করোনা নিয়ে পুলিশ অফিসারের আবেগঘন স্ট্যাটাস!
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২০ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরগুনার পুলিশের ডিআইও ওয়ান আলাউদ্দিন মিলনের করোনা নিয়ে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে। এই স্ট্যাটাসে করোনার থাবায় বৈশ্বিক বর্তমান পরিস্থিতি তুলেছেন তিনি। আমরা তার স্ট্যাটাসটি হুবাহুব তুলে ধরছি।
“করোনায় ভয় নয়- সচেতনতাই হবে জয়” করোনা’র নিস্ঠুর থাবায় বৈশ্বিক পরিস্হিতি যখন বড্ড বেসামাল..তটস্হ.. টালমাটাল, পশ্চিমা দেশগুলো’র ন্যায় বাংলাদেশে অাক্রান্ত’র প্রায় ৯% যখন সন্মুখ সমরের পুলিশযুদ্ধারা……………..।
মৃত্যুর মিছিলে যখন পুলিশের সংখ্যা বেড়েই চলছে দিনান্তর, তবুও যারা থেমে নেই.. কর্তব্য কর্মে যারা সদা অবিচল.., প্রচন্ড ঝড়- বৃস্টি, রৌদ্র খরা অার হাঁড় কাঁপানো শীতে বিনিদ্র রজনী উপেক্ষা করে যারা নিজেদের সুখ সাচ্ছন্দ কে বিসর্জন দিয়ে অাপনজনদের নিয়ে পরম আয়েশে ঘুমন্ত আপনাকে পাহারা দেয়, দুর্দিনে…দৈন্যদশায় যারা অাপনার পাশে থেকে সাহায্যের হাতটি বাড়িয়ে চোখের পানি মুছে দেয়…,
সংকটকালীন হতদরিদ্র’র মাঝে ত্রান বিতরনের অনিয়ম রোধে যারা কঠোর হস্তে নিরলস অতন্দ্র প্রহরীর ভুমিকায়..! দেশ সেবার মহান ব্রতিতে যারা নিজেদের বেতনের টাকায় গরীব অসহায় ও মধ্যবিত্ত-দের ঘরে সকাল -দুপর -রাতে খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন অকাতরে,যারা দুর্দিনে শ্রমিক পাঠিয়ে এমনকি নিজেরা কৃষকের ধান কেটে ফসল ঘরে তুলে দিচ্ছেন,করোনায় মৃতের লাশ রেখে যখন তাঁর স্বজনরা পালায়ে কিংবা দুরত্ব সীমানায়… সেই কঠিন সন্ধিক্ষণে যারা করোনাক্রান্ত মৃতব্যক্তির লাশ কাঁধে নিয়ে যায় শেষ ঠিকানায়,জানাজা পড়ায়,কবর খুঁড়ে দাফন করে…।
প্রিয়তমা স্ত্রী আর আদরের ধন সন্তান… স্বজনদের প্রিয় মুখ গুলো রেখে যারা “শোক কে শক্তিতে অার মনোবল কে বুলেট বানিয়ে “- এগিয়ে যাচ্ছে বীরসেনানী সাহসি যোদ্ধাবেশে….! তারা ই বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য…! আপনাদের ই ভাই- বন্ধু -সন্তান…!!
ঠিক এমনি এক মহুর্তে ভারাক্রান্ত ক্লান্তি সঞ্চয় মনে আমার এ লেখা…… বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর রাস্ট্রীয় ব্যাবস্হা যখন নড়েচড়ে বসলো, প্রশাসনের আদ্যান্তে যখন কঠোর নির্দেশনা বিরাজমান,দায়িত্বাধীন জেলায় বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিদের সংখ্যা যখন প্রায় হাজারের কোঠায়… একটানা রাত-দিন নির্ঘুমে… পার করে তথ্য সংগ্রহপূর্বক প্রবাসীদেরকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখতে অকুতোভয় নির্ভীক হয়ে যখন আমরা করোনা জয়’যুদ্ধে নেমেছি…..
