ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

দেশে ধর্ষণে নজিরবিহীন রেকর্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ ৩৫০ বার পড়া হয়েছে

১০০ দিনেই শিকার ৩৯৬ নারী ও শিশু, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে নজিরবিহীন রেকর্ড হতে চলেছে দেশে। হঠাৎ যেন মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোনোভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বিকৃত রুচির একশ্রেণির মানুষের বিকৃতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নারী ও শিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিরূপ প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে। চলতি বছরের গত সাড়ে তিন মাসে ৩৯৬ জন নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খোদ পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৩৯টি এবং হত্যা মামলা হয়েছে ৩৫১টি। বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ৪৭ শিশুর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৩৯ জন। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেনীর নুসরাতের পর রাজধানীর মুগদার হাসি। একজন মাদ্রাসাছাত্রী, অপরজন গৃহবধূ। দুজনই কেরোসিনের আগুনের নির্মম বলি। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ঘটেছে আলোচিত এই দুই ঘটনা। তবে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার দাবি, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ বুধবার রাজধানীর মুগদা এলাকায় শ্বাসরোধে হত্যার পর হাসি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ অভিযোগে তার স্বামী কমল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগুনে হাসির শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় তার বাবা শেখ আলতাফ বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হাসির গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রুস্তমনগরে। তিনি স্বামীর সঙ্গে দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনিতে থাকতেন। একই দিনে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় দিনদুপুরে ছুরিকাঘাতে শারমিন আক্তার লিজা নামে এক কলেজছাত্রী খুন হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজছাত্র মোস্তাকিন রহমানকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। গত ৮ এপ্রিল রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে রোজিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তার স্বামী আবদুল্লাহ। গত ১৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। গত ৭ এপ্রিল ঢাকার ডেমরার বাঁশেরপুল ডগাইর এলাকার এক মসজিদ থেকে ৮ বছরের শিশু মনিরুল ইসলামের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে ডেমরা থানা পুলিশ।

১০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যারহস্য উদঘাটনের বর্ণনা দেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৪ জন শিশু। এ সংখ্যা জানুয়ারিতে ছিল ৫২, ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয় ৬০ এবং মার্চে ফের ৫২ জনে দাঁড়ায়। গত তিন মাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৯ জন। এর মধ্যে ৭ জন প্রতিবন্ধী শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণচেষ্টা হয়েছে ৮ জনের ওপর। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে। এ ছাড়া অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার ১৬ জন। ২০১৮ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৩ শিশু নির্যাতন, দুই শিশু ধর্ষণ এবং এক শিশু হত্যার শিকার হতো। ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণ-গণধর্ষণ বেড়েছে অন্তত ৩৪ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, এর বাইরেও বহু অপরাধের ঘটনা নিত্যদিনই ঘটে। সেসব ঘটনা রেকর্ডহীন বলে স্থান পায় না থানার হিসাবে। চাইল্ড পার্লামেন্টের নিজস্ব জরিপে এসেছেন গত বছর ৮৭ শতাংশ শিশুই কোনো না কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণপরিবহনেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৩ শতাংশ। কর্মজীবী ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। শিশুদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালে ২৯৮ শিশু আত্মহত্যা করে, ২০১৭ সালে এ সংখ্যাটি ছিল ২১৩।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা সামাজিক অপরাধ আগেও ঘটেছে এখনো ঘটছে। বর্তমান সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অনেক শক্তিশালী করা হয়েছে, তবুও এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব অপরাধ দমনে আইনের সঠিক প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। সেটি করতে না পারলে এ অস্থিরতা চলতেই থাকবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছে ১৮ জন নারী। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫ জন। নির্যাতনের পর আত্মহত্যা করেছে ১ জন। নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জনকে। অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৫ জন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র দুটি। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে ৬৯ জন শিশুকে। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ৩২টির। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, সামাজিক নীতি-নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের অভাবে খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দেশে ধর্ষণে নজিরবিহীন রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯

