ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

উপাচার্যরা দুর্নীতি করলে অবস্থা কী হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

উপাচার্যরা দুর্নীতি করলে অবস্থা কী হবে: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন রিপোর্ট |

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘উপাচার্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। আপনারা নিজেরাই যদি অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী হবে, তা ভেবে দেখবেন।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম সমাবর্তনে শনিবার (১১ জানুয়ারি) তিনি একথা বলেন। সমাবর্তনে ১৩ ব্যাচের প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট অংশ নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে নান্দনিক সাজে সাজানো হয় গোটা ক্যাম্পাস। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পদক প্রদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও সমাবর্তন বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক সমাবর্তন বক্তব্য দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের নকলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকে নকলের বিভিন্ন কথাবার্তা শোনা যায়। আমার লজ্জা হয়, যখন শুনি শিক্ষকরা নকল সাপ্লাই করেন। অনেক জায়গায় শোনা যায় ছাত্রদের মা-বাবা পর্যন্ত নকল সাপ্লাই করেন। এর চেয়ে কলঙ্কজনক, দুঃখজনক, হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। আসলে তাদের কী করে শায়েস্তা করা যায়, এটা আমি ভাষায় বলতে পারছি না, তাদের কি বলবো। মনডা চায়.. আর কইলাম না, বুইঝা নিতে হবে।’
নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে আমি ছিলাম গোটা পাকিস্তানে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। সত্তরের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যেতে পারিনি।’
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার সমালোচনা করে আচার্য বলেন, ‘একশ্রেণির শিক্ষক রয়েছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। অনেক সময় সান্ধ্যকালীন কোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে সপ্তাহব্যাপী ব্যস্ত সময় কাটান। এ সব কাজকর্মে তারা খুবই আন্তরিক।’

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে সবাইকে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় সাত বছর ধরে জেলখানার মতো বঙ্গভবনে আছি। রাস্তায় স্বাধীনভাবে হাঁটা-চলার সুযোগ নেই। তবে টেলিভিশনে দেখি, ওভারপাস আছে অথচ রিস্ক নিয়ে সমানে নিচ দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে। ডিসিপ্লিন না মানলে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। তোমাদের প্রতি অনুরোধ, মানুষকে এ ব্যাপারে বোঝাও। এভাবে যত্রতত্র রাস্তা ক্রস করা ঠিক নয়। যেখানে ব্যবস্থা নেই সেখানে অন্য কথা। সবাইকে নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।’
সমাবর্তনে স্নাতক ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯ জন, এমফিল ১১ জন, পিএইচডি ছয়জন, ইভিনিংয়ের ১ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
জানা যায়, জবি প্রতিষ্ঠার ২০০৫ সাল থেকে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও সন্ধ্যা কোর্সের শিক্ষার্থীরা যারা অন্ততপক্ষে একটি ডিগ্রি জবি থেকে অর্জন করেছেন, তারা এতে অংশগ্রহণ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

উপাচার্যরা দুর্নীতি করলে অবস্থা কী হবে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০

অনলাইন রিপোর্ট |

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘উপাচার্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। আপনারা নিজেরাই যদি অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী হবে, তা ভেবে দেখবেন।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রথম সমাবর্তনে শনিবার (১১ জানুয়ারি) তিনি একথা বলেন। সমাবর্তনে ১৩ ব্যাচের প্রায় ১৯ হাজার গ্র্যাজুয়েট অংশ নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে নান্দনিক সাজে সাজানো হয় গোটা ক্যাম্পাস। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।
সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
পদক প্রদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও সমাবর্তন বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক সমাবর্তন বক্তব্য দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের নকলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকে নকলের বিভিন্ন কথাবার্তা শোনা যায়। আমার লজ্জা হয়, যখন শুনি শিক্ষকরা নকল সাপ্লাই করেন। অনেক জায়গায় শোনা যায় ছাত্রদের মা-বাবা পর্যন্ত নকল সাপ্লাই করেন। এর চেয়ে কলঙ্কজনক, দুঃখজনক, হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না। আসলে তাদের কী করে শায়েস্তা করা যায়, এটা আমি ভাষায় বলতে পারছি না, তাদের কি বলবো। মনডা চায়.. আর কইলাম না, বুইঝা নিতে হবে।’
নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমি ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে আমি ছিলাম গোটা পাকিস্তানে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। সত্তরের ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যেতে পারিনি।’
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার সমালোচনা করে আচার্য বলেন, ‘একশ্রেণির শিক্ষক রয়েছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। অনেক সময় সান্ধ্যকালীন কোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে সপ্তাহব্যাপী ব্যস্ত সময় কাটান। এ সব কাজকর্মে তারা খুবই আন্তরিক।’

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে সবাইকে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রায় সাত বছর ধরে জেলখানার মতো বঙ্গভবনে আছি। রাস্তায় স্বাধীনভাবে হাঁটা-চলার সুযোগ নেই। তবে টেলিভিশনে দেখি, ওভারপাস আছে অথচ রিস্ক নিয়ে সমানে নিচ দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে। ডিসিপ্লিন না মানলে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। তোমাদের প্রতি অনুরোধ, মানুষকে এ ব্যাপারে বোঝাও। এভাবে যত্রতত্র রাস্তা ক্রস করা ঠিক নয়। যেখানে ব্যবস্থা নেই সেখানে অন্য কথা। সবাইকে নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।’
সমাবর্তনে স্নাতক ১১ হাজার ৮৭৭ জন, স্নাতকোত্তর ৪ হাজার ৮২৯ জন, এমফিল ১১ জন, পিএইচডি ছয়জন, ইভিনিংয়ের ১ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
জানা যায়, জবি প্রতিষ্ঠার ২০০৫ সাল থেকে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ও সন্ধ্যা কোর্সের শিক্ষার্থীরা যারা অন্ততপক্ষে একটি ডিগ্রি জবি থেকে অর্জন করেছেন, তারা এতে অংশগ্রহণ করছেন।