ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় Logo বরিশালে গণপূর্তে ঘুষ–চেক কেলেঙ্কারি! Logo ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটির কম্বল ও খাবার বিতরন Logo বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন Logo নাগরিক শোকসভা কাল: সঙ্গে আনতে হবে আমন্ত্রণপত্র Logo উত্তরায় হোটেলে চাঁদা চাওয়ায় সাংবাদিককে গণধোলাই Logo ৩০ লক্ষ টাকায় বনানী ক্লাবের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার জাকিরের পুনর্বাসন Logo চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক-সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল : শিল্পমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯ ২০২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সোমবার (৪ নভেম্বর) আবুধাবির এমিরেটস্ প্যালেস হোটেলে ইউনিডোর ১৮তম সাধারণ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রী প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়াং বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০২৪ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।

শিল্পখাতের বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে হুমায়ূন বলেন, ‘দক্ষ বেসরকারিখাতের বিকাশ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি শিল্পায়ন পরিকল্পনা, উদ্যোক্তাবান্ধব আমদানি, রফতানি ও আর্থিক নীতি এবং প্রণোদনার ফলে বাংলাদেশের শিল্পখাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার পরিকল্পিত শিল্পনগর, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক জোন, হাইটেক পার্কসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পায়নের লক্ষ্যে এর পাশাপাশি ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পায়নের মাধ্যমেই স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি অষ্টম এলডিসি মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে ইউনিডোর অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

পরে মন্ত্রী একই স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রী প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসতে পারে। তিনি সার কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক, আইসিটিসহ উদীয়মান শিল্পখাতে বিনিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে ভিয়েনায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আবু জাফর, আবুধাবিতে অবস্থিত ডেপুটি চিফ অব মিশন মিজানুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল : শিল্পমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সোমবার (৪ নভেম্বর) আবুধাবির এমিরেটস্ প্যালেস হোটেলে ইউনিডোর ১৮তম সাধারণ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রী প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়াং বক্তব্য দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০২৪ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।

শিল্পখাতের বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে হুমায়ূন বলেন, ‘দক্ষ বেসরকারিখাতের বিকাশ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি শিল্পায়ন পরিকল্পনা, উদ্যোক্তাবান্ধব আমদানি, রফতানি ও আর্থিক নীতি এবং প্রণোদনার ফলে বাংলাদেশের শিল্পখাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার পরিকল্পিত শিল্পনগর, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক জোন, হাইটেক পার্কসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পায়নের লক্ষ্যে এর পাশাপাশি ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পায়নের মাধ্যমেই স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি অষ্টম এলডিসি মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে ইউনিডোর অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

পরে মন্ত্রী একই স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্পমন্ত্রী প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসতে পারে। তিনি সার কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক, আইসিটিসহ উদীয়মান শিল্পখাতে বিনিয়োগের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রকৌশলী সুহাইল আল মাজরুইকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে ভিয়েনায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আবু জাফর, আবুধাবিতে অবস্থিত ডেপুটি চিফ অব মিশন মিজানুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ উপস্থিত ছিলেন।