ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাৎ, গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সংসদীয় কূটনীতির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জার্মানির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের অংশগ্রহণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের কথা তুলে ধরে স্পিকার জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। বিগত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের অপশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। তার ধারাবাহিকতায় পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেশের মানুষ আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে এবং কখনো সেই লড়াই থেকে বিচ্যুত হয়নি।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় নতুন তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং আধুনিক সার কারখানা স্থাপনে যৌথ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি অনেকাংশেই টেকসই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি জার্মান রাষ্ট্রদূতকে অভিহিত করেন। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাৎ, গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস

আপডেট সময় : ০৪:২১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন, সংসদীয় কূটনীতির বিকাশ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে জার্মানির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের অংশগ্রহণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে। জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের কথা তুলে ধরে স্পিকার জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। বিগত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের অপশাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়। তার ধারাবাহিকতায় পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেশের মানুষ আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে এবং কখনো সেই লড়াই থেকে বিচ্যুত হয়নি।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় নতুন তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং আধুনিক সার কারখানা স্থাপনে যৌথ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি অনেকাংশেই টেকসই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি জার্মান রাষ্ট্রদূতকে অভিহিত করেন। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।