করোনায় বঙ্গবন্ধুর মানবিক ছাত্রলীগ

সকালের সংবাদ ডেস্ক;সকালের সংবাদ ডেস্ক;
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ, ১৯ মে ২০২০

মাহমুদুল হাসান কবীর : মহামারি করোনা ভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের মানুষ এখন হুমকির মুখে। সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ানোর কারণে মানুষ একজন আরেকজন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে শ্রম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সমাজের শ্রমজীবী ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ। কর্মচঞ্চল মানুষ কাজ হারিয়ে ব্যাকুল পরিবারের চাহিদা মেটাতে।

এমন ভয়াবহ মুহূর্তে সমাজের অসহায়, কৃষক, দিনমজুর, করোনা আক্রান্ত ও মৃতদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার হাত প্রসারিত করেছে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক দিক নির্দেশনা মোতাবেক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনীর সমন্বয়ে আদর্শভিত্তিক একটি সংগঠন গড়ে তোলা ও আদর্শিক পরিচর্চা অব্যাহত রাখা। দীর্ঘ সময়ের শিক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে একটি সহজলভ্য, বৈজ্ঞানিক, গণমুখী, বৃত্তিমূলক, কারিগরি, মাতৃভাষাভিত্তিক সার্বজনীন প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে আর্থ সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া।

পূর্ব বাংলায় ছাত্রলীগের অভিষেক হয় ভাষা আন্দোলনের মধ্যমে। এরপর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সবগুলোতেই অংশ নেয় ছাত্রলীগ। ৬২ র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬্#৩৯;র ছয় দফার পক্ষে জনমতবৃদ্ধি, ৬৮তে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী আন্দোলন, ৬৯্#৩৯;র গণঅভ্যুত্থান, ৭০্#৩৯;র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করতে এবং ৭১্#৩৯;র মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনে যুদ্ধপরবর্তীতে ছাত্রলীগের প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের
মানুষের কাছে বিজয়ী বীর, মহানায়ক ছিলেন। ছাত্রলীগের এমন প্রশংসনীয় আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিজয় এরশাদ পতনের পর ধীরে ধীরে ¤øান হতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয় যে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। সময়ের পরিক্রমায় স্বার্থপর, আদর্শচ্যুত ভিন্ন নেতৃত্ব ও কিছু কর্মীর

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও অর্থলোভের কারণে ছাত্রলীগে কালিমা লেপন হয়েছে। বিগত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যরাতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এমন হিংস্র অমানবিক কাজ থেকে করোনাকালে ছাত্রলীগ মূল ধারায়ফিরে এসে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে। বর্তমান ছাত্রলীগের কার্যক্রম যেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১৯ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ছাত্র সমাজের উদ্দেশে যে যা বলেছিলেন তা আজও প্রাসঙ্গিক যা এই করোনাকালে বাস্তবায়িতও হচ্ছে।

তিনি বলেছিলেন, বাবারা, একটু লেখাপড়া শিখ। যতই জিন্দাবাদ আর মুর্দাবাদ করো, ঠিকমতো লেখাপড়া না শিখলে লাভ নেই। আর লেখাপড়া শিখে যে সময়টুকু থাকে বাপ-মাকে সাহায্য করো। প্যান্ট পরা শিখছো বলে বাবার সঙ্গে হাল ধরতে লজ্জা করো না। কোদাল মারতে লজ্জা করো না। দুনিয়ার দিকে চেয়ে দেখো। কানাডায় দেখলাম ছাত্ররা ছুটির সময় লিফট চালায়। ছুটির সময় দুএক পয়সা উপার্জন করতে চায়। আর আমাদের ছেলেরা বড় আরামে খান, আর তাস নিয়ে ফটাফট খেলতে বসে পড়েন। গ্রামে গ্রামে বাড়ির পাশে বেগুন গাছ লাগিও, কয়টা লাউ গাছ কয়টা নারিকেলের চারা লাগিও। বাপ মারে একটু সাহায্য করো।

কয়টা মুরগি পালো, কয়টা হাঁস পালো। জাতীয় সম্পদ বাড়বে। তোমার খরচ তুমি বহন করতে পারবে। কাজ করো, কঠোর পরিশ্রম করো, না হলে বাঁচতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে তিনি ছাত্র সমাজকে লেখাপড়ায় জোর দিতে বলেছেন। বাপ মাকে কাজে সহায়তা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। করোনাকালে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষি কাজের বিকল্প নেই। ১৯৭৩ সালের ৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে বেটে খাওয়ালেও বাংলা সোনার বাংলা হবে না, যদি বাংলাদেশের ছেলে আপনারা সোনার বাংলার সোনার মানুষ পয়দা করতে না পারেন।থ বাংলাদেশ

ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সোনার মানুষ হওয়ার জন্যই আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি পালন করছে দীর্ঘদিন ধরে।

তারই ধারাবাহিকতায় বলা যায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা লজ্জা ভুলে কাস্তে হাতে করোনায় যারা অসহায় হয়ে পড়েছেন তাদের ধান কেটে দিচ্ছেন দেশব্যাপী যা বিভিন্ন মহলে প্রসংশিত হচ্ছে। দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরাই এ সহায়তার কাজে মনোনিবেশ করছেন বেশি। উপজেলা থেকে নির্ধারিত ত্রাণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ইউনিয়নে বিতরণ করছে ও অনেকেই নিজের জমানো টাকা দান করছেন। করোনায় মৃতদের জানাযা ও দাফন করতে যখন আত্মীয় স্বজন ভয়ে দূরে সরে গেছে তখন ছাত্রলীগ করোনায় মৃতদের দাফন সম্পন্ন করতে টিম গঠন করছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে সকলের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, নৈতিক, মানবিক ছাত্রলীগ হয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : মাহমুদুল হাসান কবীর
সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি।

আপনার মতামত লিখুন :