ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক 

চিকিৎসকের অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু, রাত জেগে লাশের পাহারায় বাবা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২০ ২৬৫ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা;  চিকিৎসকের অবহেলায় নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় বিষয়টি জানিয়ে রাতেই নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ দেন মৃতের স্বজনরা। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়েছে। সারারাত মরদেহের পাশে ছিলেন স্বজনরা। মৃতের বাবা ও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মারা যাওয়া প্রসূতি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৩)।

রোজিনার স্বামী আশিক ও বাবা চান্দু মিয়া জানান, আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে রোববার রাতে ১২ হাজার টাকায় রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশনের চুক্তি হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অপারেশনের আগে চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নার্স কেউ বলেননি রোগীর রক্ত লাগবে। অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে রক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ। ততক্ষণে প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ অবস্থায় রোগীকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেয়ার পর রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায়।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায় বলেন, রোজিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালের বারান্দায় তার মরদেহ রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় ওই প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়। হাসপাতালের বারান্দায় মেয়ের মরদেহের পাশে বসে সারারাত কাটিয়ে দেন বাবা চান্দু মিয়া।

বাবা চান্দু মিয়া বলেন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোজিনার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার চাই আমি। তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তারা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে। মৃত্যুর পর মরদেহ অন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই। তাদের শাস্তি না হলে রোজিনার মতো আরও অনেক রোগীর মৃত্যু হবে।

এ বিষয়ে জানতে আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার এবং কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি কেউ। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

চিকিৎসকের অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু, রাত জেগে লাশের পাহারায় বাবা

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২০

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা;  চিকিৎসকের অবহেলায় নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় বিষয়টি জানিয়ে রাতেই নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ দেন মৃতের স্বজনরা। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়েছে। সারারাত মরদেহের পাশে ছিলেন স্বজনরা। মৃতের বাবা ও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মারা যাওয়া প্রসূতি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৩)।

রোজিনার স্বামী আশিক ও বাবা চান্দু মিয়া জানান, আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে রোববার রাতে ১২ হাজার টাকায় রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশনের চুক্তি হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার

অপারেশনের আগে চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নার্স কেউ বলেননি রোগীর রক্ত লাগবে। অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে রক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ। ততক্ষণে প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ অবস্থায় রোগীকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেয়ার পর রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায়।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায় বলেন, রোজিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালের বারান্দায় তার মরদেহ রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় ওই প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়। হাসপাতালের বারান্দায় মেয়ের মরদেহের পাশে বসে সারারাত কাটিয়ে দেন বাবা চান্দু মিয়া।

বাবা চান্দু মিয়া বলেন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোজিনার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার চাই আমি। তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তারা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে। মৃত্যুর পর মরদেহ অন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই। তাদের শাস্তি না হলে রোজিনার মতো আরও অনেক রোগীর মৃত্যু হবে।

এ বিষয়ে জানতে আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার এবং কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি কেউ। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।