ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১ Logo তামাক সেবনের আলাদা কক্ষ বানালেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী: রয়েছে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ! Logo দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: কালবে সর্বোচ্চ পদ দখলে রেখেছে আগস্টিন! Logo আইআইএফসি ও মার্কটেল বাংলাদেশ’র মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর




ছেলে ও পুত্রবধূর থাপ্পড়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন বৃদ্ধা মা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ছেলে আর পুত্রবধূর হাতে মার খেয়ে কাঁদছেন এক মা। মায়ের কান্নায় আশপাশের পরিবেশও যেন ভারি হয়ে উঠেছে। হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে ৮০ বছরের বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন বলেন, ‘ছোট পুত্রবধূ ইনসানা আমার বুকে তিনটি ঘুষি মেরেছে। ছেলে থাপ্পড় দিয়েছে। ছোট ছেলে ফারুক, তার স্ত্রী ইনসানা আর তাদের ছেলে হৃদয় আমার ওপর খুব নির্যাতন করেছে। আমাকে মারধর করেছে তারা। কয়েক দিন আগে ফারুক আমাকে চড় মেরেছিল।’

কান্নারত বৃদ্ধা হাফেজা বলেন, পুত্রবধূ ইনসানা আমার টয়লেটে যাওয়ার পানির বদনায় মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে রেখেছিল। তারা কেন এমন করে আমি জানি না। তাদের অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারছি না। আল্লাহ তাদের বিচার করুক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা হাফিজা খাতুন আরও বলেন, ১০-১২ দিন আগে নাতি হৃদয় আমার ঘরের বারান্দার চালা ভেঙে দেয়। এ সময় একটা বড় বাঁশ ভেঙে আমার মাথায় পড়ে। আমি ব্যথা সহ্য করতে পারছিলাম না। ওষুধ এনে দেয়ার কথা বললে ফারুক বলে থানায় যাও, তারা ওষুধ দেবে।

স্থানীয়রা জানান, স্বামীর ভিটাবাড়ি ছেড়ে অন্য ছেলের বাড়ি না যাওয়ায় বৃদ্ধা মা হাফেজা খাতুনকে তার ছোট ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), ফারুকের স্ত্রী ইনসানা (৩২) এবং নাতি হৃদয় (২১) মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনয়িনের গলেহা ফুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিকেলে বৃদ্ধার মেজো ছেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ফারুকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী হারান বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন। স্বামীর স্মৃতি বুকে নিয়ে ভিটাবাড়িতে একাই থাকেন তিনি। একই বাড়িতে ছোট ছেলে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মা প্রতিদিনের খাবার খেতেন পাশের আরেক ছেলের বাড়িতে।

পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়ের জননী হাফেজা খাতুন সবার বিয়ে দিয়েছেন। অন্য ছেলে এবং মেয়েরা মাকে তাদের বাড়ি নিতে চাইলেও স্বামীর ভিটা ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ছোট ছেলে ফারুক হোসেনের ঘরঘেঁষে স্বামীর ভিটায় ঝুপড়ি ঘর করে একাই থাকেন হাফেজা। খাওয়া-দাওয়া করেন মেজো ছেলে শফিউল্লাহর বাড়িতে। তবে ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী ঝুপড়ি ঘরটি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মাকে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন করছেন।

শনিবার দুপুরে বৃদ্ধার টয়লেট যাওয়ার রাস্তায় আবর্জনা জড়ো করে রেখে দেন ফারুকের স্ত্রী ইনসানা বেগম। বৃদ্ধা কষ্ট করে ওই আবর্জনা সরিয়ে নেন। এ নিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে রাগ করেন পুত্রবধূ। পরে টয়লেটে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃদ্ধার হাত থেকে পানিভর্তি বদনা নিয়ে ভেঙে ফেলেন পুত্রবধূ ইনসানা। একপর্যায়ে ছেলে ফারুকের উপস্থিতিে স্ত্রী ইনসানা বৃদ্ধার বুকে ঘুষি মারেন। এ সময় বৃদ্ধার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ছেলে শফিউল্লাহ মাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বৃদ্ধার মেজো ছেলে শফিউল্লাহ বলেন, বাবার ভিটেতে ছোট্ট একটি ঘরে থাকেন বৃদ্ধা মা। তিনি সেখান থেকে আসতে চান না। আমার বাড়িতে তিন বেলা খাওয়া-দাওয়া করেন মা। এটা ফারুকের সহ্য হয়নি। মায়ের ঘর দখলে নিতে মাকে মারপিট ও নির্যাতন করছে ফারুক ও তার স্ত্রী। আমরা তাদের সঙ্গে ঝগড়া না করে আইনের আশ্রয় নিতে এসেছি।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছোট ছেলে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বলেন, আমি আমার মাকে কখনো মারধর করিনি। আমাদের বাড়ি ভিটের জমিজমা নিয়ে ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে। আদালতে মামলাও চলছে। ভাইরা আমার মাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। মাকে তারা যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে সেভাবে মা কথা বলছেন।

