• ১০ই আগস্ট ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাড়ি দখল, মামলা নেয়নি থানা!

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০১৯, ২১:১১ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাড়ি দখল, মামলা নেয়নি থানা!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট কুড়িগ্রাম: জেলার ভূরুঙ্গামারীতে রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতবাড়ি দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করলে প্রতিকার মেলেনি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভূরুঙ্গামারী থানায় বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে।

জানা গেছে, গত বুধবার গভীর রাতে জেলার ভূরুঙ্গামারী শহরের দেওয়ানের খামার গ্রামের মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের সম্পত্তি জবর দখল করে একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলী ও তার সহযোগীরা। এসময় ওই বাড়িতে থাকা দুই ভাড়াটিয়া পরিবারের আসবাবপত্র ভাঙচুর করাসহ তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে বাড়ির মালিক ও দুই ভাড়াটিয়া নিরাপত্তা চেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় অভিযোগ করলেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতভিটার ৮ শতক জমি দীর্ঘদিন নিজের দাবি করে দখলের পাঁয়তারা করছিল একই এলাকার প্রভাবশালী জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন ও শফিয়ার রহমানরা। এতে ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বাদি হয়ে আদালতে মামলা করে। যার পিটিশন নং-৫৭/১৯, তারিখ-২৪/০৮/১৯। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত থেকে ওই বিবদমান জমিতে কোনো প্রকার দখল বা নির্মাণ কাজ না করার জন্য নোটিশ দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে জমি দখল করে।

বসতভিটার মালিক মুসলিম উদ্দিন বলেন, “গত ৩ মাস আগে থেকে আমার কেনা জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছে এলাকার জাহাঙ্গীর, জামাল ও শফিয়ার। আমি ও আমার ভাড়াটিয়া দুই পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় বিষয়টি লিখিত অভিযোগ দিলে ওসি সাহেব উল্টো আমাকে ভয় দেখান, এবং তিনি বলেন ‘আমি কোনো প্রকার আইনি সহযোগিতা দিতে পারব না’।”

তবে জমি দখলকারী জাহাঙ্গীর ও আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে ভয় দেখানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির। এছাড়া অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তা গ্রহণ করা হবে।’

কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করবে আর ওসি তা গ্রহণ করবে না এটা হতে পারে। অভিযোগ আমলে না নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ওই পরিবার যেন যথাযথ আইনি সহায়তা পায় সে বিষয়েও তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

error: Content is protected !!