ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

বনবিভাগের ট্রলারেই সুন্দরবনের গাছ কেটে পাচার!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

মোংলা প্রতিনিধি | 

করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে লগডাউনের মধ্যেই দিনে দুপুরে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। খোদ বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ। পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন ঘাগরামারি এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাঁকড়া গাছ ট্রলারযোগে পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। গাছ পাচারকারী তরুন বলেন, এ গাছ তাদের এসও আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।
তবে ঢাংমারী স্টেশনের এসও (স্টেশন কর্মকর্তা) মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন দাবি করে বলেন, ‘ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের স্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরির কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে’। তবে বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নিয়ে আনার সময় ছিল না কোনও বনরক্ষী, ছিল তিনজন পাচারকারী।
এদিকে বনবিভাগের স্থাপনা তৈরির কাজে কোনও গাছ ব্যবহার করতে হলে তাদের জব্দকৃত গাছ ছাড়া ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. এনামুল হক। ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁনের সুন্দরবনের সদ্য গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (এসও আনোয়ার) বলেছেন তাদের স্টেশনের জেটি নির্মাণের জন্য নেয়া হচ্ছিল। তবে সেটি সদ্য কাটা কি-না আমি বলতে পারব না’।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঢাংমারী স্টেশনের আওতায় ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ির ওসি আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে গাছ পাচারসহ নানা রকম অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঢাংমারী স্টেশনের পাশের গ্রাম ভোজন খালীর বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মিস্ত্রি, সাবেক ইউপি মেম্বর মো. আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মন অভিযোগ করে বলেন, এসও আনোয়ার এবং ওসি আব্দুর রউফ তাদের লোক দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়ত সুন্দরী, কাঁকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ পাচার করে। যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও জানান তারা।
আর এসব কাজে ভোজনখালীর বাসিন্দা বাদল ও ট্রলার মাঝি রহিম নামে দু’জন ব্যক্তি বনকর্তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনের কাছে ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁনের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে, বিষয়টি আমি দেখতেছি বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে বন সংরক্ষক খুলনাঞ্চল (সি এফ) মো. মঈন খাঁন বলেন, সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে স্টেশনের কোনও স্থাপনা তৈরি করার কোনও সুযোগ নাই, দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। কোনও কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বনবিভাগের ট্রলারেই সুন্দরবনের গাছ কেটে পাচার!

আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

মোংলা প্রতিনিধি | 

করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে লগডাউনের মধ্যেই দিনে দুপুরে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। খোদ বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ। পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন ঘাগরামারি এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাঁকড়া গাছ ট্রলারযোগে পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বুধবার (৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত করা হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। গাছ পাচারকারী তরুন বলেন, এ গাছ তাদের এসও আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।
তবে ঢাংমারী স্টেশনের এসও (স্টেশন কর্মকর্তা) মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন দাবি করে বলেন, ‘ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের স্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরির কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে’। তবে বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নিয়ে আনার সময় ছিল না কোনও বনরক্ষী, ছিল তিনজন পাচারকারী।
এদিকে বনবিভাগের স্থাপনা তৈরির কাজে কোনও গাছ ব্যবহার করতে হলে তাদের জব্দকৃত গাছ ছাড়া ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. এনামুল হক। ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁনের সুন্দরবনের সদ্য গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (এসও আনোয়ার) বলেছেন তাদের স্টেশনের জেটি নির্মাণের জন্য নেয়া হচ্ছিল। তবে সেটি সদ্য কাটা কি-না আমি বলতে পারব না’।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁন ও ঢাংমারী স্টেশনের আওতায় ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ির ওসি আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে গাছ পাচারসহ নানা রকম অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঢাংমারী স্টেশনের পাশের গ্রাম ভোজন খালীর বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মিস্ত্রি, সাবেক ইউপি মেম্বর মো. আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মন অভিযোগ করে বলেন, এসও আনোয়ার এবং ওসি আব্দুর রউফ তাদের লোক দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়ত সুন্দরী, কাঁকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ পাচার করে। যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও জানান তারা।
আর এসব কাজে ভোজনখালীর বাসিন্দা বাদল ও ট্রলার মাঝি রহিম নামে দু’জন ব্যক্তি বনকর্তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনের কাছে ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খাঁনের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে, বিষয়টি আমি দেখতেছি বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে বন সংরক্ষক খুলনাঞ্চল (সি এফ) মো. মঈন খাঁন বলেন, সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে স্টেশনের কোনও স্থাপনা তৈরি করার কোনও সুযোগ নাই, দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। কোনও কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।