ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




জঙ্গিবাদের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯ ৯০ বার পড়া হয়েছে

প্রতিনিধি, নিউইয়র্কঃ 
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক দেলোয়ার হোসেনকে (৩৩) স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছেন। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিতে বিদেশভ্রমণের চেষ্টা করছিলেন।

নগরীর ব্রংকসে বসবাসরত দেলোয়ার হোসেনের বাংলাদেশি আমেরিকান পরিচয়ের কথা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এর আগে আশিকুল আলম নামের আরেক যুবককে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনার অভিযোগে জ্যাকসন হাইটস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কাছাকাছি সময়ে গোয়েন্দাদের হাতে সন্ত্রাসী হিসেবে আটক দুজনের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হওয়ায় প্রবাসীরা বিব্রতবোধ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, দেলোয়ার মোহাম্মদ হোসেনের থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই দেশটিতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। গতকাল বিকেলেই দেলোয়ারকে কড়া নিরাপত্তায় ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হয়। জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেলোয়ারের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আদালতে আরও বলা হয়, দেলোয়ার এফবিআইয়ের নিয়মিত নজরদারিতে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি জঙ্গি দল তালেবানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। দেলোয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এফবিআইয়ের আন্ডার কভার সোর্সের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেলোয়ারের পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কয়েকজনকে হত্যা করার কথা আন্ডার কভার এজেন্টকে বলেছিলেন দেলোয়ার। হত্যার পরিকল্পনাও এফবিআই এজেন্টকে জানিয়েছিলেন তিনি।

আরও অভিযোগ, দেলোয়ার প্রথমে থাইল্যান্ড, এরপর পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। ওয়াকিটকি এবং ট্র্যাকিং গিয়ারের মতো সরঞ্জামও কিনেছিলেন। আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দেলোয়ার এফবিআই এজেন্টকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা বৈধ। কেননা, পুরো দুনিয়া আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে, দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে নয়। এসব বক্তব্যের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত মাসে আশিকুল আলম নামে ২২ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নাফিস ও আকায়েদউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউইয়র্কে অ্যান্টিটেররিজম অ্যাওয়ারনেস নিয়ে সক্রিয় বাংলাদেশি ইমাম কাজী কাইয়্যুম উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, ‘নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক মহল নানাভাবে এসব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কাজের জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পর বাংলাদেশের নাম যখন সংবাদে উচ্চারিত হয়, তখন আমরা লজ্জিত হই। নিন্দা জানাই।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনসমাজ সম্মিলিতভাবে মদদদাতা ও উর্বরতার যোগানদাতা ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে না পারলে এমন ঘটনা আরও ঘটতেই থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




জঙ্গিবাদের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

প্রতিনিধি, নিউইয়র্কঃ 
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক দেলোয়ার হোসেনকে (৩৩) স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছেন। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দিতে বিদেশভ্রমণের চেষ্টা করছিলেন।

নগরীর ব্রংকসে বসবাসরত দেলোয়ার হোসেনের বাংলাদেশি আমেরিকান পরিচয়ের কথা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এর আগে আশিকুল আলম নামের আরেক যুবককে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনার অভিযোগে জ্যাকসন হাইটস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কাছাকাছি সময়ে গোয়েন্দাদের হাতে সন্ত্রাসী হিসেবে আটক দুজনের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হওয়ায় প্রবাসীরা বিব্রতবোধ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, দেলোয়ার মোহাম্মদ হোসেনের থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই দেশটিতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। গতকাল বিকেলেই দেলোয়ারকে কড়া নিরাপত্তায় ম্যানহাটনের আদালতে তোলা হয়। জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেলোয়ারের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আদালতে আরও বলা হয়, দেলোয়ার এফবিআইয়ের নিয়মিত নজরদারিতে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি জঙ্গি দল তালেবানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। দেলোয়ার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এফবিআইয়ের আন্ডার কভার সোর্সের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেলোয়ারের পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কয়েকজনকে হত্যা করার কথা আন্ডার কভার এজেন্টকে বলেছিলেন দেলোয়ার। হত্যার পরিকল্পনাও এফবিআই এজেন্টকে জানিয়েছিলেন তিনি।

আরও অভিযোগ, দেলোয়ার প্রথমে থাইল্যান্ড, এরপর পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। ওয়াকিটকি এবং ট্র্যাকিং গিয়ারের মতো সরঞ্জামও কিনেছিলেন। আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দেলোয়ার এফবিআই এজেন্টকে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা বৈধ। কেননা, পুরো দুনিয়া আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে, দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে নয়। এসব বক্তব্যের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত মাসে আশিকুল আলম নামে ২২ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নাফিস ও আকায়েদউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউইয়র্কে অ্যান্টিটেররিজম অ্যাওয়ারনেস নিয়ে সক্রিয় বাংলাদেশি ইমাম কাজী কাইয়্যুম উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, ‘নিউইয়র্কে বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক মহল নানাভাবে এসব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কাজের জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার পর বাংলাদেশের নাম যখন সংবাদে উচ্চারিত হয়, তখন আমরা লজ্জিত হই। নিন্দা জানাই।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি জনসমাজ সম্মিলিতভাবে মদদদাতা ও উর্বরতার যোগানদাতা ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে না পারলে এমন ঘটনা আরও ঘটতেই থাকবে।