এবং ঘাড় থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য বরাবর কাটা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এই চিহ্ন বিগত সময়ের মৃত ডলফিনগুলোর চেয়ে একটি নতুন ইংগিত বহন করে।

২০১৭ সালের সেপ্টম্বর হতে ২০২০ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত যে ২৩টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল ঐসব ডলফিনের মৃত্যুর কারণ ছিল ইঞ্জিন চালিত বোট, ড্রেজারের পাকার আঘাতজনিত ও নদী দূষণ। ১৭ দিনপর ২৪ তম ডলফিনের মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জেলের অবৈধ জালে আটকা পরলে ডলফিনটিকে ডাঙ্গায় তোলা হয় এবং কেটে চর্বি নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাটি হালদা নদীর ডলফিন সংরক্ষণের জন্য একটি অশনি সংকেত বলে মনে করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

হালদায় ডলফিন হত্যার অভিযোগ, আড়াই বছরে ২৪ ডলফিনের মৃত্যু!

আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০

সকালের সংবাদঃ  প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মৎস্য অভয়ারণ্য হালদা নদীতে বিপন্ন প্রজাতির একটি ডলফিনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম এলাকার ছায়াচর নামক স্থান হতে ক্ষতবিক্ষত মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার নয়াহাটস্থ হালদার পাড়ে ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

আইডিএফ এর জুনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে হালদার স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে জানতে পারি- একটি হালদার ছায়ারচরে ক্ষতবিক্ষত একটি মৃত ডলফিন পড়ে রয়েছে। এই বিষয়টি আমরা সাথে সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া স্যারকে অবহিত করি। তারই নির্দেশে বিকাল তিনটার দিকে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে আইডিএফ কার্যালয়ে নিয়ে আসি। পরে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সন্ধ্যার দিকে হালদার পাড়ে ডলফিনটি মাটি চাপা দেওয়া হয়। এসব কাজে সহযোগীতা করেন হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, আইডিএফ-এর কর্মী মিমু দাস, স্বেচ্ছাসেবক ডিম সংগ্রহকারী রওশনগীর আলম ও ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উদ্ধারকৃত ডলফিনটির ওজন ৫২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। এই ডলফিনটিকে মাথা বরাবর আড়াআড়িভাবে এবং ঘাড় থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য বরাবর কাটা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এই চিহ্ন বিগত সময়ের মৃত ডলফিনগুলোর চেয়ে একটি নতুন ইংগিত বহন করে।

২০১৭ সালের সেপ্টম্বর হতে ২০২০ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত যে ২৩টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল ঐসব ডলফিনের মৃত্যুর কারণ ছিল ইঞ্জিন চালিত বোট, ড্রেজারের পাকার আঘাতজনিত ও নদী দূষণ। ১৭ দিনপর ২৪ তম ডলফিনের মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জেলের অবৈধ জালে আটকা পরলে ডলফিনটিকে ডাঙ্গায় তোলা হয় এবং কেটে চর্বি নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাটি হালদা নদীর ডলফিন সংরক্ষণের জন্য একটি অশনি সংকেত বলে মনে করি।