ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ Logo শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হবেঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী Logo ‘কানামাছি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ পেলেন লেখক Logo মধ্যরাতে শাবি ছাত্রলীগের ‘ তুমি কে, আমি কে- বাঙ্গালী, বাঙ্গালী’ শ্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস Logo আম নিয়ে কষ্টগাঁথা Logo ঘুমান্ত বিবেক মাতাল আবেগ’ – আকাশমণি Logo পুলিশের হামলার পরও ৬ ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে কুবি শিক্ষার্থীর




ওয়াজ-নসিহত শুনিয়ে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৯ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) চেয়ারম্যান এবং মালিক শামীম কবিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে সিলেট থেকে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

শামীমের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলাও রয়েছে। গত সোমবার (১৫ জুলাই) সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম তাকে গ্রেফতার করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, শামীম কবির ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনদের টার্গেট করতেন। তাদের কোরআন-হাদিস শুনিয়ে এবং পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে অফিসে ডেকে বিনিয়োগে উৎসাহী করতেন। বিনিয়োগের মুনাফা হিসেবে তিনি লাখে মাসে ২ হাজার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা (সুদ) দেওয়ার কথা বলে লিফলেট প্রচার করতেন। পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিতেন।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার শুরুর পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন। এর কিছুদিন পর টাকা দ্বিগুণ তিন গুণ করার স্কিম চালু করেন তিনি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহ করেন। এভাবে তিনিসহ তার সহযোগীরা মোট ২০ হাজার গ্রাহকদের তিনশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সিআইডি আরও জানায়, ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি কৌশলে আত্মগোপন করেন এবং প্রচার করতে থাকেন যে, এফআইসিএলের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। শামীম কবিরের তথ্যমতে, আত্মসাৎকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি তার নিজ গ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ি, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানা, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রায় ৪০ একর জমি কিনে রূপান্তর করেছেন।

এ ঘটনায় দুদক ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ওয়াজ-নসিহত শুনিয়ে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!

আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফারইস্ট ইসলামী মাল্টি কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) চেয়ারম্যান এবং মালিক শামীম কবিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে সিলেট থেকে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

শামীমের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলাও রয়েছে। গত সোমবার (১৫ জুলাই) সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম তাকে গ্রেফতার করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, শামীম কবির ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে ধর্মভীরু ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজনদের টার্গেট করতেন। তাদের কোরআন-হাদিস শুনিয়ে এবং পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করে অফিসে ডেকে বিনিয়োগে উৎসাহী করতেন। বিনিয়োগের মুনাফা হিসেবে তিনি লাখে মাসে ২ হাজার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা (সুদ) দেওয়ার কথা বলে লিফলেট প্রচার করতেন। পত্রিকায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিতেন।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার শুরুর পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন। এর কিছুদিন পর টাকা দ্বিগুণ তিন গুণ করার স্কিম চালু করেন তিনি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ২৫টি অফিস খুলে আমানত সংগ্রহ করেন। এভাবে তিনিসহ তার সহযোগীরা মোট ২০ হাজার গ্রাহকদের তিনশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সিআইডি আরও জানায়, ২০১৩-১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি কৌশলে আত্মগোপন করেন এবং প্রচার করতে থাকেন যে, এফআইসিএলের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। শামীম কবিরের তথ্যমতে, আত্মসাৎকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি তার নিজ গ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর থানা এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ি, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, গাজীপুরের কালিগঞ্জ, কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানা, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রায় ৪০ একর জমি কিনে রূপান্তর করেছেন।

এ ঘটনায় দুদক ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।