ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’ Logo ৮০ কোটির জালিয়াতি: শিল্পগোষ্ঠীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে বৃষ্টি–মেসবাহ দম্পতি লাপাত্তা  Logo রাজউকের কানুনগো আব্দুল মোমিন: দুর্নীতি ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক 

সিজারের সময় ভুয়া ডাক্তারের পলাতক, প্রসূতির মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ ২১০ বার পড়া হয়েছে

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের ইসলামিক হাসপাতাল নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এক প্রসূতি মায়ের সিজার করার সময় রোগীকে ফেলে পালালেন সাদ্দাম হোসেন নিবির নামের কথিত ডাক্তার। এ সময় রোগীর স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে খোঁজ করে ওই ডাক্তারকে আটক করলেও ক্লিনিকের মালিক বাবলু হোসেন ও সেখানকার সকল স্টাফ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাবনা মেডিক্যালে পাঠালে রাত সাড়ে ৯টায় প্রসূতি তাসলিমা খাতুন (২৫) মারা যায়।

নিহত প্রসূতি তাসলিমা খাতুন উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগারা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ও একই গ্রামের কৃষক মজনুর রহমানের মেয়ে। তবে ওই প্রসূতির জন্ম দেওয়া মেয়ে শিশুটি বেঁচে আছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে প্রসব বেদনা নিয়ে প্রসূতি তাসলিমাকে তার স্বজনরা পৌর শহরের পূর্বের অর্পণ সিনেমা হলের সামনে ইসলামিক হাসপাতাল নামের ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ভর্তি করার পরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায় রাতেই প্রসূতির সিজার করতে হবে ডাক্তার বাইরে আছেন সন্ধায় চলে আসবেন। সন্ধ্যার পরে কথিত ডাক্তার নিবির আসলে ক্লিনিকে আসলে রোগীর অপারেশন শুরু করেন তিনি।

অপারেশনের এক পর্যায়ে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে সহ সকল স্টাফ রোগীকে ওটিতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে এই কথিত ডাক্তার নিরবের বিষয়ে জানা যায় সে আসলে কোনো ডাক্তারই না। পার্শ্ববর্তী নাটোর বনপাড়ায় নিজস্ব একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন তিনি। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবলুসহ সকল স্টাফ এখনো পলাতক রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন জানান, কথিত ওই ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ক্লিনিক মালিক বাবলুকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযানে নেমেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সিজারের সময় ভুয়া ডাক্তারের পলাতক, প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের ইসলামিক হাসপাতাল নামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এক প্রসূতি মায়ের সিজার করার সময় রোগীকে ফেলে পালালেন সাদ্দাম হোসেন নিবির নামের কথিত ডাক্তার। এ সময় রোগীর স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে খোঁজ করে ওই ডাক্তারকে আটক করলেও ক্লিনিকের মালিক বাবলু হোসেন ও সেখানকার সকল স্টাফ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাবনা মেডিক্যালে পাঠালে রাত সাড়ে ৯টায় প্রসূতি তাসলিমা খাতুন (২৫) মারা যায়।

নিহত প্রসূতি তাসলিমা খাতুন উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগারা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ও একই গ্রামের কৃষক মজনুর রহমানের মেয়ে। তবে ওই প্রসূতির জন্ম দেওয়া মেয়ে শিশুটি বেঁচে আছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে প্রসব বেদনা নিয়ে প্রসূতি তাসলিমাকে তার স্বজনরা পৌর শহরের পূর্বের অর্পণ সিনেমা হলের সামনে ইসলামিক হাসপাতাল নামের ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ভর্তি করার পরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায় রাতেই প্রসূতির সিজার করতে হবে ডাক্তার বাইরে আছেন সন্ধায় চলে আসবেন। সন্ধ্যার পরে কথিত ডাক্তার নিবির আসলে ক্লিনিকে আসলে রোগীর অপারেশন শুরু করেন তিনি।

অপারেশনের এক পর্যায়ে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে সহ সকল স্টাফ রোগীকে ওটিতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে এই কথিত ডাক্তার নিরবের বিষয়ে জানা যায় সে আসলে কোনো ডাক্তারই না। পার্শ্ববর্তী নাটোর বনপাড়ায় নিজস্ব একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন তিনি। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবলুসহ সকল স্টাফ এখনো পলাতক রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন জানান, কথিত ওই ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ক্লিনিক মালিক বাবলুকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযানে নেমেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।