ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এমপি আনার খুন: রহস্যময় রূপে শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী Logo রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক সহকর্মী নারীকে যৌন হয়রানি: ধামাচাপা দিতে মরিয়া তদন্ত কমিটি Logo প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে বহাল তবিয়তে মাদারীপুরের দুই সহকারী সমাজসেবা অফিসারl Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১




সাড়ে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হবে একটি ষাঁড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি; 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জের খামারগুলোতে মোটাতাজা করা হয়েছে কমবেশি ৭ হাজার দেশি–বিদেশি জাতের গরু। পালন করা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক ছাগলও। খামারিদের দাবি, গবাদিপশুকে তাঁরা প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ান। মোটাতাজা করতে ইনজেকশন কিংবা ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন না তাঁরা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, তাদের তালিকাভুক্ত ৫৮০টিসহ প্রায় ৭০০ খামারে গরু মোটাতাজা করা হয়। এর মধ্যে সুলতান অ্যাগ্রোভেট ১৮৫টি, আলম অ্যাগ্রোভেট ১৪৫টি, আপন ডেইরি ফার্ম ১৩০টি, এসআর অ্যাগ্রোভেট ১২৫টি, ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ অ্যাগ্রোভেট ১২০টি, শরীফ অ্যাগ্রোভেট ৮০টি, সাফায়েত ডেইরি ফার্ম ৭৫টি, মক্কা–মদিনা অ্যাগ্রোভেট ২৪টি গরু মোটাতাজা করেছে।

সম্প্রতি উপজেলার আটি মনোহরিয়া এলাকার সাফায়েত ডেইরি ফার্ম ও রোহিতপুর পোড়াহাটি এলাকার ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, খামারের কর্মচারীরা গবাদিপশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ পানি দিয়ে পশুর গা ধুয়ে দিচ্ছেন, কেউবা গায়ে তেল মেখে দিচ্ছেন। সাফায়েত ডেইরি ফার্মের মালিক আবু সিদ্দিক নিজেই গবাদিপশুর পরিচর্যা করছেন।

ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক মতিউর রহমান বলেন, তাঁরা প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ১২০টি গরুমোটাতাজা করেছেন। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছেন না তাঁরা। তিনি জানান, পশু খাদ্যের জন্য তাঁরা ঘাস চাষ করেন। পশুগুলোকে সকাল-বিকেল সবুজ ঘাস খেতে দেওয়া হয়। তিনি জানান, তাঁর খামারে দেশি একটি ষাঁড় আছে, যার ওজন ১ হাজার ২২০ কেজি। সাড়ে সাত লাখ টাকা দাম পেলে তিনি ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। ইতিমধ্যে দাম সাত লাখ টাকা উঠেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৫ কেজি ও ১ হাজার ১২০ কেজি ওজনের দুটি ষাঁড় আছে তাঁদের। তাঁদের খামারে গরুর সর্বনিম্ন দাম আড়াই লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁরা উন্নত জাতের দেশি–বিদেশি জাতের ছাগলও পালন করেছেন।

ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মের মালিক আকবর আলম বলেন, শখের বশে ২০১৪ সালে একটি গাভি কিনে ছোট একটি ছাপরাঘর তুলে তিনি লালন–পালন শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে উন্নত জাতের ৪০০ গরু এবং দেশি–বিদেশি জাতের অর্ধশতাধিক ছাগল রয়েছে। এ বছর প্রথম কোরবানি উপলক্ষে ১২০টি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। এ ছাড়া পালন করছেন ৫৫টি উন্নত জাতের ছাগল। তিনি জানান, আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে পশু মোটাতাজাকরণের কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

সাফায়েত ডেইরি ফার্মের মালিক আবু সিদ্দিক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ বছর ধরে তিনি গরু মোটাতাজা করছেন। এ বছর তিনি ৭৫টি দেশি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে ৪৫টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জহিরউদ্দিন বলেন, তাঁদের তালিকাভুক্ত ৫৮০টি খামারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় পাঁচ হাজার গবাদিপশু মোটাতাজা করা হয়েছে। ২৩ জন পশু চিকিৎসক ও প্রাণী সহকারী কর্মকর্তা এসব খামার তদারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, কোনো খামারি যাতে পশুকে কোনো ধরনের ইনজেকশন দিতে না পারেন, সে জন্য প্রতিটি খামার তাঁদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




