ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের পাঁচ বছরের ১ হাজার ৮২৫ দিনের মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিনকে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ‘ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার’ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ভিত্তি তৈরির পর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আজ সোমবার সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল জনগণের সেই ক্ষোভের বিপরীতে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের রূপকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন, তা ছিল জনগণের আরেকটি শক্ত প্রতীকী বার্তা। অর্থাৎ ৫ আগস্টের ক্ষোভ, ২৫ ডিসেম্বরের ভালোবাসা-আস্থা এবং ৩১ ডিসেম্বরের শ্রদ্ধা ও সংহতি-এই তিনটি ঘটনাই আজকের বাংলাদেশ পরিচালনায় আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অপহৃত ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে এসে কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ভবন নির্মাণের উপমা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করা আবশ্যক। ঠিক একইভাবে বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়।’

তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্ণ উপযোগী করে তোলা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ সুগম করাই ছিল এই পর্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনার কতটুকু এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিক চিত্র প্রতিনিয়ত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পুনর্গঠনের এই কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রিফিং শেষে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের পাঁচ বছরের ১ হাজার ৮২৫ দিনের মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিনকে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ‘ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার’ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ভিত্তি তৈরির পর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আজ সোমবার সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল জনগণের সেই ক্ষোভের বিপরীতে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের রূপকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন, তা ছিল জনগণের আরেকটি শক্ত প্রতীকী বার্তা। অর্থাৎ ৫ আগস্টের ক্ষোভ, ২৫ ডিসেম্বরের ভালোবাসা-আস্থা এবং ৩১ ডিসেম্বরের শ্রদ্ধা ও সংহতি-এই তিনটি ঘটনাই আজকের বাংলাদেশ পরিচালনায় আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অপহৃত ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে এসে কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ভবন নির্মাণের উপমা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করা আবশ্যক। ঠিক একইভাবে বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়।’

তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্ণ উপযোগী করে তোলা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ সুগম করাই ছিল এই পর্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনার কতটুকু এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিক চিত্র প্রতিনিয়ত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পুনর্গঠনের এই কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রিফিং শেষে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।