ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আইনজীবীকে মেরে, হাতকড়া পরিয়ে লকআপে পাঠালেন এসআই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ী প্রতিনিধি |

দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে দায়ের মামলায় আপস না করায় এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ মোড় কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাসুদুর রহমান শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাজমুল হককে তার ভাইয়ের জমি বিক্রির বিষয়ে দায়ের পিএমশান (অগ্রক্রয়) মামলা তুলে নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে বলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এসআই ফোনে তার অবস্থান জেনে নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এসআই মাসুদ পুলিশ কনস্টেবল রবিউলসহ একটি মোটরসাইকেলে গোয়ালন্দ মোড় কাঁচা বাজারে পৌঁছে নাজমুলকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে এসআই মাসুদুর রহমান তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ওই ভয় দেখান এবং প্রকাশ্যে হাতকড়া পড়িয়ে মোটরসাইকেলে নাজমুলকে তুলে নিয়ে যান।

নাজমুলের পরিবারের অভিযোগ, খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়েও দারোগা মাসুদ ও পুলিশ কনস্টেবল রবিউল তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে রেখে দেয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফজলুর রহমানকে জানালে তার নির্দেশে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় জামিনদারের মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হক।

অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার গোয়ালন্দ মোড় কাঁচাবাজারে তার শ্বশুর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আ. সামাদ বেপারী দোকান ঘর মেরামতের সময় এসআই মাসুদ সেখানে হানা দিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার দোকানের নির্মাণ সামগ্রী ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরদিন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফজলুর রহমান এ বিষয়ে উক্ত দারোগাকে মোবাইল ফোনে শাসিয়ে দেন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই মাসুদ নাজমুলকে মারধর ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আটক রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুদ শুক্রবার বলেন, দুপক্ষের বিরোধের কারণে নাজমুলকে আটক করে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়। এর চেয়ে বেশি কোনো কথা বলতে তিনি অপারগতা জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি দুজনের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। এটি মিটে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আইনজীবীকে মেরে, হাতকড়া পরিয়ে লকআপে পাঠালেন এসআই

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

রাজবাড়ী প্রতিনিধি |

দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে দায়ের মামলায় আপস না করায় এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ মোড় কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাসুদুর রহমান শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাজমুল হককে তার ভাইয়ের জমি বিক্রির বিষয়ে দায়ের পিএমশান (অগ্রক্রয়) মামলা তুলে নিয়ে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে বলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এসআই ফোনে তার অবস্থান জেনে নিয়ে সেখানে অপেক্ষা করতে বলেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এসআই মাসুদ পুলিশ কনস্টেবল রবিউলসহ একটি মোটরসাইকেলে গোয়ালন্দ মোড় কাঁচা বাজারে পৌঁছে নাজমুলকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে এসআই মাসুদুর রহমান তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ওই ভয় দেখান এবং প্রকাশ্যে হাতকড়া পড়িয়ে মোটরসাইকেলে নাজমুলকে তুলে নিয়ে যান।

নাজমুলের পরিবারের অভিযোগ, খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়েও দারোগা মাসুদ ও পুলিশ কনস্টেবল রবিউল তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তদন্ত কেন্দ্রের লকআপে রেখে দেয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফজলুর রহমানকে জানালে তার নির্দেশে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় জামিনদারের মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হক।

অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার গোয়ালন্দ মোড় কাঁচাবাজারে তার শ্বশুর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আ. সামাদ বেপারী দোকান ঘর মেরামতের সময় এসআই মাসুদ সেখানে হানা দিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার দোকানের নির্মাণ সামগ্রী ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরদিন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফজলুর রহমান এ বিষয়ে উক্ত দারোগাকে মোবাইল ফোনে শাসিয়ে দেন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই মাসুদ নাজমুলকে মারধর ও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আটক রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই মাসুদ শুক্রবার বলেন, দুপক্ষের বিরোধের কারণে নাজমুলকে আটক করে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়। এর চেয়ে বেশি কোনো কথা বলতে তিনি অপারগতা জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি দুজনের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা। এটি মিটে গেছে।