ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকারঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী  Logo মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নতুন বাসের উদ্বোধন Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য: ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার!




আইয়ুব বাচ্চুকে ইউএস বাংলার অভিনব সম্মাননা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

দাফনের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর লাশ গতকাল রাত ৩টায় সড়ক পথে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল চিটাগাং। হুট করে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন জানালো, ‘আমরা এই লিজেন্ডের সম্মানে ট্রিবিউট দিতে চাই। আমরা উনাকে পৌঁছে দেই প্লীজ চিটাগাং?’ কিছুক্ষণ আগে উনার ডেড বডিসহ উনার পরিবার এবং বেশ কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীসহ তাদের একটি স্পেশাল ফ্লাইট চিটাগাং এয়ারপোর্টে অবতরণ করেছে।

কী চমৎকার একটা ট্রিবিউট! এয়ারপোর্টে স্বয়ং চিটাগাং এর মেয়রসহ হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ডেড বডি রিসিভ করতে। এক শব্দশিল্পীর সম্মানে পুরো চিটাগাং নিঃশব্দে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক গর্ব নিয়ে লেখাটা লিখছি। সবার ভাগ্য এরকম হয় না। আবার সবার ভাগ্যে এরকম ভাগ্যওয়ালা মানুষকে সামনাসামনি দেখার বা তার গল্প বলার ভাগ্যও হয় না। আমরা খুব ভাগ্যবান একটা জেনারেশান। এই বছর খুব বড় করে শীতার্তদের জন্য ‘কনসার্ট ফর কম্বল’ হওয়ার কথা ছিল।

উনাকে বলেছিলাম, “আপনি কি স্টেইজে জেমসের ২ টা গান গাইতে পারবেন?” উনি বললেন ‘তাতে কম্বল বেশি আসবে?’

“হ্যা আসবে। এখন যদি বলি কনসার্টের টিকেট ৩টা কম্বল, তাও হুড়মুড় করে মানুষ কম্বল নিয়ে আসবে এই কনসার্ট দেখার জন্য।”

‘ইন্টারেস্টিং’

“হ্যা বাচ্চু ভাই। ব্যাপারটা এরকম হবে। মাইলস গাইবে ওয়ারফেজের ২টা গান। ওয়ারফেজ গাইবে দলছুটের গান। দলছুট গাইবে ফিডবেকের গান। ফিডব্যাক গাইবে সোলসের গান। নোভা গাইবে ডিফারেন্ট টাচের গান। ডিফারেন্ট টাচ গাইবে রেনেসাঁর গান। এভাবে করব ভাবছি।”

‘এতো কম্বল রাখবি কৈ রে? আমার নিজেরই তো কম্বল হাতে করে নিয়ে এই কনসার্টে দেখতে আসতে ইচ্ছে করছে।’ আর আগানো হয়নি এই প্রজেক্ট নিয়ে। উনি এগিয়ে চলে গেছেন এক অন্য দেশে।

তবে চোখ বন্ধ করেই বলা যাচ্ছে আজ থেকে বাংলাদেশে যতগুলো কনসার্ট হবে, সেখানে সব ব্যান্ড তাদের গান শুরু করার আগে বাচ্চু ভাইয়ের যেকোনো একটা গান গেয়ে উনাকে ট্রিবিউট দিয়ে কনসার্ট শুরু করবে।

উনার প্রজেক্ট একদম যে হারিয়ে যাচ্ছে তা না। কম্বল হয়ত উঠবে না। কিন্তু উনি যে উষ্ণতা নিয়ে ওপারে ফিরেছেন, এটাই বা কয়জনের ভাগ্যে হয়?

আজ উনাকে নিয়ে লিখতেও খুব গর্ব হচ্ছে।

হোম পেজে ঘেঁটে দেখেন, আপনার কোন বন্ধুটির সঙ্গে উনার ছবি তোলা নেই বলেন তো? আমি তো কাল থেকে অবাক হয়ে দেখছি একজন মানুষ জীবনে এতো ছবি তুলে যেতে পারে?