সেই থেকে স্ত্রী আর দুই ছেলের সান্নিধ্য ত্যাগ করে আলাদা রুমে …. ঠিক পলাতকের মতো ক্ষনাবসরের আশ্রয়ে আমি! ছোট’টা তেমন কিছু না বুঝলেও বড়টা’র নানারকম প্রশ্নবানে জর্জরিত (কেন আলাদা রুমে, কেন ওদের কে আগের মতো জড়িয়ে ধরে আদর করিনা ইত্যাদি…) আজ সেহরির সময় জরুরি ডাকে অফিসে গিয়ে কাজ শেষে সকাল ৮ টায় চুপি চুপি ঘরে ঢুকবো ভেবে কলিং সুইচে হাত রাখতে ই… নিজেকে কিছুটা নিরুপায়ের মত অপরাধী মনে হলো এই ভেবে যে…
আমি না হয় পুলিশে জব করি বলে রাত – দিন কাজের ব্যাস্ততায় একাকার, বাট ‘ইননোসেন্ট’ বউটা তো সেহরি- নামাজ শেষে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! কলিং’র ‘ডিসগাস্টিং’ শব্দে দরজা খুলতেই বড় ছেলেটা টের পেয়ে দৌড়ে এসে বাবাকে ঝাপটে ধরতে…. এগুতেই পাশ কেটে দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বরাবরের মতই আলাদা রুমে আমি।
ক্লান্ত শ্রান্ত নির্ঘুম দেহে শুয়ে পড়তেই বন্ধ দরজার ওপাশে ছেলের কান্নার শব্দ…. তাদের “মা” কে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনি ….”বাবা কেন এমন করছে.. কেন এ্যভয়েড করছে…অনেক পুলিশ আংকেলরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে…! বাবা কে আর কিছুতেই অফিসে যেতে দেবনা……দরজার বাইরে দাড়িয়ে যেন আবেগঘন কন্ঠে বলছে.. “বাবা আমাদের তো দাদা- দাদু, নানা -নানু কেউ নেই, তুমি অসুস্হ্য হলে আমরা কার কাছে থাকবো….”!
ছেলের এমনসব কথাগুলো আজ আমাকে মারাত্বকভাবে উদ্বিগ্ন করেছে… বুকটা যেন প্রচন্ড ভারি ফিল করছি, বিষন্নতায় যেন নিজেকে ভারাক্রান্ত করছে… প্রতিনিয়ত! একবছর আগে বাবা কে হারিয়ে….. বছর না ঘুরতেই “মা” কেও! আজ আমি এতিম……! আমার প্রিয় সন্তান দুটো ও যদি……. …?
অজানা আতংকে নি:শব্দে কেঁদেছি…! ওদেরকে বুঝতে না দিয়ে নিজেকে ইস্পাতসম কঠিনভাবে সামলে নিয়ে ভেজা চোখে বলা…. “করোনা থাবায় বাবার যদি কভু হয় ধরাশয়, মা’ কে কস্ট দিওনা সোনা কোন কাজে বা কথায়! বাবার সমাধি’র পাশে নির্বাক দাড়িয়ে………… ফেলোনা কো কভু দু’ভাই চোখের জল, ভেবে নিও সোনা বাবা জরুরি ডিউটিতে………….. দিওনা কখনো ফোনে কল! দোয়া দুরুদ পাঠ করিয়ো…………… তোমরা দু’ভাই ভেজা চোখে করো মুনাজাত, বিধাতার কাছে চিরশায়িত করো বাবাকে………
আল্লাহর কাছে দু’হাত পেতে চেয়ো বাবার নাজাত!! “আসুন সবাই সচেতন হয়ে সামাজিক দুরত্বে থাকি… নিজে বাঁচি…পরিবারকে সুরক্ষিত রাখি” মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন!!