ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েও প্রতারণা করেছেন জেলার দেলোয়ার Logo নদীপথে নতুন গতি: সলিম উল্লাহর উদ্যোগে পুনরুজ্জীবনের পথে বিআইডব্লিউটিসি Logo সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আসমা আজিজ Logo উপ-কর কমিশনারের তানজিনা’ র ১৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ’ সম্পদ Logo রপ্তানি ঘোষণার অমিল বন্ড তদারকিতে পুকুর চুরি: জেসি কামরুলের সহায়তায় কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ  Logo পাঁচ প্রকৌশলীর গাফিলতিতেই সংসদে মাইক অচল Logo রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদীর বিরুদ্ধে ঘুষ অনিয়মের অভিযোগে নড়েচড়ে দাঁড়াল দুদক: ছাত্রলীগের নেতা বহাল তবিয়তে! Logo কাস্টমসে আওয়ামী দোসর আজাদের রাজত্ব বহাল Logo মিরপুর বিআরটিএতে মালিকানা বদল সেবায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য: কাউন্টার কর্মকর্তাকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ Logo স্বল্প বেতনে এলজিইডি গাড়িচালকের সম্পদের অট্টালিকা

রিকশাচালকদের অবরোধে ছাড় পাচ্ছে না রুগীরাও! 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০১৯ ২০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক; 
অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মালিবাগ রেলগেট মোড়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. হারুন। রামপুরার বাসার সামনে থেকে কোনো রকমে একটি রিকশা নিয়ে সকাল ১০টায় রওনা দেন তিনি। কিন্তু আবুল হোটেলের মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা রিকশা আটকে দেন। অবরোধকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করেও ছাড়া পাননি তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই হাসাপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন হারুন।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিন সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়ার প্রতিবাদে মালিবাগ রেলগেট, আবুল হোটেল মোড়ে রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে হারুনের মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। অবরোধকারীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষ যেমন রেহায় পাচ্ছেন না, তেমনি রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অসুস্থরাও।

ভোগান্তির বিষয়ে হারুন বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য রামপুরার বাসা থেকে রিকশা করে আসছিলাম। কিন্তু আবুল হোটেলে আসার পরেই রিকশা আটকে দেয়া হলো। অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলে হাত ধরে মিনতি জানিয়েও ছাড়া পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। বাসায় যাওয়ার সময় কী হবে বুঝতে পারছি না।

কাকরাইলে একটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য খিলগাঁও থেকে বের হন অসুস্থ ফাতেমা। রাস্তায় তাকেও আটকে দেন অবরোধকারীরা। মালিবাগ মোড়ে এসে তার রিকশা আটকে দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ ফাতেমাকে রেলগেট মড়ের একটি দোকানের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।

অসুস্থ এ নারী বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে আসতেই আটকে দেয়া হলো। আমি অসুস্থ মানুষ। হাঁটতে পারছি না। রিকশা করে বাসায় ফিরে যাব তাও যেতে দেয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে এখানে বসে আছি। আমার স্বামীকে ফোন করছি, সে এসে আমাকে নিয়ে যাবে।

হারুন, ফাতেমার মতো সেগুনবাগিচা থেকে বাড্ডা যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন জসিম উদ্দিন। পরিবার নিয়ে তিনি সিএনজি করে বাড্ডার একটি হাসপাতালে আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রেলগেট মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা তাদের সিএনজি আটকে রাস্তায় নামিয়ে দেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, রিকশাচালকরা যা করছে তা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে যেতে দেয়া হচ্ছে না, এটা কোনো মানুষের আচরণের মধ্যে পড়ে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রিকশাচালকদের অবরোধে ছাড় পাচ্ছে না রুগীরাও! 

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক; 
অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য মালিবাগ রেলগেট মোড়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. হারুন। রামপুরার বাসার সামনে থেকে কোনো রকমে একটি রিকশা নিয়ে সকাল ১০টায় রওনা দেন তিনি। কিন্তু আবুল হোটেলের মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা রিকশা আটকে দেন। অবরোধকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করেও ছাড়া পাননি তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই হাসাপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন হারুন।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ তিন সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়ার প্রতিবাদে মালিবাগ রেলগেট, আবুল হোটেল মোড়ে রিকশাচালকদের অবরোধের কারণে হারুনের মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। অবরোধকারীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষ যেমন রেহায় পাচ্ছেন না, তেমনি রেহাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অসুস্থরাও।

ভোগান্তির বিষয়ে হারুন বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য রামপুরার বাসা থেকে রিকশা করে আসছিলাম। কিন্তু আবুল হোটেলে আসার পরেই রিকশা আটকে দেয়া হলো। অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলে হাত ধরে মিনতি জানিয়েও ছাড়া পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। বাসায় যাওয়ার সময় কী হবে বুঝতে পারছি না।

কাকরাইলে একটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য খিলগাঁও থেকে বের হন অসুস্থ ফাতেমা। রাস্তায় তাকেও আটকে দেন অবরোধকারীরা। মালিবাগ মোড়ে এসে তার রিকশা আটকে দেয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ ফাতেমাকে রেলগেট মড়ের একটি দোকানের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।

অসুস্থ এ নারী বলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে আসতেই আটকে দেয়া হলো। আমি অসুস্থ মানুষ। হাঁটতে পারছি না। রিকশা করে বাসায় ফিরে যাব তাও যেতে দেয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে এখানে বসে আছি। আমার স্বামীকে ফোন করছি, সে এসে আমাকে নিয়ে যাবে।

হারুন, ফাতেমার মতো সেগুনবাগিচা থেকে বাড্ডা যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন জসিম উদ্দিন। পরিবার নিয়ে তিনি সিএনজি করে বাড্ডার একটি হাসপাতালে আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রেলগেট মোড়ে আসতেই অবরোধকারীরা তাদের সিএনজি আটকে রাস্তায় নামিয়ে দেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, রিকশাচালকরা যা করছে তা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে যেতে দেয়া হচ্ছে না, এটা কোনো মানুষের আচরণের মধ্যে পড়ে না।