ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের কলেজে ছাত্রীদের নগ্ন করার প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মস্থান গুজরাট রাজ্যের ভুজ শহরে মেয়েদের একটি কলেজে শিক্ষার্থীদের নগ্ন করার প্রতিবাদ হয়েছে। ওই কলেজের বাগানে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড পড়ে থাকায় তাদের বিবস্ত্র করা হয় বলে অভিযোগ। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলে ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শাহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এক এক করে ৬৮ জন শিক্ষার্থীকে নগ্ন হতে বলেন। ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের যে অবমাননা সহ্য করতে হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

কলেজের নিয়ম অনুযায়ী, ঋতুস্রাব হলে মেয়েরা হোস্টেলে থাকতে পারে না। সেই সময় তাদের বেসমেন্টে (ভবনের নিচে) থাকতে হয়। তাদের রান্নাঘর ও মন্দিরে যাওয়ারও অনুমতি নেই। এছাড়া ক্লাস চলাকালীন একেবারে পেছনের সারিতে বসতে হয়। এমনকী অন্য ছাত্র ছাত্রীদের স্পর্শও করতে দেওয়া হয় না। খেতে হয় আলাদা।

গত সোমবার হোস্টেলটির কর্মকর্তা কলেজের অধ্যক্ষর কাছে অভিযোগ করেন, বেশ কিছু মেয়ে ঋতুস্রাবের সময় ধর্মীয় নীতি লঙ্ঘন করছে। এরপরই ছাত্রীদেরকে ক্লাস থেকে টেনে বের করে বাথরুমে নিয়ে তাদের ঋতুস্রাব চলছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। ছাত্রীদের পরিধেয় পায়জামা ও অন্তর্বাস খুলিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখেন নারী শিক্ষকরা।

হেনস্তার শিকার কলেজটির এক ছাত্রী বিবিসিকে জানান, ঋতুস্রাব চলছে এমন মেয়েদের চিহ্নিত করতে একটি নিবন্ধন খাতা রেখেছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। যাদের মাসিক চলছে,তাদের ওই খাতায় নাম লিখতে হয়। এক ছাত্রীর বাবা বলেন, তিনি হোস্টেলে গেলে তার মেয়েসহ কয়েকজন ছাত্রী তার কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে কষ্টে থাকার কথা জানায়।

স্বামী নারায়ণ নামে একটি রক্ষণশীল কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কলেজটি পরিচালনা করে। লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তাদের অভিজাত মন্দির রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি দেয়া হতে পারে বলেও আভাস মিলেছে তাদের কাছ থেকে।

কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রভীন পিন্ডোরিয়া বলেছেন, ‘ভর্তির সময় ছাত্রীদের কলেজের নিয়মকানুন জানানো হয়েছিল। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনিক কমিটির মিটিং ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পরদিন কিছু ছাত্রী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও করে কলেজ কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ভারতের কলেজে ছাত্রীদের নগ্ন করার প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মস্থান গুজরাট রাজ্যের ভুজ শহরে মেয়েদের একটি কলেজে শিক্ষার্থীদের নগ্ন করার প্রতিবাদ হয়েছে। ওই কলেজের বাগানে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড পড়ে থাকায় তাদের বিবস্ত্র করা হয় বলে অভিযোগ। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলে ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শাহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এক এক করে ৬৮ জন শিক্ষার্থীকে নগ্ন হতে বলেন। ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের যে অবমাননা সহ্য করতে হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

কলেজের নিয়ম অনুযায়ী, ঋতুস্রাব হলে মেয়েরা হোস্টেলে থাকতে পারে না। সেই সময় তাদের বেসমেন্টে (ভবনের নিচে) থাকতে হয়। তাদের রান্নাঘর ও মন্দিরে যাওয়ারও অনুমতি নেই। এছাড়া ক্লাস চলাকালীন একেবারে পেছনের সারিতে বসতে হয়। এমনকী অন্য ছাত্র ছাত্রীদের স্পর্শও করতে দেওয়া হয় না। খেতে হয় আলাদা।

গত সোমবার হোস্টেলটির কর্মকর্তা কলেজের অধ্যক্ষর কাছে অভিযোগ করেন, বেশ কিছু মেয়ে ঋতুস্রাবের সময় ধর্মীয় নীতি লঙ্ঘন করছে। এরপরই ছাত্রীদেরকে ক্লাস থেকে টেনে বের করে বাথরুমে নিয়ে তাদের ঋতুস্রাব চলছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। ছাত্রীদের পরিধেয় পায়জামা ও অন্তর্বাস খুলিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখেন নারী শিক্ষকরা।

হেনস্তার শিকার কলেজটির এক ছাত্রী বিবিসিকে জানান, ঋতুস্রাব চলছে এমন মেয়েদের চিহ্নিত করতে একটি নিবন্ধন খাতা রেখেছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। যাদের মাসিক চলছে,তাদের ওই খাতায় নাম লিখতে হয়। এক ছাত্রীর বাবা বলেন, তিনি হোস্টেলে গেলে তার মেয়েসহ কয়েকজন ছাত্রী তার কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে কষ্টে থাকার কথা জানায়।

স্বামী নারায়ণ নামে একটি রক্ষণশীল কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কলেজটি পরিচালনা করে। লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে তাদের অভিজাত মন্দির রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি দেয়া হতে পারে বলেও আভাস মিলেছে তাদের কাছ থেকে।

কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য প্রভীন পিন্ডোরিয়া বলেছেন, ‘ভর্তির সময় ছাত্রীদের কলেজের নিয়মকানুন জানানো হয়েছিল। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনিক কমিটির মিটিং ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার পরদিন কিছু ছাত্রী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও করে কলেজ কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি করে।