কামাতকাজল দিঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। কেউ আমাকে জানায়নি। তবে ফারুক একটু উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির, এটা সবাই জানে। আমি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠাচ্ছি। খোঁজখবর নিয়ে ওই বৃদ্ধার ছেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ছেলে ও পুত্রবধূর থাপ্পড়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন বৃদ্ধা মা

আপডেট সময় : ০৮:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ছেলে আর পুত্রবধূর হাতে মার খেয়ে কাঁদছেন এক মা। মায়ের কান্নায় আশপাশের পরিবেশও যেন ভারি হয়ে উঠেছে। হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে ৮০ বছরের বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন বলেন, ‘ছোট পুত্রবধূ ইনসানা আমার বুকে তিনটি ঘুষি মেরেছে। ছেলে থাপ্পড় দিয়েছে। ছোট ছেলে ফারুক, তার স্ত্রী ইনসানা আর তাদের ছেলে হৃদয় আমার ওপর খুব নির্যাতন করেছে। আমাকে মারধর করেছে তারা। কয়েক দিন আগে ফারুক আমাকে চড় মেরেছিল।’

কান্নারত বৃদ্ধা হাফেজা বলেন, পুত্রবধূ ইনসানা আমার টয়লেটে যাওয়ার পানির বদনায় মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে রেখেছিল। তারা কেন এমন করে আমি জানি না। তাদের অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারছি না। আল্লাহ তাদের বিচার করুক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধা হাফিজা খাতুন আরও বলেন, ১০-১২ দিন আগে নাতি হৃদয় আমার ঘরের বারান্দার চালা ভেঙে দেয়। এ সময় একটা বড় বাঁশ ভেঙে আমার মাথায় পড়ে। আমি ব্যথা সহ্য করতে পারছিলাম না। ওষুধ এনে দেয়ার কথা বললে ফারুক বলে থানায় যাও, তারা ওষুধ দেবে।

স্থানীয়রা জানান, স্বামীর ভিটাবাড়ি ছেড়ে অন্য ছেলের বাড়ি না যাওয়ায় বৃদ্ধা মা হাফেজা খাতুনকে তার ছোট ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), ফারুকের স্ত্রী ইনসানা (৩২) এবং নাতি হৃদয় (২১) মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনয়িনের গলেহা ফুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিকেলে বৃদ্ধার মেজো ছেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ফারুকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী হারান বৃদ্ধা হাফেজা খাতুন। স্বামীর স্মৃতি বুকে নিয়ে ভিটাবাড়িতে একাই থাকেন তিনি। একই বাড়িতে ছোট ছেলে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মা প্রতিদিনের খাবার খেতেন পাশের আরেক ছেলের বাড়িতে।

পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়ের জননী হাফেজা খাতুন সবার বিয়ে দিয়েছেন। অন্য ছেলে এবং মেয়েরা মাকে তাদের বাড়ি নিতে চাইলেও স্বামীর ভিটা ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ছোট ছেলে ফারুক হোসেনের ঘরঘেঁষে স্বামীর ভিটায় ঝুপড়ি ঘর করে একাই থাকেন হাফেজা। খাওয়া-দাওয়া করেন মেজো ছেলে শফিউল্লাহর বাড়িতে। তবে ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী ঝুপড়ি ঘরটি দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মাকে মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন করছেন।

শনিবার দুপুরে বৃদ্ধার টয়লেট যাওয়ার রাস্তায় আবর্জনা জড়ো করে রেখে দেন ফারুকের স্ত্রী ইনসানা বেগম। বৃদ্ধা কষ্ট করে ওই আবর্জনা সরিয়ে নেন। এ নিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে রাগ করেন পুত্রবধূ। পরে টয়লেটে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃদ্ধার হাত থেকে পানিভর্তি বদনা নিয়ে ভেঙে ফেলেন পুত্রবধূ ইনসানা। একপর্যায়ে ছেলে ফারুকের উপস্থিতিে স্ত্রী ইনসানা বৃদ্ধার বুকে ঘুষি মারেন। এ সময় বৃদ্ধার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ছেলে শফিউল্লাহ মাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বৃদ্ধার মেজো ছেলে শফিউল্লাহ বলেন, বাবার ভিটেতে ছোট্ট একটি ঘরে থাকেন বৃদ্ধা মা। তিনি সেখান থেকে আসতে চান না। আমার বাড়িতে তিন বেলা খাওয়া-দাওয়া করেন মা। এটা ফারুকের সহ্য হয়নি। মায়ের ঘর দখলে নিতে মাকে মারপিট ও নির্যাতন করছে ফারুক ও তার স্ত্রী। আমরা তাদের সঙ্গে ঝগড়া না করে আইনের আশ্রয় নিতে এসেছি।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছোট ছেলে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বলেন, আমি আমার মাকে কখনো মারধর করিনি। আমাদের বাড়ি ভিটের জমিজমা নিয়ে ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে। আদালতে মামলাও চলছে। ভাইরা আমার মাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। মাকে তারা যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে সেভাবে মা কথা বলছেন।

কামাতকাজল দিঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। কেউ আমাকে জানায়নি। তবে ফারুক একটু উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির, এটা সবাই জানে। আমি ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠাচ্ছি। খোঁজখবর নিয়ে ওই বৃদ্ধার ছেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।