ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মির্জাগঞ্জ এলজিইডি প্রকৌশলী আশিকুরের ঘুস-দুর্নীতি! Logo দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি ; বিপাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা Logo পরিবেশের জন্য ই-বর্জ্য হুমকি স্বরূপ ; তা উত্তরণের উপায় Logo বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ Logo ঐতিহ্যবাহী সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির কমিটি গঠন Logo চেয়ারম্যানের আহ্লাদে বেপরোয়া বিআইডব্লিউটিএ‘র কর্মচারি পান্না বিশ্বাস! Logo রাজউকে বদলী ও পদায়নে ভয়ংকর দুর্নীতি ফাঁস: নেপথ্য নায়ক প্রধান প্রকৌশলী  Logo কুবির শেখ হাসিনা হলের গ্যাস লিক, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা Logo ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাত-পা ভেঙে দিলেন সহকর্মীরা Logo ঐতিহ্যবাহী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে অফিসার্স কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত 




সাভারের কাউন্দিয়া ইউপি সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধি, সাভার
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩ ৩২ বার পড়া হয়েছে

কাউন্দিয়া ইউনিয়নে জরিপ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ। ঘুষ বানিজ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এর উপর চলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়।

 

জরিপের সময় জমি ও বাড়ী সঠিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিতে মালিককে দলিল-দস্তাবেজসহ উপস্থিত হতে হয় মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের কাছে। সেখানেই কাজ করতে এলেই চলে ঘুষের মহোৎসব।

 

ভুক্তভোগী এক জমির মালিক বলেন, এখানে টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আসলে ‘চিলে যখন ঝাপটা দিবো কিছু না কিছু নিয়ে যাইবো’।

 

আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, যে দেশে ভূমি জরিপ আসে সেই দেশে মানুষ গরিব হয়ে যায়। যাদের টাকা আছে তাদের ঘরে গিয়ে রেকর্ড করে। যাদের টাকা নাই তাদেরকে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।

 

স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যাবে এমন ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হচ্ছে সেখানে। কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ইসাকাবাদ মৌজায় দরিদ্র এক বিধবার জমি রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বৃদ্ধ কৃষককে জমির পর্চা পেতে গুনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি পর্চা ও জমির মালিকদের থেকেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২ থেকে এক লক্ষ টাকা।

 

একজন জমির মালিক বলেন, অনেক জোরাজোরি করেছি দেয় না, তাই কি করবো! ওরা বলে সরকারী জমি সরকার লয়ে যাইবো গা। ‘ আমাদের ভয় দেহাইছে তাই ভয়ে ট্যাহা দিয়ে পচ্চা নিচি’

 

জানতে চাওয়া হয় সার্ভেয়ার শাহজাহানের কাছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষে কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায় করি না। নামে মাত্র কিছু টাকা আদায় করেন তারা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ৫৩ জন সাংবাদিকে ১০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকি। জানতে চাওয়া হয়, কেন সাংবাদিকে টাকা দিতে হয়? তিনি কিছু না বলে তড়িঘড়ি করে চলে যান। তাহলে ঘুষ বাণিজ্যে সত্য? এবং নিউজ না করার জন্য একাধিক সাংবাদিক দিয়ে অনুরোধ করান।

 

জানতে চাওয়া হয়, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার সুশান্ত কুমার রায়, জরিপ করতে কোন টাকা লাগে না।শাহাজাহান মুন্সি যদি টাকা নিয়ে থাকে তা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং ভূমি মালিকদের কাছ থেকে টাকা চাইলে লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি জরিপ কাজে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল সার্ভে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




সাভারের কাউন্দিয়া ইউপি সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩

কাউন্দিয়া ইউনিয়নে জরিপ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ। ঘুষ বানিজ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এর উপর চলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়।

 

জরিপের সময় জমি ও বাড়ী সঠিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিতে মালিককে দলিল-দস্তাবেজসহ উপস্থিত হতে হয় মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের কাছে। সেখানেই কাজ করতে এলেই চলে ঘুষের মহোৎসব।

 

ভুক্তভোগী এক জমির মালিক বলেন, এখানে টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আসলে ‘চিলে যখন ঝাপটা দিবো কিছু না কিছু নিয়ে যাইবো’।

 

আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, যে দেশে ভূমি জরিপ আসে সেই দেশে মানুষ গরিব হয়ে যায়। যাদের টাকা আছে তাদের ঘরে গিয়ে রেকর্ড করে। যাদের টাকা নাই তাদেরকে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।

 

স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যাবে এমন ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হচ্ছে সেখানে। কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ইসাকাবাদ মৌজায় দরিদ্র এক বিধবার জমি রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বৃদ্ধ কৃষককে জমির পর্চা পেতে গুনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি পর্চা ও জমির মালিকদের থেকেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২ থেকে এক লক্ষ টাকা।

 

একজন জমির মালিক বলেন, অনেক জোরাজোরি করেছি দেয় না, তাই কি করবো! ওরা বলে সরকারী জমি সরকার লয়ে যাইবো গা। ‘ আমাদের ভয় দেহাইছে তাই ভয়ে ট্যাহা দিয়ে পচ্চা নিচি’

 

জানতে চাওয়া হয় সার্ভেয়ার শাহজাহানের কাছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষে কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায় করি না। নামে মাত্র কিছু টাকা আদায় করেন তারা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ৫৩ জন সাংবাদিকে ১০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকি। জানতে চাওয়া হয়, কেন সাংবাদিকে টাকা দিতে হয়? তিনি কিছু না বলে তড়িঘড়ি করে চলে যান। তাহলে ঘুষ বাণিজ্যে সত্য? এবং নিউজ না করার জন্য একাধিক সাংবাদিক দিয়ে অনুরোধ করান।

 

জানতে চাওয়া হয়, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার সুশান্ত কুমার রায়, জরিপ করতে কোন টাকা লাগে না।শাহাজাহান মুন্সি যদি টাকা নিয়ে থাকে তা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং ভূমি মালিকদের কাছ থেকে টাকা চাইলে লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি জরিপ কাজে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল সার্ভে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।