১০০ দিনেই শিকার ৩৯৬ নারী ও শিশু, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে নজিরবিহীন রেকর্ড হতে চলেছে দেশে। হঠাৎ যেন মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও কোনোভাবেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। বিকৃত রুচির একশ্রেণির মানুষের বিকৃতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না কোমলমতি শিশুরাও। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নারী ও শিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিরূপ প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনে। চলতি বছরের গত সাড়ে তিন মাসে ৩৯৬ জন নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খোদ পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৩৯টি এবং হত্যা মামলা হয়েছে ৩৫১টি। বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে সারা দেশে ৪৭ শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ৪৭ শিশুর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৩৯ জন। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেনীর নুসরাতের পর রাজধানীর মুগদার হাসি। একজন মাদ্রাসাছাত্রী, অপরজন গৃহবধূ। দুজনই কেরোসিনের আগুনের নির্মম বলি। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ঘটেছে আলোচিত এই দুই ঘটনা। তবে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার দাবি, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ বুধবার রাজধানীর মুগদা এলাকায় শ্বাসরোধে হত্যার পর হাসি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ অভিযোগে তার স্বামী কমল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আগুনে হাসির শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় তার বাবা শেখ আলতাফ বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হাসির গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রুস্তমনগরে। তিনি স্বামীর সঙ্গে দক্ষিণ মুগদার ব্যাংক কলোনিতে থাকতেন। একই দিনে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় দিনদুপুরে ছুরিকাঘাতে শারমিন আক্তার লিজা নামে এক কলেজছাত্রী খুন হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজছাত্র মোস্তাকিন রহমানকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। গত ৮ এপ্রিল রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে রোজিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তার স্বামী আবদুল্লাহ। গত ১৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। গত ৭ এপ্রিল ঢাকার ডেমরার বাঁশেরপুল ডগাইর এলাকার এক মসজিদ থেকে ৮ বছরের শিশু মনিরুল ইসলামের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মসজিদের ইমামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে ডেমরা থানা পুলিশ।

১০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যারহস্য উদঘাটনের বর্ণনা দেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬৪ জন শিশু। এ সংখ্যা জানুয়ারিতে ছিল ৫২, ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে হয় ৬০ এবং মার্চে ফের ৫২ জনে দাঁড়ায়। গত তিন মাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৯ জন। এর মধ্যে ৭ জন প্রতিবন্ধী শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণচেষ্টা হয়েছে ৮ জনের ওপর। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে। এ ছাড়া অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জনকে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার ১৬ জন। ২০১৮ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৩ শিশু নির্যাতন, দুই শিশু ধর্ষণ এবং এক শিশু হত্যার শিকার হতো। ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণ-গণধর্ষণ বেড়েছে অন্তত ৩৪ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, এর বাইরেও বহু অপরাধের ঘটনা নিত্যদিনই ঘটে। সেসব ঘটনা রেকর্ডহীন বলে স্থান পায় না থানার হিসাবে। চাইল্ড পার্লামেন্টের নিজস্ব জরিপে এসেছেন গত বছর ৮৭ শতাংশ শিশুই কোনো না কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণপরিবহনেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৩ শতাংশ। কর্মজীবী ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। শিশুদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালে ২৯৮ শিশু আত্মহত্যা করে, ২০১৭ সালে এ সংখ্যাটি ছিল ২১৩।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা সামাজিক অপরাধ আগেও ঘটেছে এখনো ঘটছে। বর্তমান সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অনেক শক্তিশালী করা হয়েছে, তবুও এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব অপরাধ দমনে আইনের সঠিক প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। সেটি করতে না পারলে এ অস্থিরতা চলতেই থাকবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছে ১৮ জন নারী। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫ জন। নির্যাতনের পর আত্মহত্যা করেছে ১ জন। নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জনকে। অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৫ জন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র দুটি। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে ৬৯ জন শিশুকে। এর মধ্যে মামলা হয়েছে ৩২টির। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, সামাজিক নীতি-নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের অভাবে খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে।