ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ মে ২০২৪, ২১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শাবিপ্রবিতে সুষ্ঠভাবে গুচ্ছভুক্ত ‘খ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন Logo গুচ্ছ খ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষা উপকরণ ও সুপেয় পানি দিয়ে শাবি ছাত্রলীগের সহযোগিতা Logo মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি হবে সত্যিকারের গ্রীন ক্যাম্পাসঃ ভিসি মোহাম্মদ জহিরুল হক Logo প্রতারণাচক্র থেকে সাবধান থাকতে আহবান জানিয়েছেন শাবি উপাচার্য Logo শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী কাজে সর্বদা সাপোর্ট থাকবে; শাবি উপাচার্য Logo জবি শিক্ষককে হেনস্থা, গুরু পাপে লঘু দণ্ড Logo কুবিতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকারঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী  Logo মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নতুন বাসের উদ্বোধন Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য: ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক




শেখ হাসিনার নামে জমি লিখে দিয়ে ২১ বছর খাজনা দিচ্ছেন তিনি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৯ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক; 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নিজের ৭ শতক জমি লিখে দিয়ে ২১ বছর ধরে ওই জমির রাজস্ব (খাজনা) দিচ্ছেন কবির আহমদ নামে এক বৃদ্ধ। দলের স্থায়ী একটি কার্যালয় করার জন্য তিনি এ জমিটি লিখে দিয়েছেন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে কবির আহমদ (৬৫)। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জে পরিচিত। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

জানা গেছে, প্রতিটি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কবির ও তার পরিবার। নিজ দল আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ১৯৯৮ সালে দলীয় কার্যালয়ের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নিজের ৭ শতক জমি লিখে দেন কবির আহমদ। গত ২১ বছর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের বুধবারীবাজারে অবস্থিত ওই জমিটির ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ পরিশোধ করে আসছেন তিনি। সেই জমিতে আজও নির্মাণ হয়নি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়।

দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জমিটুকুর দেখভাল কবির আহমদ নিজেই করে আসছেন। ২০০৫ সালে গঠিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয় কবির আহমদকে। কবির আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগ সমর্থন করার কারণে বিএনপি জোট সরকারের আমলে হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে জড়ানো হয় একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়। মামলা হামলার শিকার বৃদ্ধ কবির এখন নিঃস্ব প্রায়। বর্তমানে দলের সুসময়ে কোথাও নেই তিনি।

সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এই কমিটিতে স্থান হয়নি নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী কবির আহমদের।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবির আহমদের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ আহমদ বলেন, ‘আমি জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমার বাবা আওয়ামী লীগ করার জন্য অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের বড় করে তুলেছেন। দলের দুঃসময়ে বাবা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। আজ সুসময়ে দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার বাবার স্থান হয়নি। আসলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। যাদের কখনো আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেখা যায়নি, তারা কমিটিতে ভালো ভালো অবস্থানে রয়েছে। আসলে সুসময়ে ত্যাগীদের সবাই ভুলে যায়।’

বৃদ্ধ কবির আহমদ বলেন, ‘আমি কখনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে এতটা বছর আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছি। বাকিটা জীবনও কাটিয়ে দিতে পারব। নিজের অর্থাভাবের কারণে বুধবারী বাজারের প্রধানমন্ত্রীর নামের জমিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করতে পারিনি। নেত্রীর প্রতি অনুরোধ, আপনার আমানত আমি এত বছর ধরে দেখাশোনা করে আসছি। বেঁচে থাকতে ওই জমির ওপর দলীয় কার্যালয় দেখে যেতে চাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




শেখ হাসিনার নামে জমি লিখে দিয়ে ২১ বছর খাজনা দিচ্ছেন তিনি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক; 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নিজের ৭ শতক জমি লিখে দিয়ে ২১ বছর ধরে ওই জমির রাজস্ব (খাজনা) দিচ্ছেন কবির আহমদ নামে এক বৃদ্ধ। দলের স্থায়ী একটি কার্যালয় করার জন্য তিনি এ জমিটি লিখে দিয়েছেন।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন মেঘারগাঁও গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে কবির আহমদ (৬৫)। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জে পরিচিত। ১৯৭০ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

জানা গেছে, প্রতিটি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কবির ও তার পরিবার। নিজ দল আওয়ামী লীগের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ১৯৯৮ সালে দলীয় কার্যালয়ের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নিজের ৭ শতক জমি লিখে দেন কবির আহমদ। গত ২১ বছর পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের বুধবারীবাজারে অবস্থিত ওই জমিটির ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ পরিশোধ করে আসছেন তিনি। সেই জমিতে আজও নির্মাণ হয়নি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়।

দীর্ঘ ২১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জমিটুকুর দেখভাল কবির আহমদ নিজেই করে আসছেন। ২০০৫ সালে গঠিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয় কবির আহমদকে। কবির আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগ সমর্থন করার কারণে বিএনপি জোট সরকারের আমলে হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাকে জড়ানো হয় একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়। মামলা হামলার শিকার বৃদ্ধ কবির এখন নিঃস্ব প্রায়। বর্তমানে দলের সুসময়ে কোথাও নেই তিনি।

সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এই কমিটিতে স্থান হয়নি নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী কবির আহমদের।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে কবির আহমদের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ আহমদ বলেন, ‘আমি জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমার বাবা আওয়ামী লীগ করার জন্য অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমাদের বড় করে তুলেছেন। দলের দুঃসময়ে বাবা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। আজ সুসময়ে দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার বাবার স্থান হয়নি। আসলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। যাদের কখনো আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেখা যায়নি, তারা কমিটিতে ভালো ভালো অবস্থানে রয়েছে। আসলে সুসময়ে ত্যাগীদের সবাই ভুলে যায়।’

বৃদ্ধ কবির আহমদ বলেন, ‘আমি কখনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে এতটা বছর আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছি। বাকিটা জীবনও কাটিয়ে দিতে পারব। নিজের অর্থাভাবের কারণে বুধবারী বাজারের প্রধানমন্ত্রীর নামের জমিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করতে পারিনি। নেত্রীর প্রতি অনুরোধ, আপনার আমানত আমি এত বছর ধরে দেখাশোনা করে আসছি। বেঁচে থাকতে ওই জমির ওপর দলীয় কার্যালয় দেখে যেতে চাই।’