সবার ভাগ্য এরকম হয় না। আবার সবার ভাগ্যে এরকম ভাগ্যওয়ালা মানুষকে সামনাসামনি দেখার বা তার গল্প বলার ভাগ্যও হয় না।

আমরা খুব ভাগ্যবান একটা জেনারেশান।

আরিফ আর হোসেনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




আইয়ুব বাচ্চুকে ইউএস বাংলার অভিনব সম্মাননা

আপডেট সময় : ০৬:১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮

দাফনের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর লাশ গতকাল রাত ৩টায় সড়ক পথে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল চিটাগাং। হুট করে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন জানালো, ‘আমরা এই লিজেন্ডের সম্মানে ট্রিবিউট দিতে চাই। আমরা উনাকে পৌঁছে দেই প্লীজ চিটাগাং?’ কিছুক্ষণ আগে উনার ডেড বডিসহ উনার পরিবার এবং বেশ কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীসহ তাদের একটি স্পেশাল ফ্লাইট চিটাগাং এয়ারপোর্টে অবতরণ করেছে।

কী চমৎকার একটা ট্রিবিউট! এয়ারপোর্টে স্বয়ং চিটাগাং এর মেয়রসহ হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ডেড বডি রিসিভ করতে। এক শব্দশিল্পীর সম্মানে পুরো চিটাগাং নিঃশব্দে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক গর্ব নিয়ে লেখাটা লিখছি। সবার ভাগ্য এরকম হয় না। আবার সবার ভাগ্যে এরকম ভাগ্যওয়ালা মানুষকে সামনাসামনি দেখার বা তার গল্প বলার ভাগ্যও হয় না। আমরা খুব ভাগ্যবান একটা জেনারেশান। এই বছর খুব বড় করে শীতার্তদের জন্য ‘কনসার্ট ফর কম্বল’ হওয়ার কথা ছিল।

উনাকে বলেছিলাম, “আপনি কি স্টেইজে জেমসের ২ টা গান গাইতে পারবেন?” উনি বললেন ‘তাতে কম্বল বেশি আসবে?’

“হ্যা আসবে। এখন যদি বলি কনসার্টের টিকেট ৩টা কম্বল, তাও হুড়মুড় করে মানুষ কম্বল নিয়ে আসবে এই কনসার্ট দেখার জন্য।”

‘ইন্টারেস্টিং’

“হ্যা বাচ্চু ভাই। ব্যাপারটা এরকম হবে। মাইলস গাইবে ওয়ারফেজের ২টা গান। ওয়ারফেজ গাইবে দলছুটের গান। দলছুট গাইবে ফিডবেকের গান। ফিডব্যাক গাইবে সোলসের গান। নোভা গাইবে ডিফারেন্ট টাচের গান। ডিফারেন্ট টাচ গাইবে রেনেসাঁর গান। এভাবে করব ভাবছি।”

‘এতো কম্বল রাখবি কৈ রে? আমার নিজেরই তো কম্বল হাতে করে নিয়ে এই কনসার্টে দেখতে আসতে ইচ্ছে করছে।’ আর আগানো হয়নি এই প্রজেক্ট নিয়ে। উনি এগিয়ে চলে গেছেন এক অন্য দেশে।

তবে চোখ বন্ধ করেই বলা যাচ্ছে আজ থেকে বাংলাদেশে যতগুলো কনসার্ট হবে, সেখানে সব ব্যান্ড তাদের গান শুরু করার আগে বাচ্চু ভাইয়ের যেকোনো একটা গান গেয়ে উনাকে ট্রিবিউট দিয়ে কনসার্ট শুরু করবে।

উনার প্রজেক্ট একদম যে হারিয়ে যাচ্ছে তা না। কম্বল হয়ত উঠবে না। কিন্তু উনি যে উষ্ণতা নিয়ে ওপারে ফিরেছেন, এটাই বা কয়জনের ভাগ্যে হয়?

আজ উনাকে নিয়ে লিখতেও খুব গর্ব হচ্ছে।

হোম পেজে ঘেঁটে দেখেন, আপনার কোন বন্ধুটির সঙ্গে উনার ছবি তোলা নেই বলেন তো? আমি তো কাল থেকে অবাক হয়ে দেখছি একজন মানুষ জীবনে এতো ছবি তুলে যেতে পারে?

সবার ভাগ্য এরকম হয় না। আবার সবার ভাগ্যে এরকম ভাগ্যওয়ালা মানুষকে সামনাসামনি দেখার বা তার গল্প বলার ভাগ্যও হয় না।

আমরা খুব ভাগ্যবান একটা জেনারেশান।

আরিফ আর হোসেনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।