ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




সময় ফুড়িয়ে গেলেও প্রত্যাশিত নতুন বই পৌঁছায়নি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে

প্রতিনিধি, টাঙাইল
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

একদিন পরই শুরু হবে ২০২৩ সাল। কিন্তু নতুন বছরের ১ জানুয়ারি বই উৎসবের প্রত্যাশিত নতুন বই পৌঁছায়নি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। এতে বই উৎসবে ভাটা পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। শিশু ও সপ্তম শ্রেণির বই না আসায় বই উৎসবে শ্রেণি দুটির শিক্ষার্থীরাও নতুন বই না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, নিম্নমানের ছাপা এবং যথাসময়ে বই না পাওয়ায় শিক্ষর্থীদের মধ্যে প্রভাব পড়বে। এছাড়া বইয়ের কাগজ ও বাধাইয়ের মানও ভালো হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস বলছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই না আসলেও প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ বই পেয়েছেন। বই উৎসবে কোনো শিক্ষার্থী খালি হাতে বাড়ি যাবে না বলে শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০ জন প্রাক প্রাথমিক, ১১ হাজার ১৯ জন প্রথম শ্রেণি, ১০ হাজার ৩২৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৯৩০ জন তৃতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৫৮৫ জন চতুর্থ শ্রেণি ও ৯ হাজার ৭০০ জন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম শ্রেণির তিন বিষয়ের মধ্যে এক বিষয়, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ বিষয়ের মধ্যে ২ বিষয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ বিষয়ের মধ্যে ৩ বিষয়ের বই পৌঁছেছে।

এ উপজেলায় ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫৬টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে। এতে মোট শিক্ষার্থী ৬০ হাজার ৬১ জন। নতুন বইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮। এর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৮টি বই পৌঁছেছে। যা শতকরা হিসাবে সাড়ে ৪৫ শতাংশ।

এদিকে মাধ্যমিকের ৪০ শতাংশ বই পৌঁছেছে। উপজেলায় ৫২টি মাধ্যমিক ও ১৪টি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯২টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ২ লাখ ১২ হাজার ৩৪৫টি বই পৌঁছেছে।

মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাদিকা আফরিন জানায়, সপ্তম শ্রেণির বই এখনো আসেনি বলে শিক্ষকরা তাদের জানিয়েছেন। উৎসবের দিন সবাই নতুন বই পাবে আর আমরা পাবো না, বিষয়টি কেমন হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন বই উৎসব শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বই নেয়। কিন্তু এই প্রথম বই উৎসবে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে না। আর যেসব বই পাবে সেসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার গুণগত মান তেমন ভালো না। শিশুরা বই বেশি ব্যবহার করে থাকে। কিছুদিন গেলেই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত বই না পাওয়ায় বন্টনে কিছুটা সমস্যা হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, উৎসবের দিনে শিশু শ্রেণি বাদে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি বই হলেও পাবে। উৎসবের আগেই প্রত্যাশীত বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হায়দার জানান, চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ বই পৌঁছেছে। সপ্তম শ্রেণির কোনো বই পৌঁছায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি বই পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




সময় ফুড়িয়ে গেলেও প্রত্যাশিত নতুন বই পৌঁছায়নি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে

আপডেট সময় : ১০:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২

একদিন পরই শুরু হবে ২০২৩ সাল। কিন্তু নতুন বছরের ১ জানুয়ারি বই উৎসবের প্রত্যাশিত নতুন বই পৌঁছায়নি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। এতে বই উৎসবে ভাটা পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। শিশু ও সপ্তম শ্রেণির বই না আসায় বই উৎসবে শ্রেণি দুটির শিক্ষার্থীরাও নতুন বই না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, নিম্নমানের ছাপা এবং যথাসময়ে বই না পাওয়ায় শিক্ষর্থীদের মধ্যে প্রভাব পড়বে। এছাড়া বইয়ের কাগজ ও বাধাইয়ের মানও ভালো হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস বলছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই না আসলেও প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ বই পেয়েছেন। বই উৎসবে কোনো শিক্ষার্থী খালি হাতে বাড়ি যাবে না বলে শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, উপজেলায় ৯ হাজার ৫০০ জন প্রাক প্রাথমিক, ১১ হাজার ১৯ জন প্রথম শ্রেণি, ১০ হাজার ৩২৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৯৩০ জন তৃতীয় শ্রেণি, ৯ হাজার ৫৮৫ জন চতুর্থ শ্রেণি ও ৯ হাজার ৭০০ জন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম শ্রেণির তিন বিষয়ের মধ্যে এক বিষয়, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ বিষয়ের মধ্যে ২ বিষয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬ বিষয়ের মধ্যে ৩ বিষয়ের বই পৌঁছেছে।

এ উপজেলায় ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫৬টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে। এতে মোট শিক্ষার্থী ৬০ হাজার ৬১ জন। নতুন বইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮। এর মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৮টি বই পৌঁছেছে। যা শতকরা হিসাবে সাড়ে ৪৫ শতাংশ।

এদিকে মাধ্যমিকের ৪০ শতাংশ বই পৌঁছেছে। উপজেলায় ৫২টি মাধ্যমিক ও ১৪টি মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯২টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ২ লাখ ১২ হাজার ৩৪৫টি বই পৌঁছেছে।

মির্জাপুর সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাদিকা আফরিন জানায়, সপ্তম শ্রেণির বই এখনো আসেনি বলে শিক্ষকরা তাদের জানিয়েছেন। উৎসবের দিন সবাই নতুন বই পাবে আর আমরা পাবো না, বিষয়টি কেমন হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন বই উৎসব শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বই নেয়। কিন্তু এই প্রথম বই উৎসবে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে না। আর যেসব বই পাবে সেসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার গুণগত মান তেমন ভালো না। শিশুরা বই বেশি ব্যবহার করে থাকে। কিছুদিন গেলেই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত বই না পাওয়ায় বন্টনে কিছুটা সমস্যা হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, উৎসবের দিনে শিশু শ্রেণি বাদে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি বই হলেও পাবে। উৎসবের আগেই প্রত্যাশীত বই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হায়দার জানান, চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ বই পৌঁছেছে। সপ্তম শ্রেণির কোনো বই পৌঁছায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি বই পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।