সাড়ে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হবে একটি ষাঁড়

আপডেট সময় : ০২:২৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি; 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জের খামারগুলোতে মোটাতাজা করা হয়েছে কমবেশি ৭ হাজার দেশি–বিদেশি জাতের গরু। পালন করা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক ছাগলও। খামারিদের দাবি, গবাদিপশুকে তাঁরা প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ান। মোটাতাজা করতে ইনজেকশন কিংবা ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন না তাঁরা।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, তাদের তালিকাভুক্ত ৫৮০টিসহ প্রায় ৭০০ খামারে গরু মোটাতাজা করা হয়। এর মধ্যে সুলতান অ্যাগ্রোভেট ১৮৫টি, আলম অ্যাগ্রোভেট ১৪৫টি, আপন ডেইরি ফার্ম ১৩০টি, এসআর অ্যাগ্রোভেট ১২৫টি, ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ অ্যাগ্রোভেট ১২০টি, শরীফ অ্যাগ্রোভেট ৮০টি, সাফায়েত ডেইরি ফার্ম ৭৫টি, মক্কা–মদিনা অ্যাগ্রোভেট ২৪টি গরু মোটাতাজা করেছে।

সম্প্রতি উপজেলার আটি মনোহরিয়া এলাকার সাফায়েত ডেইরি ফার্ম ও রোহিতপুর পোড়াহাটি এলাকার ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, খামারের কর্মচারীরা গবাদিপশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ পানি দিয়ে পশুর গা ধুয়ে দিচ্ছেন, কেউবা গায়ে তেল মেখে দিচ্ছেন। সাফায়েত ডেইরি ফার্মের মালিক আবু সিদ্দিক নিজেই গবাদিপশুর পরিচর্যা করছেন।

ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক মতিউর রহমান বলেন, তাঁরা প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ১২০টি গরুমোটাতাজা করেছেন। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছেন না তাঁরা। তিনি জানান, পশু খাদ্যের জন্য তাঁরা ঘাস চাষ করেন। পশুগুলোকে সকাল-বিকেল সবুজ ঘাস খেতে দেওয়া হয়। তিনি জানান, তাঁর খামারে দেশি একটি ষাঁড় আছে, যার ওজন ১ হাজার ২২০ কেজি। সাড়ে সাত লাখ টাকা দাম পেলে তিনি ষাঁড়টি বিক্রি করবেন। ইতিমধ্যে দাম সাত লাখ টাকা উঠেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৫ কেজি ও ১ হাজার ১২০ কেজি ওজনের দুটি ষাঁড় আছে তাঁদের। তাঁদের খামারে গরুর সর্বনিম্ন দাম আড়াই লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁরা উন্নত জাতের দেশি–বিদেশি জাতের ছাগলও পালন করেছেন।

ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ ডেইরি ফার্মের মালিক আকবর আলম বলেন, শখের বশে ২০১৪ সালে একটি গাভি কিনে ছোট একটি ছাপরাঘর তুলে তিনি লালন–পালন শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে উন্নত জাতের ৪০০ গরু এবং দেশি–বিদেশি জাতের অর্ধশতাধিক ছাগল রয়েছে। এ বছর প্রথম কোরবানি উপলক্ষে ১২০টি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। এ ছাড়া পালন করছেন ৫৫টি উন্নত জাতের ছাগল। তিনি জানান, আগামী বছর থেকে আরও বড় পরিসরে পশু মোটাতাজাকরণের কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

সাফায়েত ডেইরি ফার্মের মালিক আবু সিদ্দিক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৫ বছর ধরে তিনি গরু মোটাতাজা করছেন। এ বছর তিনি ৭৫টি দেশি ষাঁড় মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে ৪৫টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জহিরউদ্দিন বলেন, তাঁদের তালিকাভুক্ত ৫৮০টি খামারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় পাঁচ হাজার গবাদিপশু মোটাতাজা করা হয়েছে। ২৩ জন পশু চিকিৎসক ও প্রাণী সহকারী কর্মকর্তা এসব খামার তদারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, কোনো খামারি যাতে পশুকে কোনো ধরনের ইনজেকশন দিতে না পারেন, সে জন্য প্রতিটি খামার তাঁদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।